নিরন্তর অন্তরালে, প্রণম্য ওঁরা - Aaj Bikel
নিরন্তর অন্তরালে, প্রণম্য ওঁরা

নিরন্তর অন্তরালে, প্রণম্য ওঁরা

Share This


কলকাতা  : ওঁরা তিন জনই শতবর্ষ ছুঁই ছুঁই। প্রচারের পরোয়া না করে আড়ালে থেকেই সমাজসেবা করেছেন যুগ যুগ ধরে। এতকাল ওঁরা ছিলেন এলাকার মানুষের মনে। আজ প্রচারমাধ্যম ওঁদের কথা লিখছে ভারত সরকারের পদ্ম-সম্মাননার পর।

দীর্ঘকাল ঘুরে বেড়িয়েছেন গ্রামেগঞ্জে, বনে-বাদারে। মূল লক্ষ্য, গরিব মানুষের উপকার করা। সুন্দরবনে তৈরি করেছেন রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম। তৈরি করেছেন একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অনাথ আশ্রম, চিকিৎসাকেন্দ্র। ৯৯ বছরের সুধাংশু বিশ্বাস এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাঁচ পদ্মশ্রী-প্রাপকের অন্যতম।
তামিলনাডুর ভি নানাম্মাল এ দেশের প্রবীনতম যোগ শিক্ষক। বয়স ৯৮। এখনও রোজ ১০০ জনকে যোগ শেখান। তাঁর কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ৬০০ যোগ শিক্ষক ছড়িয়ে আছেন বিশ্বময়। এ রকমই আর এক পদ্মশ্রী-প্রাপক ৯৭ বছরের সুলাগাট্টি নরসাম্মা। কর্ণাটকের কৃষিকাজে সাহায্য করেন। প্রত্যন্ত গ্রামে ঘুরে বেড়ান গরিব পরিবারের দাতব্য ধাত্রী হিসাবে।

এতটা প্রবীণ না হলেও এবার বেশ কিছু নমস্য পদ্ম-স্বীকৃতি পেলেন, বয়স যাঁদের হার মানাতে পারেনি। তাঁদের মধ্যে এ রকমই নমস্য এ রাজ্যের সুহাসিনী মিস্ত্রী। বয়স ৭৫। ২৩ বছর বয়সে স্বামীকে হারান। পরিচারিকা থেকে দিনমজুর, সব্জি বিক্রেতা—হরেক রকম কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। তিলে তিলে সঞ্চয়ের অর্থে দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাঁসপুকুরিয়ায় তৈরি করেছেন ৫৫-শয্যার হাসপাতাল। অনেক গরিব মানুষ সেখানে নিখরচায় চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন।

বা ধরা যাক, কর্ণাটকের ৭৭ বছরের ইব্রাহিম সূতারে কথা। জীবনভর সুফি গানের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতির চেষ্টা করেছেন। মনে আছে ভারতের প্রথম দেশীয় শব্দের চেয়েও দ্রুতগামী, বহুমুখী যুদ্ধবিমান 'তেজ'-এর কথা? সেটির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ছিলেন মানস বিহারি ভার্মা। এখন বয়স ৭৪। অবসরের পর বেশ কিছুকাল ধরে বিহারের গ্রামে গ্রামে গরিব ছেলেমেয়েদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিজ্ঞান ও কম্পিউটারের বার্তা।

৭১ বছরের বিজয়লক্ষী নবনীতাকৃষ্ণনও আছেন স্বীকৃতিপ্রাপ্তদের তালিকায়। কলেজে পড়াতেন। ধ্যানজ্ঞান তামিল লোকশিল্প ও উপজাতীয় সঙ্গীতের চর্চা। প্রচুর দুস্প্রাপ্য নমুনা ও নথি সংগ্রহ করেছেন। কেরলের কোঝিকোরে 'ইন্সটিট্যুট অফ প্যালিয়েটিভ মেডিসিন' তৈরি করেছেন ৭০ বছরের এম আর রাজাগোপাল। সম্মানিত হলেন তিনিও।


  • বয়স ওঁদের হার মানাতে পারেনি। মানুষের জন্য, মানুষের মধ্যে থেকে ওঁরা আজ জাতির গর্ব।

কোন মন্তব্য নেই: