কলকাতা : বিরোধিতার মাত্রা যা-ই হোক, ছাত্র সংসদ তৈরির ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তই আসল। শনিবার এ কথা জানালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই সংসদ তৈরির ব্যাপারে দফায় দফায় আপত্তি জানিয়ে আন্দোলন করছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। পার্থবাবু এদিন বলেন, “ওদের নিজেদের মধ্যেই তো মতের মিল নেই।”
এ রাজ্যের কলেজগুলিতে সাধারণত জানুয়ারি মাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ রাজ্যে বেশ কিছু রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। এমনকী, খাস কলকাতায় একটি কলেজে এক জন পুলিশ অফিসারকে প্রাণও দিতে হয়। ওই অভিজ্ঞতা থেকেই নির্বাচন স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করে সরকার। ২০১৫-র ৩০ অক্টোবর পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিকাশ ভবনে জানান, “ওই ভোট আগামী জুন-জুলাই মাসে করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা দফতর। তবে এ নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি তারা। ”
সূত্রের খবর, বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে কলেজে কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচনের নির্ঘণ্ট পিছিয়ে দেয় প্রায় ছ’মাস। বিধানসভা ভোটের আগে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করে ফের বিতর্কে জড়ানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। সে জন্যই ছাত্র সংসদ নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়।
এর পর ছাত্র সংসদ নিয়ে নয়া সূত্র তৈরী করে রাজ্য। এর প্রত্যক্ষ আপত্তি জানায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। দফায় দফায় আন্দোলন-ঘেরাও হয়| গত ১৬ জানুয়ারি ছাত্র সংসদ ফেরানোর দাবিতে ফের ছাত্র বিক্ষোভ হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাতে ছাত্রদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও মেলেনি কোনও সমাধান সূত্র। পর দিন সোমবার বিকেল ৪ টা থেকে শুরু হয় ঘেরাও অবস্থান কর্মসূচি। বিকেলে কর্মসমিতির বৈঠকেও ছাত্ররা দাবি করে ছাত্র সংসদ ফেরাতে হবে। ঘেরাও হন উপাচার্য, সহ উপাচার্য। ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকেও বসেন সহ-উপাচার্য-সহ অন্যরা। উপাচার্য সুরঞ্জন দাস জানান, “এই বিষয়ে আইন করেছে সরকার। তাই আইনের পরিবর্তন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই সম্ভব।”
শনিবার শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এ ব্যাপারে রাজ্যের আইন তো পাশ হয়েই গিয়েছে! এখানকার বহু প্রতিষ্ঠানের একটি হল যাদবপুরে। ওখানকার কেবল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে তো বিশ্ববিদ্যালয় বলে ধরা যায় না! সেখানেও ওদের নিজেদের মধ্যে লড়াই আছে। কেউ নকশাল, কেউ সিপিএম! এখানে তো শ্রেণী প্রতিনিধির ভোট হবে না!”
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন