টু দ্য পয়েন্ট উত্তর দিলেই মিলবে নম্বর, তবে আরও যে বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়াটা জরুরি - Aaj Bikel
টু দ্য পয়েন্ট উত্তর দিলেই মিলবে নম্বর, তবে আরও যে বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়াটা জরুরি

টু দ্য পয়েন্ট উত্তর দিলেই মিলবে নম্বর, তবে আরও যে বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়াটা জরুরি

Share This

প্রথমেই বলা দরকার নতুন সিলেবাসে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে৷ সেখানে খুব চুলচেরা বিচার করলে দেখা যাবে যে, পদার্থবিদ্যা বা ফিজিকস আর কেমিস্ট্রি যথাক্রমে ৪০ শতাংশ এবং ৬০ শতাংশ অনুপাতে রয়েছে৷ এইবারে প্রশ্নের ধরন অনুসারে ন্যূনতম কিছু প্রশ্নের উত্তর ফিজিকস থেকে আর কেমিস্ট্রি থেকে লিখতেই হয়৷ তার পর পরীক্ষার্থীর হাতে থাকে বেশ খানিকটা স্বাধীনতা যে , যে -কোনও বিভাগ থেকেই সে উত্তর লিখতে পারে৷ মনে রাখতে হবে যে, এখানে সাহিত্যের মত বেশ খানিকটা ভাষাগত দখল দেখানোর বা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে লেখার কোনও অবকাশ নেই একেবারেই৷ সোজাসাপ্টা যা চাওয়া হয়েছে সেই উত্তরটুকু লিখে দিতে যতটুকু ভাষার প্রয়োগ প্রয়োজন, ততটুকুই হওয়া দরকার৷ এই ধরনের লেখার অভ্যাস থাকাটা জরুরি৷ কারণ নিজেকে বোঝাতে গিয়ে এমন না হয়, তার দু’-তিন রকমের অর্থ হয়ে গেল৷

কেমিস্ট্রি অংশে যে সুবিধাটা পাওয়া যায় , তা হল , ভাষার ব্যবহার ন্যূনতম৷ ফিজিকস -এ কিছু কিছু প্রশ্ন থাকে যেগুলোর উত্তর একটু ব্যাখ্যামূলক৷ সেই ব্যাখ্যার জায়গায় ‘রিলেটিভ মার্কিং’- এর অবকাশ থেকেই যায়৷ সুতরাং ফিজিকস অংশের এই ধরনের উত্তর লেখার সময়ে একটু সচেতন হয়ে লেখা উচিত, যাতে কোনও কল্পনার অবকাশ না থাকে৷

প্রশ্নপত্র পাওয়ার পরেই অনেকটা সময় থাকে প্রশ্ন পড়ার জন্য এবং সেই বাছাই পর্বেই নির্ধারিত হয়ে যায় , কোন বিভাগে কোন প্রশ্নের জন্য কতটা সময় দেওয়া যায়৷ সেই সময়ের মাপের হিসেব খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ অনেকের মানসিক প্রস্ত্ততি থাকে যে অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর লেখার , কারণ নিয়মানুসারে , কোনও বিভাগে যে প্রশ্নের উপবিভাগ সমেত পরীক্ষার্থী সব থেকে বেশি নম্বর পাবে , সেই উত্তরটিই শেষ পর্যন্ত গ্রাহ্য হবে৷ এটা ভুল মানসিকতা৷ অতিরিক্ত চাপ যেন না নেওয়া হয়৷ বরং ফোকাসে থাকুক যতগুলো উত্তর লিখতেই হবে , তা যেন পরীক্ষার্থীর ক্ষমতা অনুসারে উচ্চতম মানের হয়৷ ফিজিক্সের ফর্মুলা লেখার সময়ে প্রতিটি অক্ষরের ‘নোটেশন এক্সপ্লানেশন ’ থাকতেই হবে৷

যে কোনও সংজ্ঞা লেখার সময় তার ‘ফিক্সড কন্ডিশানস ’ লিখতে হবে৷ যে কোনও ছবি আঁকার ক্ষেত্রে পেনসিল ছাড়া আর কিছু ব্যবহার করা যাবে না৷ প্রশ্নে আলাদা করে ছবি চাওয়া হলে সেই ছবি নিখুঁত ভাবে আঁকতে হবে৷ আলোকবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রশ্মির অভিমুখ নির্দিষ্ট থাকতে হবে এবং চিহ্নিত করতেই হবে৷ চাওয়া হোক বা না হোক , ছবি এঁকে দেওয়া উচিত৷ জৈব রসায়নে অনেকটাই মুখস্থের অংশ আছে৷ সেখানে মুখস্থ করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই৷ অজৈব রসায়নে নামকরণ ভাল করে রন্ত করতেই হবে , কারণ পুরো বিদ্যাটাই আসলে এর ওপরে দাঁড়িয়ে৷ পলিমার , কোণ , বন্ড , বন্ডের দৈর্ঘ্য, সম্পৃক্ততা এবং অসমপৃক্ততার ওপর দখল , যে কোনও পরীক্ষার্থীকে অনেকটাই আলাদা করে এগিয়ে রাখবে , কারণ এই বিজ্ঞানটাই প্রয়োগমূলক৷ রসায়নে যে কোনও জায়গায় শুধু সমীকরণ লিখলেই হবে না৷ অবশ্যই তার সমতাবিধান করে লিখতে হবে৷ পরিবেশবিদ্যা এবং তেজসক্রিয়তার ওপর আলাদা গুরুত্ব দিতে হবে৷ প্রথমটি নেগলেক্টেড , কারণ অনেক ছোটবেলা থেকে পড়ানো হয় , আর দ্বিতীয়টির অনেকটাই সম্প্রসারণ ঘটেছে , অথচ দু’টি অংশ থেকেই প্রশ্নের উত্তর লেখা খুবই সহজ৷ জড় -বিজ্ঞানে হাইলাইটিংয়েরও প্রয়োজন নেই৷

সবচেয়ে বড় ভুল হয়, কোনও গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে সেই উত্তরের একক লেখা মিস করে যাওয়া৷ এতে সব ঠিক হলেও এক নম্বর কাটা যাবেই৷ তাই সচেতনভাবে পরীক্ষা দাও৷ তথ্য : ডঃ সুনীল কুমার দাস (প্রধান শিক্ষক ), ডঃ সুশান্ত চক্রবর্তী (রসায়ন ), শিবুরাম রায় (ভৌত -বিজ্ঞান ), হেয়ার স্কুলমাধ্যমিক পরীক্ষায় জড় -বিজ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম৷ জড় -বিজ্ঞানে ভাল নম্বর পেতে কাটাতে হবে মানসিক জড়তা৷ মাধ্যমিক স্তরে জড় -বিজ্ঞানের চর্চা ততটুকুই যতটুকু আমাদের চারপাশে ঘটতে থাকে বা বুঝতে কাজে লাগে৷ শুরু থেকে সেই দৃষ্টি নিয়ে পড়লে, বিষয়টিতে অনেক নম্বর পাওয়া সহজ৷

কোন মন্তব্য নেই: