কলকাতা: প্রাথমিকে টেট নিয়ে মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল কলকাতা হাইকোর্ট৷ প্রশিক্ষণরতরা এই পরীক্ষায় বসতে পারবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আদালত৷ তবে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই হবে না, প্রশিক্ষণ শেষের পরই হবে চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ৷ আদালত আরও জানিয়েছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্পেশাল এডুকেটরাও প্রাথমিক টেটে বসতে পারবেন৷ উচ্চমাধ্যমিকে ৫০ শতাংশের কম নম্বর পাওয়া এডুকেটরদেরও পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট৷
গতকালই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘২০১৫ সালে যখন টেট হয় তখন অনেকেরই প্রশিক্ষণ শেষ হয়নি। এদের অনেকেই টেট–এ পাস করেছে। সেই সময় তারা প্রশিক্ষণহীন প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। কিন্তু এখন তারা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। সেই মেধাতালিকা অনুযায়ী এই প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে দেখতে বলেছি।’
গত ১২ অক্টবর চাকরি প্রার্থীরা পরীক্ষায় বসার দাবি তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন৷ বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে ছিল মামলার শুনানি। এদিন টেট নিয়ে মামলা দায়ের করেন শেখ হাফিজুল সহ ৭০ জন ডিএলএড কোর্স সম্পন্ন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত জানান, তার মক্কেলরা ২০১৫-১৭ শিক্ষাবর্ষের ডিএলএড কোর্স সমাপ্ত করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁরা পরীক্ষায় বসতে পারেননি। জুলাই পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। যার কারণে তারা সংশাপত্র না পাওয়ায় নয়া প্রায়মারি টেট পরীক্ষায় অংশ নিতে পাড়ছেন না। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব টিচার এডুকেশন (এনসিটিই)-র গাইডলাইন অনুয়ায়ি, দু’বছরের ডিএলএড কোর্সে ভর্তির পর রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে ছাত্রছাত্রীরা টেট পরীক্ষায় বসতে পারবেন। কিন্তু, সেক্ষেত্রে পর্ষদ তাদের সেই অনুমতি দেয়নি। পর্ষদের বক্তব্য, তারা NCTE-র গাইডলাইন মেনে চলছে। সার্টিফিকেট না পাওয়া পর্যন্ত পরীক্ষায় বসার অনুমতি তারা দিতে পারবে না।
চলতি মাসে প্রায়মারি টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য সাংবাদিক বৈঠক করে টেট সলক্রান্ত নিয়মাবলির কথা ঘোষণা করেন। সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ছাত্র-ছাত্ররা।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের টেট হয় অক্টোবর মাসে। বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল ২০১৪ সালে। পরীক্ষায় বসেছিল ২০ লক্ষের কিছু বেশি চাকরিপ্রার্থী। টেট উত্তীর্ণ হয় ১ লক্ষ ২০ হাজার। এর মধ্যে মাত্র ১০ হাজারের প্রশিক্ষণ ছিল। এই প্রসঙ্গে পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এরা ২০১৪-১৬’র ব্যাচ। ওই সময় এদের প্রশিক্ষণ শেষ হলেও ফল প্রকাশিত হয়নি। এদের সংখ্যা শ’দুয়েকের মত। এদের আর টেট দিতে হবে না। এরা সরাসরি ইন্টারভিউর সুযোগ পাবে।’ আগামী বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই ফের প্রাথমিকে টেট নিতে চলেছে রাজ্য।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন