পরীক্ষার আগেই হোয়্যাটসঅ্যাপে ফাঁস প্রশ্নপত্র, কিছুই নাকি জানেন না মন্ত্রী! বিতর্ক এড়ালেন পার্থ? - Aaj Bikel
পরীক্ষার আগেই হোয়্যাটসঅ্যাপে ফাঁস প্রশ্নপত্র, কিছুই নাকি জানেন না মন্ত্রী! বিতর্ক এড়ালেন পার্থ?

পরীক্ষার আগেই হোয়্যাটসঅ্যাপে ফাঁস প্রশ্নপত্র, কিছুই নাকি জানেন না মন্ত্রী! বিতর্ক এড়ালেন পার্থ?

Share This

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার৷ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হাওয়ার খবর কারিগরি শিক্ষা দফতর জানলেও সমস্যা মেটাতে উদাসীন কর্তৃপক্ষ৷ প্রশ্ন ফাঁস হলেও এই বিষয়ে পুলিশে কোনও অভিযোগ করা হয়নি বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের৷ যদিও, মুখ রক্ষার স্বার্থে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ পুনরায় করে পরীক্ষা নেওয়া হবে? আদৌও পরীক্ষা নেওয়া হবে কিনা সেই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি৷

এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কারিগরি শিক্ষা আমার দফতর নয়৷ পলিটেকনিকে প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে না জেনে কিছু বলব না৷’’ ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা দিয়েছে হাজার হাজার পলিটেকনিক পড়ুয়া৷ প্রশ্ন ফাঁসের ফলে সাধারণ পড়ুয়াদের একটি বড় অংশ যে মেধার নিরিখে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে তা নিয়ে সন্দেহ নেই৷ কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন৷ এই ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘‘ প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’’

গত ১২ থেকে ২৩ ডিসেম্বর রাজ্যে পলিটেকনিকের পরীক্ষা হয়৷ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বর্ষ মিলিয়ে লক্ষাধিক ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় বসে৷ ২১ ডিসেম্বর ছিল প্রথম বর্ষের রসায়নের পরীক্ষা৷ এই প্রশ্নপত্রটি ফাঁস হয়েছে৷ নির্ধারিত দিনের এক সপ্তাহ আগে প্রশ্নটি 'সাজেশন' নাম নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়ায়৷ আগে থেকে জেনে যাওয়া প্রশ্নে পড়ুয়াদের একটি অংশ পরীক্ষা দেয়৷ বাকি অংশ অবশ্য নিজেদের প্রস্তুতি মতো পরীক্ষা দিয়েছে৷

প্রশ্ন জেনে এবং না জেনে পরীক্ষা দেওয়া দু'দল পড়ুয়ার প্রাপ্ত নম্বরে বড়সড় তফাত থাকবে বলে মনে করছে শিক্ষামহল৷ বছর দু'য়েক আগে আইটিআইয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল৷ মুখ্যমন্ত্রী সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ তদন্তে নেমে হুগলি থেকে একজনকে গ্রেফতার করেছিল সিআইডি৷ কারিগরি শিক্ষা দফতরের তৎকালীন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস এক সপ্তাহ পরে ফের পরীক্ষা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন৷

ওই দফতরেই ফের প্রশ্ন ফাঁসের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘‘পরীক্ষা ব্যবস্থায় সবসময় তিনটে করে প্রশ্নের সেট থাকে৷ পরীক্ষা স্থগিত হলে আরও দু'টি সেট থেকে যে কোনও একটি বেছে নেওয়া হয়৷ ছাপতে খুব বেশি সময় লাগে না৷’’ প্রায় একই সময়ে এই দফতর থেকে কুকুরের মুখ বসানো অ্যাডমিট প্রকাশ করা হয়েছিল৷ তা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ৷ তদন্তে এক ছাত্রের যুক্ত থাকার কথা জানা যায়৷

চলতি মাসে প্রশ্ন ফাঁসের জেরে পলিটেকনিক পরীক্ষা কি ফের নেওয়া হবে? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি৷ কারিগরি শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, প্রশ্ন ফাঁসের খবর জানার পর বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে জানা গিয়েছে৷ তবে সেই কাজ এগোয়নি৷ কাউকে ডেকে জেরা করাও হয়নি৷ জানা গিয়েছে, আজ ২৭ ডিসেম্বর পরীক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে নিউটাউনে কারিগরি ভবনে ডাকা হয়েছে৷

আরও পড়ুন-

কোন মন্তব্য নেই: