দক্ষিণ ২৪ পরগনা : স্বাধীনতার পর কেটেছে বহু বছর, ইংরেজ শাসন থেকে দেশকে শৃঙ্খল মুক্ত করার পরও নিজেকে নিয়জিত রেখেছেন সমাজসেবায়। একদিকে যেমন স্বদেশী আন্দোলনের প্রথম সারিতে কাজ করেছেন স্বাধীনতার আগে তেমনি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুন্দরবনের অনাথ ও দুঃস্থ শিশুদের জন্য গড়েছেন স্কুল ও আশ্রম। এলাকার বৃদ্ধ মানুষদের জন্য গড়েছেন বৃদ্ধাশ্রম। শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো সুধাংশু বিশ্বাসকে অবশেষে তার কর্মকাণ্ডের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কার দিতে চলেছেন কেন্দ্রীয় সরকার। ৬৯ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিন সরকারী ভাবে ঘোষণা করা হল সুধাংশুবাবুর পদ্মশ্রী। এই খবর অবশ্য প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন সকালেও নিজে জানতে পারেননি এই স্বাধীনতা সংগ্রামী। তবে সুধাংশুবাবুর সংস্পর্শে থাকা অন্যান্য মানুষজন খুবই খুশি তাদের দাদুর এই সন্মান পেয়েছেন বলে।
বয়সের ভারে খুব বেশী হাঁটাচলা করতে পারেন না। তবু এখনও নিজের কাজটা করেন নিজের হাতেই। সকালে উঠে পশু পাখিকে খাবার দেন নিজের হাতে। এখনও নিজের হাতে কাজ করতে করতে স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই স্মৃতি হাতরে চলেন সুধাংশু বিশ্বাস। কিভাবে বোমা বন্দুক নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের হাতে পৌঁছে দিতেন সেকথা যেমন বলেন, তেমনি অরবিন্দ ঘোষ, বারীন ঘোষের হাত ধরে তার স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে আসার কথা ও বলে চলেন নিজের মনে। আবার বলেন ইংরেজদের হাত থেকে বাঁচতে কিভাবে কুয়োর মধ্যে লুকিয়ে রাত কাটিয়েছিলেন। স্বদেশী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অপরাধে ইংরেজ পুলিশের হাতে ধরা পরে জেল ও খেটেছিলেন সুধাংশু বিশ্বাস। জেলে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে শুরু করেছিলেন অনশন আন্দোলন। তবে সুধাংশুবাবু মনে করেন ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার পিছনে অন্যতম অবদান রয়েছে স্বামী বিবেকানন্দের।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাই স্বামীজির বাণীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজ সেবায় ব্রতী হয়েছেন সুধাংশু বিশ্বাস। স্বামীজির ‘ম্যান মেকিং ইজ মাই মিশন’ বাণীকে পাথেয় করে সুন্দরবনের দুঃস্থ ও অনাথ শিশুদের জন্য গড়ে তুলেছেন শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম। ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত মানুষ তৈরির কাজ করে চলেছেন সুধাংশু বিশ্বাস। তার হাত ধরে সুন্দরবনের বুকে আঠেরোটি স্কুল তৈরি হয়েছে দুঃস্থ ছেলে মেয়েদের জন্য। আর সুধাংশু বাবুর এই কাজকে স্বীকৃতি দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ৬৯ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগের দিন সরকারী ভাবে সে কথাই ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন