বিধানসভার উপনির্বাচন, প্রচারের শেষবেলায় তৎপর সব দলই - Aaj Bikel
 বিধানসভার উপনির্বাচন, প্রচারের শেষবেলায় তৎপর সব দলই

বিধানসভার উপনির্বাচন, প্রচারের শেষবেলায় তৎপর সব দলই

Share This

বারাকপুর  : অাগামী সোমবার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। বাকি আর মাত্র ৭২ ঘণ্টা। শনিবারই প্রচারের শেষ দিন। এতদিন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে শাসক দলের সঙ্গে সমানে টক্কর দিয়েছে বিজেপি। তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েরই দাবি, আসনটি তাদের দখলে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা জানা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি ভোট গণনার দিন।

ইতিমধ্যে নোয়াপাড়ায় পৌঁছেছে ৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। যদিও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি বিরোধীদের। প্রশাসন সূত্রে খবর, ৭০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি থাকবে। বাকি বুথ গুলিতে অত্যাধুনিক ক্যামেরা ও মাইক্রো অবজারভার এবং সশস্ত্র রাজ্য পুলিশ থাকবে। মোট ২৭৩ টি বুথেই ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।

এলাকার নিরিখে নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি এক সময়ে বামদূর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। বাম অামলে এই কেন্দ্র থেকে বরাবর বাম প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিকাশ বসু প্রকাশ্যে খুন হওয়ার পর এলাকার রাজনৈতিক পালা বদলে যায়। বিকাশ বসু খুনের পর তাঁর স্ত্রী মঞ্জু বসু ২০০১ সালে ভোটে দাঁড়িয়ে প্রথমবার বিধানসভায় প্রবেশ করেন। কিন্তু বিকাশ বসু খুনের অভিযোগ ও পালটা অভিযোগে দলের অন্তর্কোন্দল প্রায় প্রকাশ্যে চলে অাসে। বিকাশ বসু সমর্থকরা এই খুনের পেছনে দলের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। দলের অন্তর্কোন্দলের জেরে ২০০৬ সালের ভোটে হারতে হয় মঞ্জু বসুকে। ফের ২০১১ সালে রাজ্যজুড়ে পালা বদলে মঞ্জু বসু ফের এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন।

কিন্তু ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলেও এই কেন্দ্রটি দলের সেই চোরাস্রোতে ভেসে যায়। মাত্র ১০৯৫ ভোটে হারতে হয় মঞ্জু বসুকে। ২০১৬ সালের উপ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী মধুসূদন ঘোষ। ১০৯৫ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মঞ্জু বসুকে পরাজিত করেন তিনি। মধুসূদনবাবুর মৃত্যুতে নোয়াপাড়া আসনটি শূন্য হয়। ওই আসনেই ২৯ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। এবার বাম-কংগ্রেস জোট হয়নি নোয়াপাড়া আসনে।

গত দু’টি বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে, রাজ্যে যখন শাসক দলের গ্রহণযোগ্যতা মধ্যগগনে তখনও স্রোতের বিপরীতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতায় চায়নি নোয়াপাড়াবাসী। কেন এই অবস্থা? তৃণমূলের নেতারা জানিয়েছেন, ২০১১ সালে বাম ও কংগ্রেস অালাদা ভাবে প্রার্থী দিয়েছিল। সেকারণে তৃণমূলের ভোট বেড়েছিল। অন্যদিকে, ২০১৬ সালে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী থাকায় কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে। তবে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও শাসক দলের অনেক নেতাই স্বীকার করেছেন, ২০১৬ সালে প্রধান ফ্যাক্টর ছিল বিজেপি। গত নির্বাচনের ফলাফলেও কিন্তু তা অনেকটা স্পষ্ট। ২০১১ সাল ও ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট ছিল যথাক্রমে ৫৯.০৩ শতাংশ এবং ৪২.০০ শতাংশ। অর্থাৎ ওই পাঁচ বছরে তাদের ভোট কমেছিল ১৭.০৩ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১১ ও ২০১৬ সালে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪.৪৭ শতাংশ এবং ১৩.০০ শতাংশ। অর্থাৎ তাদের ভোট ওই পাঁচ বছরে বেড়েছে ৮.৫৩ শতাংশ। ওই একই সময়ে বাম-কংগ্রেস জোটের ভোট বেড়েছিল ৮.১৭ শতাংশ। অর্থাৎ এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট শুধু বাম ও কংগ্রেস নয়, তৃণমূল কংগ্রেসকেও ভোটের বৃদ্ধির হারে ব্যাকফুটে পাঠিয়েছিল বিজেপি।

এবার ওই আসনে চতুর্মুখী লড়াই। লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম বসু, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুনীল সিং, বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়। নির্বাচনে মঞ্জু বসুকে প্রার্থী করেনি শাসকদল। তবে তাঁকে নিয়ে চূড়ান্ত নাটক হয়েছে বিজেপির অন্দরে। মঞ্জুদেবীকে বিজেপির তরফে প্রথমে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু মঞ্জুদেবী দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করেই বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করেছে। এরপর মঞ্জুদেবীর বদলে ওই আসনে সন্দীপবাবুকে প্রার্থী করে বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নোয়াপাড়ায় বিজেপি জিতবেই। শাসক দলের প্রার্থীকে সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছে না।”

ভোটে জেতার ব্যাপারে নিশ্চিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুনীল সিং। তিনি বলেন, “বাম-কংগ্রেস জোট নেই। উন্নয়ন হয়েছে সর্বত্র। সাধারণ মানুষ আমাদের গ্রহণ করেছেন। ভোটে জেতাটা এখন শুধু

কোন মন্তব্য নেই: