কলকাতা : মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই উদ্বোধন হবে গার্ডেনরিচ উড়ালপুলের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বৃহস্পতিবার উড়ালপুলটি পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
নগরোন্নয়নমন্ত্রী সেখানে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ১৫ দিনের মধ্যেই হয়ে যাবে। বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে ১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। উড়ালপুলের বাঁক গুলিতে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণের দিকে নজরদারি চালাবেন তাঁরা। রাতে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেকারণে বাড়তি আলো দেওয়া হবে।
চার লেনের উড়ালপুল তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। মার্চ মাসেই সেটি উদ্বোধন হওয়ার কথা। গার্ডেনরিচের ব্রুকলিন মোড় থেকে উড়ালপুলটি এসে নামবে মাঝেরহাটের সেতুর কাছে। পাশাপাশি, মেট্রো রেলের স্টেশনও তৈরি হচ্ছে মাঝেরহাটে। ফলে উড়ালপুল পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে মেট্রোর পাশাপাশি অন্য গণ পরিবহণেরও সুবিধা পাবেন নিত্যযাত্রীরা।
কেএমডিএ-র তৈরি এই উড়ালপুলের উদ্বোধন হলে মাঝেরহাট ও রিমাউন্ড রোডের সঙ্গে সংযোগ হবে গার্ডেনরিচ। সাড়ে ৪ কিমি দীর্ঘ উড়ালপুল চালু হলে বন্দর এলাকায় যানজট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, উড়ালপুল পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে যাতায়াতের পাশাপাশি বন্দর এলাকার কাজকর্মে গতি আসবে। মাল খালাস করা যাবে দ্রুত। গাড়ি চলাচলের গতিও বাড়বে।
২০১৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খিদিরপুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখেছিলেন, সার্কুলার গার্ডেনরিচ রোডে তীব্র যানজট। ওই রাস্তাটি খিদিরপুর যাওয়ার প্রধান মাধ্যম। সে সময়েই এলাকার বিধায়ক তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম একটি উড়ালপুল তৈরির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানান। সম্মতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পর কেএমডিএ কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ সংস্থা ‘রাইট্স’-কে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির দায়িত্ব দেয়। তার পরেই কাজ শুরু হয়। কেএমডিএ-র এক পদস্থ কর্তা জানান, উড়ালপুল তৈরির জন্য রাজ্য সরকার মঞ্জুর করেছে ৩৩৯ কোটি টাকা। জমি দিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। চার কিলোমিটার লম্বা এই উড়ালপুল তৈরির জন্য সময়সীমা ধরা হয়েছিল ৩০ মাস। কিন্তু ভূগর্ভস্থ জলের লাইন, বিদ্যুতের লাইন এবং নিকাশি নালা সরিয়ে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন