আগরতলা : সমগ্র রাজ্য প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয়েছে। মুখ্য অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে আসাম রাইফেলস ময়দানে। সেখানে রাজ্যপাল তথাগত রায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর যে ভাষণ রাখেন তাতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তার প্রচ্ছন্ন বিরোধের প্রতিফলন ঘটেছে।
সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রধানকে রাজভবনে ডেকে পাঠালেও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তারা রাজ্যপালের সামনে হাজির না হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপালের এক্তিয়ার নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। আর মোটামুটি ভাবে শুক্রবার রাজ্যপাল এই বিষয়ে পরোক্ষে তার অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
রাজ্যপালের কাজ এবং দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "রাজ্যপাল রাজ্যের শাসনতান্ত্রিক প্রধান। অনেকে ভাবেন রাজ্যপালের কোন দায়িত্বই নেই। কিন্তু এটা ঠিক নয়। রাজ্যের যেকোনো সহকারী কাজকর্ম, রাজ্যপালের দ্বারাই পরিচালিত হয়। কোনও কারণে রাজ্য সরকার তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে রাজ্যপালকেই দায়িত্ব নিতে হয়। প্রশাসনিক এবং সাংবিধানিক সংকট দেখা দিলে রাজ্যপালকেই হাল ধরতে হয়। রাজ্যপাল এসব ক্ষেত্রে কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেন"।
তিনি আরও বলেন, "স্বাভাবিক অবস্থাতেও রাজ্যপালের যথেষ্ট দায়দায়িত্ব রয়েছে। সরকার কি করছেন কিংবা রাজ্যে কি চলছে, সে সমস্ত বিষয়ে রাজ্যপাল তথ্য জানতে চাইতেই পারে। আর সরকার এসব তথ্য দিতে বাধ্য। নিয়মতান্ত্রিক প্রধান বলে রাজ্যপাল কিছু জানতে চাইতে পারেন না এমনটা নয়। শুধু তাই নয় রাজ্যপাল রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে পারেন। সে অনুযায়ী
ত্রিপুরার রাজ্যপাল হিসাবে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে হয়েছে। তবে ঈশ্বরের কৃপায় রাজ্যে সাংবিধানিক সংকট দেখা দেয়নি। যদিও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কোন সময় যে বাধা পেতে হয়নি এমনটা নয়"।
তবে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে রাজ্যপালের দায়িত্ব বিশ্লেষণ করেন। কিন্তু সবাইকে সংবিধানের গণ্ডির মধ্যে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন