টেট মামলার রায়: এখনও অনিশ্চিত ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ! - Aaj Bikel
টেট মামলার রায়: এখনও অনিশ্চিত ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ!

টেট মামলার রায়: এখনও অনিশ্চিত ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ!

Share This

আজ বিকেল: প্রাথমিকে টেট মামলার রায় শুক্রবার ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট৷ মামলার রায়ে ধাক্কায় খেয়েছে রাজ্য সরকার৷ শুক্রবার টেট মামলার গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা হয়ে গেলেও পড়ুয়াদের মাথা থেকে কাটছে না ধোঁয়াশা৷ আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে পড়ুয়াদের একাধিক প্রশ্ন৷


শুক্রবার আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাই নন, প্রাথমিকের টেটে বসতে পারবেন প্রশিক্ষণরতরাও৷ পরীক্ষা দিতে পারবেন উচ্চমাধ্যমিকে ৫০ শতাংশের কম নম্বর পাওয়া স্পেশাল এডুকেটররাও৷ তবে এই নির্দেশ শুধুমাত্র মামলাকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট৷ বাকিদের রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি মেনেই টেট-এ বসার জন্য আবেদন করতে হবে৷ কিন্তু যদি প্রশিক্ষণরত কোনও কর্মপ্রার্থী টেট-এ উত্তীর্ণ হয়ে যান, তাহলে কী তিনি প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরি পাবেন? কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, টেট-এ উত্তীর্ণ হলেও, প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চাকরিতে নিয়োগ করা যাবে না৷


কিন্তু, রায় নিয়ে বেশ ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন পড়ুয়ারা৷ রায় ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে পড়ুয়াদের প্রশ্নের ঝড় উঠতে শুরু করে৷ ফেসবুকে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ২০১৫-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের কেবলমাত্র মামলাকারীরাই আসন্ন টেটে বসতে পারবে৷ তাহলে এতজন আন্দোলন করল এমনি? তাহলে কি রাজ্যরে ২০১৫-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের সকলকেই মামলা করতে হবে?  ফলে রায় ঘোষণা হলেও এখনও অনিশ্চিত পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ৷


রায় প্রকাশ্যে আসার পর রীতিমত হুংকার ছুড়তে থাকেন ২০১৬-২০১৮ বর্ষের পড়ুয়ারা৷ ফেসবুকে কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক পড়ুয়া দাবি করেন, ‘‘২০১৬-২০১৮ ব্যাচ তৈরি থাকো৷ অধিকার আদায়ের জন্য। আপডেট দিয়ে যাব৷ আমাদের ও দুবছর হতে চলল। আর রেজিস্ট্রেশন হয়নি৷ তাতে আমাদের কি দোষ। সরকার করুক জলদি৷ ’’ একই সঙ্গে অন্য পড়ুয়ারাও একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন৷ প্রশ্ন ওঠে, ২০১৬-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থীরা কি এই টেটে বসতে পারবে? ২০১৫ সালে যারা টেট পাশ করে ইন্টার্ভিউ দিয়েছিল, অথচ প্রশিক্ষণ নেই, তারা কি  এবার ফর্ম ফিলাপ করতে পারবে? আসন্ন প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় ২০১৫-২০১৭রেগুলার’রা বসতে পাবে? টেট নিয়ে প্রশ্ন-ধোঁয়াশার দোলাচল চলছেই৷ যদিও, চার সপ্তাহ পরে ফের মামলার পরবর্তী শুনানি৷


শুক্রবার মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের তরফে বলা হয়, তাঁদের প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণপর্ব শেষ হয়েছে। ২০১১ সালের এনসিটিই গাইডলাইন অনুসরণে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত চলেছে সেই প্রশিক্ষণ। কিন্তু, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তির কোনও শংসাপত্র এখনও দেওয়া হয়নি৷ এদিকে ৯ অক্টোবর টেট (টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট) পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিজ্ঞাপন বের হয়েছে৷ যেখানে বলা হয়েছে, যাঁদের প্রশিক্ষণ সরকারিভাবে শেষ হয়েছে, একমাত্র তাঁরাই পরীক্ষায় বসতে পারবেন৷ অথচ, এমন পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে এনসিটিই গাইডলাইন সরকার বা সংসদ মেনে চলতে বাধ্য৷

এমন আবেদন সূত্রে আদালত বলেছে, শিক্ষার্থী জীবনে সময়ের মূল্য অপরিসীম৷ মামলাকারীদের বক্তব্যে আপাতদৃষ্টিতে যৌক্তিকতা আছে৷ অন্তর্বর্তীকালীন কিছু সুবিধা তাঁদের প্রাপ্য৷ যদিও সরকার ও সংসদের তরফে আবেদনের বিরোধিতা করে এদিন বলা হয়, পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হলে, পরে এঁদের নিয়ে অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ বিশেষত পরীক্ষায় সফলদের মধ্যে থেকে নিয়োগ করার ক্ষেত্রে৷ তার অন্যতম কারণ হল, এঁদের অনেকেরই এনসিটিই গাইডলাইন অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক সহ অন্যান্য পরীক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতামান নেই৷

আবেদনকারীরা ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশনে দু’বছরের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন৷ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য বলেন, হাইকোর্টের রায় এখনও হাতে পাইনি৷ তা দেখার পর যা বলার বলব৷ আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য শুক্রবার পর্যন্ত পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেই জানা গিয়েছে৷


আদালতের এদিনের নির্দেশের পর ২০১৫-’১৭ শিক্ষাবর্ষের অধীন রাজ্যের সমস্ত ডিএলএড প্রার্থীদেরই পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার দাবি তুলেছেন বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা৷ তিনি একটি বাংলা সংবাদপত্রকে বলেন, শুধুমাত্র ২০০ জন পরীক্ষায় বসতে পারবেন, আর বাকিরা পারবেন না, এটা ন্যায়সঙ্গত নয়৷ রাজ্য সরকারের এসব বিবেচনা করা উচিত৷ সেই তো আদালত নির্দেশ দিল৷ কিন্তু একই দাবিতে যখন কিছু প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে বিক্ষোভ দেখাতে গেলেন, তখন তাঁদের পুলিশ লাঠিচার্জ করল৷ এটারও তীব্র বিরোধিতা করছি৷



জানা গিয়েছে, আরসিআই অনুমোদিত স্পেশাল ডিএলএডের পঞ্চম সেমেস্টারে থাকা প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী৷ পাশাপাশি, গত টেটে যে সব প্রার্থীর দু’বছরের ডিএলএড প্রশিক্ষণ শেষ হয়নি, কিন্তু টেট পাশ করেছিলেন, তাঁরা সরাসরি ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পাবেন৷ তাঁদের আর টেটে বসতে হবে না৷ তবে তাঁরা যে সফলভাবে দু’বছরের প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন, তার মার্কশিট দেখাতে হবে৷


নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা দপ্তরের এক কর্তা বলেন, বিগত ছ’সাত বছরে ডিএলএড প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ছ’গুণ বেড়েছে৷ আগে যেখানে চার হাজারের কিছু বেশি আসন ছিল, এখন সেটা প্রায় ৪১ হাজার৷ প্রার্থীদের এটাও ভাবতে হবে, আগের অবস্থা থাকলে তো তাঁরা প্রশিক্ষণের সুযোগই পেতেন না৷  যে কোনও আদর্শ ব্যবস্থায় শিক্ষাবর্ষের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলপ্রকাশ হয়ে যাওয়ার কথা৷ কিন্তু ক’টা পরীক্ষায় সেটা হচ্ছে! এক্ষেত্রে এক ধাক্কায় অতগুলি আসন বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে৷ প্রধান পরীক্ষক হতে গেলে কোনও শিক্ষকের ন্যূনতম যে অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন, তা পাওয়া যাচ্ছে না৷ এরকম শিক্ষকের সংখ্যা সীমিত৷ তাই গোটা প্রক্রিয়াটিই দীর্ঘায়িত হচ্ছে৷

কোন মন্তব্য নেই: