পদ্মসম্মান প্রদানের চিরাচরিত ধারায় লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছিল ২০১৭ সালে৷ বেশ কিছু খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি শিরোপার তালিকায় উঠে এসেছিলেন এমন কয়েক জন মানুষ, যাঁদের নাম সাধারণত প্রচারের চড়া আলোর নীচে থাকে না৷ লোকচক্ষু থেকে দূরে নিভৃতে কাজ করে চলা তেমনই তিন বাঙালির কথা রইল পাশের প্রতিবেদনে৷
বিপিন গনত্র: কলকাতার অগ্নিরক্ষক বিপিন গণত্র৷ কলকাতার গর্বও বটে৷ তিনি স্বেচ্ছাসেবী অগ্নি নির্বাপক৷ রাজ্যের দমকল বিভাগ সরকারি পরিচয়পত্র ও ইউনিফর্ম দিয়ে তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে৷ কৈশোরে চোখের সামনে দেখেছিলেন , কী ভাবে তাঁর দাদাকে গিলে খেয়েছিল আগুন৷ তার পর থেকেই গত চল্লিশ বছর ধরে বিপিন নিরলস ভাবে সেই আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন যাতে আর কাউকে যেন তাঁর মতো অগ্নিগ্রাসে স্বজনহারা হতে না হয়৷ শহরে কোথাও আগুন লাগলেই ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীদের সঙ্গে বিপিনকে দেখা যায়৷ একসময় স্কুলের পড়া ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন৷ পরে ফেরিওয়ালা হয়েছেন, কাজ করেছেন ইলেকট্রিশিয়ানেরও৷ সেই মানুষটিই পদ্মশ্রী পেয়েছেন৷
করিমুল হক: অসুস্থ মাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পাননি৷ বাঁচাতে পারেননি মাকে৷ তার পরেই জলপাইগুড়ির ক্রান্তি চা -বাগানের কর্মী করিমুল হক প্রতিজ্ঞা করেন , অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে এলাকার আর কাউকে মরতে দেবেন না৷ নিজের বাইকটিকেই অ্যাম্বুল্যান্স করে নেন , নাম দেন বাইক -অ্যাম্বুল্যান্স৷ করিমুল নিখরচায় ২৪ ঘণ্টা সেবা করে যাচ্ছেন তাঁর বাইক -অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে৷ এতে এখন প্রাথমিক চিকিত্সারও ব্যবস্থা করেছেন করিমুল৷ তিনি পরিচিত উত্তরবঙ্গের ‘অ্যাম্বুলেন্স দাদা ’ হিসেবে৷ হবেন না -ই বা কেন ? ৫২ বছরের করিমুলের বাইক -অ্যাম্বুল্যান্স এখনও পর্যন্ত হাজার তিনেক রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে৷ ধালাবাড়ির গ্রাম থেকে তাঁর অ্যাম্বুল্যান্সেই রোগীরা পৌঁছে যান স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে হাসপাতাল , নার্সিংহোমে৷
সুব্রত দাস : পেশায় চিকিত্সক সুব্রত দাস তাঁর লাইফলাইন ফাউন্ডেশন শুরু করেছিলেন গুজরাটে৷ তার পর মহারাষ্ট্র , কেরালা , রাজস্থান ও পশ্চিমবঙ্গের চার হাজার কিলোমিটার সড়কে তাঁর সংস্থা দুর্ঘটনায় আহতদের বাঁচানোর কাজ করে৷ এ ভাবে হাজার দেড়েক জীবন বাঁচিয়েছেন সুব্রত৷ তাঁর বিশেষ টিম যাতে দুর্ঘটনার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারে , সে ব্যাপারে নিরলস সুব্রত৷ ১৯৯৯ -তে আমেদাবাদ -বরোদা হাইওয়েতে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সস্ত্রীক৷ কিন্ত্ত বৃষ্টির রাতে নির্জন হাইওয়েতে কেউ তাঁদের উদ্ধার করেননি৷ দুর্ঘটনার অন্তত সাত ঘণ্টা পর , দুমড়ে -মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে তাঁদের তিন জনকে পরদিন সকালে উদ্ধার করেন এক দুধবিক্রেতা৷ তখনই বুঝেছিলেন , সড়ক দুর্ঘটনাগ্রস্তদের জন্য জরুরি পরিষেবার হাল কতটা খারাপ৷ তার পর থেকেই ‘হাইওয়ে মসিহা ’-র ধ্যানজ্ঞান শুধু দুর্ঘটনাগ্রস্তদের বাঁচানো৷ তারই স্বীকৃতি পদ্মশ্রীতে৷
পদ্ম তালিকায় নাম ছিল অনামী নায়করা৷
দারিপাল্লি রামাইয়া : এক কোটিরও বেশি গাছ লাগিয়েছেন অন্ধ্র -তেলেঙ্গানায়৷ রামাইয়াকে ‘গ্রিন সোলজার ’ বলা হয়ে থাকে৷
চিন্তাকিন্দি মল্লেশাম : তাঁতিদের কষ্ট লাঘব করতে অন্ধ্র-তেলেঙ্গানায় পচমপল্লি সিল্ক বোনার যন্ত্র আবিষ্কার করেন৷
গেনাভাই দর্গাভাই প্যাটেল : প্রতিবন্ধী এই কৃষক গুজরাটের খরা -বিধ্বস্ত বনসকন্থা জেলায় ডালিম উত্পাদনের অভিনব পদ্ধতি বের করেছেন৷ এখন বনসকন্থা থেকে ডালিম পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয়৷
ভক্তি যাদব : ৯১ বছরের এই চিকিত্সক গত ৭০ বছর ধরে ইন্দোরে বিনা পয়সায় রোগীদের সেবা করে আসছেন৷ ‘ডাক্তার দাদি ’ নামেই তিনি পরিচিত৷
মীনাক্ষী আম্মা : ৭৬ বছরের এই বৃদ্ধা ৭ বছর বয়স থেকে মার্শাল আর্ট শেখাচ্ছেন কেরালায়৷
শেখর নায়েক : ২০১২ -র টি টোয়েন্টি ও ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী অন্ধদের ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক৷
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন