ডি.লিট দিলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় না, মামলা খারিজ করে জানাল কলকাতা হাইকোর্ট - Aaj Bikel
ডি.লিট দিলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় না, মামলা খারিজ করে জানাল কলকাতা হাইকোর্ট

ডি.লিট দিলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় না, মামলা খারিজ করে জানাল কলকাতা হাইকোর্ট

Share This


কলকাতা : ডি.লিট দিলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় না | বৃহস্পতিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডি.লিট দেওয়ার সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে একথা বলে কলকাতা হাইকোর্টে ডিভিশন বেঞ্চ | সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে ডি.লিট দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা জনস্বার্থ মামলাটিও এদিন খারিজ করে দিল হাইকোর্টের অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ ।

গত ২৫ অক্টোবর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তরফে জানানো হয়, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাম্মানিক ডি.লিট সম্মানে ভূষিত করবে বিশ্ববিদ্যালয় ৷ সমাজসেবা ও সাহিত্যে অবদানের জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই সম্মানে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটও সেনেট বৈঠকে ৷ সেদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য । সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন কলেজ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান দীপক কর । উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে’ ।

ইতিমধ্যে, ১১ জানুয়ারি নজরুল মঞ্চে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডি.লিট প্রদান করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । কিন্তু তার আগেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক রঞ্জুগোপাল মুখার্জি । তাঁর অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত হঠকারী এবং অযৌক্তিক । মামলাটি গ্রহণ করে কলকাতা হাইকোর্ট । ১০ জানুয়ারি একপ্রস্থ শুনানি হয় । রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনেরেল কিশোর দত্ত আদালতকে জানান, এটা কোন জনস্বার্থের জন্য মামলা নয়, এটা একটি ব্যক্তিস্বার্থ । সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পক্ষে আইনজীবী শক্তিনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘মামলাকারীর এই অভিযোগ সঠিক নয় । কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই অভিযোগ আগে কোনওদিন হয়নি । শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর হয় না এই উপাধি । ভুটানের রাজা, প্রিন্স অফ ওয়েলস এবং নেলশন ম্যান্ডেলাকেও এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল’।

এরপর বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যাডভোকেট জেনেরেল কিশোর দত্তকে প্রশ্ন করেন, আপনারা মনে করেন এই সিদ্বান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে ? আপনারা কীভাবে ডি.লিট কাকে দেওয়া হবে নির্বাচন করেন ? মামলাকারী রঞ্জুগোপাল মুখার্জির আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন,’সংবিধানে থাকা কোনও ব্যক্তিকে এই উপাধি দেওয়া যেতে পারে না । মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের মতো মানুষ এই উপাধি পেয়েছেন ।

 সেই আসনে মুখ্যমন্ত্রীকে বসানো, এটা জনস্বার্থে আঘাত’। কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের পক্ষে আইনজীবী শক্তিনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর কন্যাশ্রী প্রকল্প সাড়া ফেলেছে বিশ্ব জুড়ে । সেনেটের ৫৯ জন সদস্য তাই ওনাকে ডি.লিট উপাধি দেওয়ার সিদ্বান্তে কোনও ভুল করেনি’ । অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যর প্রশ্ন ছিল, কোন প্যারামিটারে এই ডি.লিট উপাধি দেওয়া হয় । মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘একই দিনে সেনেট এবং সিন্ডিকেট সিদ্বান্ত নিয়েছিল । যা সঠিক নয়' । ওই দিনের শুনানি পর রায়দান স্থগিত রাখে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ।

বৃহস্পতিবার আবার এই মামলাটির শুনানি ছিল । আজ শুনানিতে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য তিনটি বিষয় উল্লেখ করে বলেন, এই মামলায় যাদের মান্যতা দেবার কথা ছিল তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি । ডি.লিট কোনো বিচার্য্য বিষয় নয় । ডি.লিট দিলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় না । ফলে মুখ্যমন্ত্রীর ডি.লিট মান্যতা পেয়ে যায় । অস্থায়ী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ হয়ে যায় ।

কোন মন্তব্য নেই: