গুয়াহাটি : উগ্রপন্থীদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চলছে। রাজ্যের ১৩টি উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক পথেই অগ্রসর হচ্ছে আলোচনা পর্ব। জানিয়েছেন রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখী। ৬৯তম গণতন্ত্র দিবসের মূল সরকারি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখি কাজকর্মের খতিয়ান তুলে ধরেছেন।
খানাপাড়ায় পশু মহাবিদ্যালয় ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুৰ্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের বলিষ্ঠ অবস্থানেরও বর্ণনা করেছেন রাজ্যপাল। বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুৰ্নীতি-বিরোধী স্থিতিতে তিনি নিজে অনুপ্ৰাণিত। তাছাড়া, গ্ৰামোন্নয়নের লক্ষে সরকারের বহু নতুন প্রকল্পের কথাও বলেছেন তিনি। রাজ্যের স্কুল-ছাত্রদের বিনামূল্যে ভরতি এবং পাঠ্যবই সরবরাহ প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে টেনে আনেন রাজ্যপাল মুখী। রাজ্যের উন্নয়নে সরকার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়ে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি সম্পর্কেও বক্তব্য পেশ করেছেন তিনি।
বলেন, একটি বিদেশিমুক্ত অসম গড়ার সংকল্প নিয়েছে তাঁর সরকার। এনআরসি তৈরি হয়ে গেলে এ থেকে বৈধ-অবৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করতে সুবিধে হবে। ফলে অবৈধ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে পারবে সরকার। অসমকে দক্ষিণ-পূর্ব আসিয়ান হাব হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। কেবল অসমই নয় গোটা দেশের বিকাশে এই রাজ্যকে ইঞ্জিন হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য, জানান রাজ্যপাল।
রাজ্যে সরকারি কাজকর্মে সংবাদমাধ্যম যে ভূমিকা প্রদর্শন করে চলেছে তার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান রাজ্যপাল প্রফেসর জগদীশ মুখী। সংবিধান প্ৰণেতা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল বীর সেনানির প্রতিও ভাষণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়েছেন রাজ্যপাল।
আজকের অনুষ্ঠানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল ও তাঁর মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্য, বিধায়ক, মুখ্যসচিব এবং রাজ্য প্রশাসনের বহু পদস্থ ও উতচ্চপদস্থ আধিকারিকর্গ। ছিলেন বহু নাগরিক।
এদিকে ৬৯তম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক, দৈনিক অগ্রদূত পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কনকসেন ডেকার হাতে গণতন্ত্র দিবস সাংবাদিক পুরস্কার তুলে দিয়েছেন রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখী ও মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন