আগরতলা : 'পিতা-মাতার চরণে স্বর্গ' কথাটি গ্রন্থেই লিপিবদ্ধ। এ যুগে এই মন্ত্রের বাস্তব প্রয়োগ প্রায় নেই। বাল্যকালে যে মায়ের আঁচলে নিরাপদ ছিল, সে-ই বড় হয়ে তার মাকে সবচেয়ে বড় বোঝা মনে করে। যদিও তা সব সন্তানের কাছে প্রযোজ্য নয়।
তবে এমনই এক ঘটনা বার্ধক্যকালীন সমস্যা আর তাঁদের সন্তানদের নির্মম আচরণের বিষয়গুলোকে প্রকট করে দিল। ৯২ বছর বয়সি এক বৃদ্ধার সঙ্গে যা ঘটল তা সকলকে হতবাক করে দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, আগরতলা-শিলচরগামী রেলে চড়ে এক মেয়ে আর তার বৃদ্ধা মা। শিলচরগামী রেলটি তেলিয়ামুড়া স্টেশনে আসতেই বৃদ্ধার সঙ্গী বিবাহিত মেয়ে পালিয়ে যায় মাকে ফেলে দিয়ে। রেলের কামরায় অন্য যাত্রীরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও ওই মেয়েকে পাননি। রেলটি আমবাসা স্টেশনে আসার পর দুই যুবক বৃদ্ধা মহিলাকে নামিয়ে স্টেশনে এক দোকানের মালিকের কাছে রেখে চলে যান। যাওয়ার সময় ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে যায় রেল সুরক্ষা পুলিশকে। তার পর দোকানের মালিক মহিলাকে কিছু খেতে দেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আরপিএফকে বৃদ্ধা জানান, তিনি মোহরছড়া মেয়ের বাড়িতে থাকেন। অভিযোগ, মেয়ে এবং মেয়ের স্বামী নির্যাতন চালায় প্রতিনিয়ত। মারধর করে, কোথায় নিয়ে যাবে বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। কিন্তু রেল থেকে মেয়ে কোথায় যেন চলে গেছে। সেই বৃদ্ধার অশ্রু দেখে সকলেই বিস্মিত।
দুদিন পেরিয়ে গেলেও বৃদ্ধার পরিবার-পরিজনের কোনও হদিশ নেই। সরকারি উদ্যোগে এখন বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সুরেশ দেবনাথ বলেন, মা তাঁর সন্তানের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেন, আর সেই মাকে বৃদ্ধ বয়সে যদি সন্তান রাস্তায় ফেলে চলে যায় তা হলে কি ভরসায় নিঃস্বার্থভাবে সন্তানের লালন পালন করবেন তাঁরা! এই মেয়ে এবং তার স্বামীর দৃস্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তিনি। মা, যে নাকি সন্তানের জন্য সব করতে প্রস্তুত। জীবনের সব বাধাবিপত্তি, সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নিজের সন্তানকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করে। জীবনে যতই বিপত্তি আসুক না-কেন সন্তানকে সব সময় নিজের মমতা দিয়ে আগলে রাখে। নিজে না-খেয়ে যে মা খাবার তুলে দেয় সন্তানের মুখে, সেই মার এই দুরবস্থা দেখে অনেকেই বিস্মিত আবার অনেকে আতঙ্কিত তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন