কলকাতা : এতদিন ধরে সংসদীয় নিয়ম অনুসারে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হওয়ার পরে পেশ করা হত রাজ্য বাজেট। এবারেই সেই নিয়ম বদলাতে চলেছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাজেটের দিন, অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি রাজ্যও বাজেট পেশ করবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে বদল এনেছে রাজ্য। রাজ্যের সূত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়, আগামী বুধবার বাজেট পেশ করবে রাজ্য। শনিবার বিধানসভায় বৈঠকের পর সরকারিভাবে এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।
এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এ দিন সর্বদল আলোচনা ডেকেছিল সরকার। কিন্তু এ দিন বিরোধীরা বৈঠকে যাননি। পরে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “৩০ জানুয়ারি রাজ্যপালের ভাষনের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হবে। ৩১ জানুয়ারি হবে বাজেট | ১, ২ ও ৫ ফেব্রুয়ারী আলোচনা হবে রাজ্যপালের ভাষণের ওপর। মাঝে দু’দিন সপ্তাহান্তের ছুটি। ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারী বাজেট নিয়ে হবে আলোচনা। শেষ হবে ৮ ফেব্রুয়ারী। ওই দিন আলোচনা হবে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিনান্স বিল, এপ্রোপ্রিয়েশন বিল প্রভৃতি নিয়ে।
বিরোধীদের একাংশের দাবি, সংসদীয় ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনই দেখা যায়নি। সর্বদা, কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হওয়ার পরেই পেশ করা হয় রাজ্য বাজেট। কিন্তু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে মোদীর সরকারকে সর্বদা চ্যালেঞ্জ করতে এক পা এগিয়ে রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্ত সেই পদক্ষেপেরই ফলশ্রুতি। এ দিন বিধানসভাতেই এলেন না বিরোধীরা। গরহাজিরা বিজনেস এডভাইসরি (বিএ) কমিটির বৈঠকেও। পার্থবাবু অবশ্য দাবি করেন, “এর আগেও অধিবেশন এভাবে এগিয়ে আনার নজীর আছে।”
বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান এর জন্য এ দিন ‘সরকারের তুঘলকি সিদ্ধান্তর’ সমালোচনা করেন| তিনি জানান, “২৫ জানুয়ারি বিএ কমিটির বৈঠক হয়| বৈঠকে বাজেট অধিবেশ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে দিন বিকেলেই ২৭ জানুয়ারি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। বাজেট এগোতেই কমিটির বৈঠকের ডাক দেওয়া হল। তাই এতে যাওয়ার প্রশ্নই নেই।
এ ব্যপারে সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া, “সরকারের কাছে বিরোধীদের মূল্য নেই। ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।”
সাধারণত, কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় বরাদ্দের উপর নির্ভর করে রাজ্যগুলি নিজেদের বাজেট তৈরি করে। কিন্তু এবারে আর সেদিকে খেয়াল না রাখলেও চলবে। কারণ প্রতিমাসেই জিএসটির টাকা পেয়ে যাচ্ছে রাজ্য। ফলে ব্যায়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন