জয়নগর : এক স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় সিপিএম কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। শনিবার রাতে ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগণার জয়নগর থানার বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মালদাঁড়ি গ্রামে ঘটেছে। ঘটনায় গুরুতর জখম তৃণমূল নেতা সমীর মণ্ডলকে রাতেই স্থানীয়রা উদ্ধার করে পদ্মেরহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে জয়নগর থানার পুলিশ।
রবিবার স্থানীয় মরিশ্বর মতিলাল হাইস্কুলের মাঠে দলীয় সভা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। শনিবার রাতে সেই দলীয় সভার প্রস্তুতির কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন সমীরবাবু। অভিযোগ তার সাড়ে দশটা নাগাদ সভাস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সমীর বাবুর বাড়ির অদূরেই দুষ্কৃতীরা তাকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। সমীর বাবুর অভিযোগ এই ঘটনার পিছনে সিপিএম নেতা কর্মীরা জড়িত। কারণ শনিবার সকালে স্থানীয় একটি রাস্তার কাজ নিয়ে সিপিএম কর্মীদের সঙ্গে অশান্তি হয়েছিল সমীরবাবুর। দুই পক্ষের বাক্য বিনিময়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। পরে সেখান থেকে নিজের গন্তব্যস্থলে চলে যান ওই তৃণমূল নেতা। আর রাতে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথেই তার উপর এই হামলা হয়। বোমা ফাটার আওয়াজ শুনে স্থানীয়রা রাতেই বেড়িয়ে এসে গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সমীর বাবুকে। তারাই স্থানীয় পদ্মেরহাট গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য।
রাতেই ঘটনার খবর পেয়ে জয়নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনো পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে জয়নগর থানার পুলিশ। ধৃতরা সকলেই সিপিএম কর্মী বলেই জানা যাচ্ছে। যদিও এই ঘটনায় তাদের দলের কোনও নেতা, কর্মী বা সমর্থক জড়িত নয় বলেই দাবী করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএম নেতৃত্ব। এ বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সিপিএম সম্পাদক শমীক লাহিড়ী বলেন, “ এটা তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের ফল। সব জায়গায় নিজেদের মধ্যে বখরার ভাগাভাগি নিয়ে লড়াই চলছে তৃণমূলের নিজেদের মধ্যেই। শাঁক দিয়ে মাছ ঢাকতে না পেরে আমাদের নামে দোষ দিচ্ছে। এই ঘটনায় আমাদের দলের কেউ জড়িত নয়”। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জয়নগর থানার পুলিশ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন