‘দিদির রাজ্যে’ বড়সড় আন্দোলনে নামছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা - Aaj Bikel
‘দিদির রাজ্যে’ বড়সড় আন্দোলনে নামছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা

‘দিদির রাজ্যে’ বড়সড় আন্দোলনে নামছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা

Share This
শিক্ষক
প্রতীকী ছবি৷
কলকাতা: বঞ্চনার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামার হুমকি দিলেন পার্শ্বশিক্ষকরা। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘‘দিদির রাজ্যের সব ধরনের মানুষকে ঢেলে ভরিয়ে দিচ্ছেন। যত বঞ্চনা আমাদের বেলায়।” বাম জমানাতেও দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন তাঁরা।


এবার তা উল্লেখ করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সমিতির সভাপতি গোপাল দেবনাথ বলেন, “বেতন না বাড়িয়ে ছুটি ভিক্ষা দিয়ে আমাদের অপমান করা হল।’’ আসলে বেতন বাড়ল না এক টাকাও। বদলে বাড়ল দু’দিন ছুটি। পার্শ্বশিক্ষকদের ঝুলিতে রাজ্য সরকারের এই ‘ভিক্ষা’র বিরুদ্ধেই সরব শাসক দলের পার্শ্বশিক্ষকদের সংগঠনও। স্কুলশিক্ষা দফতর অবশ্য যুক্তি দেখাচ্ছে, বেতনবৃদ্ধির বিষয়টি তাদের আওতায় পড়ে না। সর্বশিক্ষা মিশনের তরফে একটি সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এক বছরে পার্শ্বশিক্ষকদের ক্যাজুয়াল লিভ ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৪ করা হল। বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সেখানে কোনও উচ্চবাচ্য নেই। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে অপমানজনক হিসেবেই দেখছেন পার্শ্বশিক্ষকরা। শাসক দলেরই সংগঠন, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল পার্শ্বশিক্ষক সমিতি হুমকি দিয়েছে, বাম জমানার মতো ফের আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।


বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি থেকে মুখ ঘোরাতে চাইছে সরকার। এটা অনুচিত।’’ সরব রাজ্য প্যারাটিচার কল্যাণ সমিতির সম্পাদক অভিজিৎ ভৌমিকও। এ দিকে সর্বশিক্ষা মিশন সূত্রের খবর, পার্শ্বশিক্ষকদের বেতনের ৬০ শতাংশ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার, বাকিটা দেয় রাজ্য। কিন্তু বেতনের কাঠামো ঠিক করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। তাই বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নির্ভর করছে রাজ্যের উপরেই। সূত্রের খবর, রাজ্যে প্রাথমিক স্তরে মাসে ৫৯৫৪ এবং উচ্চপ্রাথমিক-স্তরে ৮১৮৬ টাকা পান পার্শ্বশিক্ষকরা।


পার্শ্বশিক্ষকদের অভিযোগ, একজন সাধারণ শিক্ষকের মতোই কাজ করতে হয় তাঁদের। অথচ শিক্ষকদের মতো সুযোগ-সুবিধা তাঁরা পান না। মহিলারা চাইল্ড কেয়ার লিভ-ও পান না। স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বেতনবৃদ্ধির বিষয়টি স্কুলশিক্ষা দফতরের আওতায় পড়ে না। সরকার সিদ্ধান্ত নিলে দফতর সেই মতো কাজ করবে।

কোন মন্তব্য নেই: