হাফলং : ডিমা হাসাও জেলার মাইবাঙে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদকারীদের উপর গুলি চালনার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই। গতকাল গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই আহতকে গুয়াহাটি নিয়ে যাওয়ার পথে লামডিংয়ে মৃত্য ঘটে মিঠুন ডিব্রাগেডের এবং আহত প্রবান্ত হাকমকসার মৃত্যু ঘটেছে আজ সকালে গুয়াহাটি জিএনআরসি হাসপাতালে।
এদিকে গতকালের প্রতিবাদকারীদের উপর গুলি চালনার ঘটনায় ডিমা হাসাও জেলায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ পাহাড়ি জেলার মানুষ গণতন্ত্র দিবস বয়কট করার পাশাপাশি দিনটিকে ব্ল্যাক-ডে হিসেবে পালন করেছেন। এদিকে গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে হাফলং পূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর কতিপয় যুবক অফিসে উপস্থিত হয়ে জাতীয় পতাকা জ্বালিয়ে দেয়।
এদিকে বৃহত্তর নাগালিমে ডিমা হাসাও জেলা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার খবরে আজ প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি জেলার হারাঙ্গাজাওয়ে প্রতিবাদী মিছিল বের করা হয় আজ। শিলচর-হাফলং জাতীয় সড়ক গাছ ফেলে অবরোধ করা হয়। মাইগ্রেনডিসায় দূষ্কৃতকারীরা একটি কাঠের সেতু জ্বালিয়ে দেয়।
আজ হাফলং আবর্ত ভবনে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের সিইএম দেবলাল গারলোসা, দক্ষিণ অসম প্রান্তের ডিআইজি অখিলেশ কুমার সিং, বিভিন্ন দল সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসে শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
গতকালের ঘটনা নিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অসমের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ভি কে পেয়ারে লালকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। শনিবার অশান্ত জর্জর ডিমা হাসাও জেলার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আসছেন রাজ্যের দুইমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য ও কেশব মহন্ত। অশান্ত জর্জর জেলায় আজ দ্বিতীয়দিন কারফিউ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শিলচর-গুয়াহাটি ফাষ্ট প্যাসেঞ্জার গতকাল থেকে নিউহাফলং স্টেশনে আটকে রয়েছে। মোট ১০৯৬ জন রেলযাত্রীর মধ্যে গতকাল থেকে হাহাকারের সৃষ্টি হয়েছে। খাওয়া-দাওয়ার অভাবে রেলযাত্রীরা ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন