গুয়াহাটি : অসমে পরিবর্তনের সূচনা হল বলে। তবে এই পরিবর্তন নির্বাচনে বিপুল জয়ের বলে নয়। পরিবর্তনের শুরুয়াত বিশাল সংখ্যায় হিন্দুদের একত্রিত হওয়ার ঘটনায়। ‘লুইতপারিয়া হিন্দু সমাবেশ’-এ বিশাল হিন্দু সঙ্গম সম্পর্কে এভাবেই সংঘের অনুভবের কথা ব্যাখ্যা করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরকার্যবাহক সুরেশরাও জোশি (ভাইয়াজি জোশি)।
শুক্রবার রাতে স্থানীয় ফ্যান্সিবাজারে ‘ভগবান মহাবীর ধর্মস্থল’-এর বিদ্যাসাগর সভাগৃহে সংঘের মহানগর শাখা আয়োজিত নৈশভোজ মিলনায়তনে বৌদ্ধিক পেশ করছিলেন ভাইয়াজি জোশি। প্রায় আট শতাধিক স্বয়ংসেবক ও শুভানুধ্যায়ীর সামনে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে সংঘের দর্শন ও বিচারধারার প্রতি হিন্দু সমাজের উপলব্ধি সম্পর্কেও বর্ণনা করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, লুইতপারিয়া হিন্দু সমাবেশ-এর ঢেউ দেখে বুঝতে অসুবিধে হয়নি সে সমাজ জাগছে। এই সমাবেশ দেখে অসমর মানুষ যতটা না-উৎফুল্ল আনন্দিত তার চেয়ে বেশিগুণ উচ্ছ্বসিত দেশের অন্য প্রান্তের জনসাধারণ। প্রসঙ্গক্রমে তিনি লুইতপারিয়া হিন্দু সমাবেশকে বন্যার জলের মতো না ভাবতেও স্বয়ংসেবকদের বলেছেন। বন্যার জলের মতো না ভেবে, এই জলকে ধরে রাখার দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন সরসংঘচালক। সমাবেশ সফল হয়েছে এবং সংখ্যা দেখে আহ্লাদিত হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না, এতে যে স্বয়ংসংবকদের দায়িত্ব আরও বেশি করে বেড়ে গেছে তা-ও বলেছেন। ‘হিন্দুত্ব থাকলে ভারতবর্ষ থাকবে, ভারতবর্ষ না থাকলে হিন্দুত্ব নেই’ বলে লুইতপারিয়া সমাবেশে সরসংঘচালক মোহন ভাগবত প্রদত্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ভাইয়াজি বলেন এই ঢেউ আঁকড়ে ধরে রাখতে হবে। সংঘ জিন্দাবাদ, সংঘ খুব ভালো কাজ করছে এমন সাধুবাদ শুনতে চায় না স্বয়ংসেবকরা। স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশ্য প্রকৃত হিন্দু গড়ে তোলা। যে বা যাঁরা আমাদের ঘনিষ্ঠ হবেন, সুষ্ঠু আচরণের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে হিন্দু ভাবধারায় সম্পর্ক নিবিড় করা, প্রকৃত দেশভক্ত গড়াই সংঘের উদ্দেশ্য।
স্বয়ংসেবকের প্রতি তাঁর নির্দেশ, মহানগরের যে ১৫ হাজার গৃহস্থ সমাবেশে আগতে অতিথিদের জন্য ভোজন সামগ্রী পাঠিয়েছিলেন তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রাখতে হবে। হিন্দুদের এক ভাবধায়ার নিয়ে আসতে সংঘের দর্শন সম্পর্কে বোঝাতে হবে প্রতিটি নাগরিককে। সমাজে যে সব মন্দ দিকগুলি আছে সেগুলিকে দূর করা এবং পাশাপাশি ভালো যে দিক রয়েছে সেগুলিকে রক্ষা করা প্রত্যেক হিন্দুর কর্তব্য। বলেন, বাইরে থেকে অনেকেই নিজকে আমি হিন্দু আমি হিন্দু বলে বেড়ান, এতে সমাজের কোনও লাভ হয় না। সবাইকে হিন্দুত্বের প্রকৃত দর্শন অন্তরে গ্রহণ করে তা সমাজজীবনে কার্যকর করতে হবে। এতেই প্রমাণিত হবে প্রকৃত হিন্দু। ভয়মুক্ত হিন্দু তৈরি করাই স্বয়ংসেবকদের কাজ এবং এজন্য কার্যকর্তা নির্মাণ খুব জরুরি। বলেন, জাতি, ভাষা, স্থান দেখেন না কোনও হিন্দু।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন