কলকাতা: আইন মেনে সুষ্ঠুভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচন নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। ভোটের মনোনয়ন পর্বের শুরু থেকেই সন্ত্রাসের অভিযোগকে ঘিরে শাসক-বিরোধী চাপানউতোরের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে রাজভবনের ভূমিকা।বুধবার দুপুরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিংহকে ডেকে পাঠান রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি।
তার আগে এদিন সকালে মুখ্যসচিব মলয় দে এবং স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন রাজ্যপাল। এদিকে, বিজেপি’র তোলা অভিযোগকে মান্যতা দেওয়ায় রাজ্যপাল ত্রিপাঠির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল তৃণমূল। রাজভবন সূত্রের খবর, প্রথমে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার এবং পরে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের বক্তব্য বিস্তারিত জানিয়েছেন ।
সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বারটি বাহিনী মোতায়েনের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য । উল্লেখ করা যেতে পারে, সংবিধানের ২৪৩কে(৩) ধারায় বলা আছে, ‘ভোট পরিচালনার সময় রাজ্য নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করলে রাজ্যপাল কমিশনের ইচ্ছানুসারে প্রয়োজনীয় কর্মী ও অন্যান্য রসদ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।’ এই ধারার বলেই গত পঞ্চায়েত ভোটে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার মীরা পান্ডে বারবার তৎকালীন রাজ্যপাল এম কে নারায়ণনের কাছে গিয়েছিলেন। তিনিও রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য তা মানেনি। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৫ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী এনে ভোট হয়েছিল।
অমরেন্দ্রবাবু মনোনয়ন জমা দেওয়া শুরু হলেই রাজ্য জুড়ে মারামারি শুরু হবে বলে তাঁর আশঙ্কার কথা আগেই রাজ্যপালকে জানিয়েছিলেন। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সদর্থক পদক্ষেপ করবে কি না, সে নিয়েও তাঁর সংশয়ের কথাও বলেছিলেন রাজ্যপালকে।বীরভূম, বাঁকুড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ, মালদহ সহ রাজ্যের নানা জায়গায় গত দু’দিন ধরে মনোনয়নকে ঘিরে তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাত বাধে।মঙ্গলবার বিকেলেই রাজ্যপালের কাছে গিয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ দাবি করেন বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাজ্যপাল নির্বাচন কমিশনারকে ডেকে পাঠান।
এর আগে, মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দিচ্ছে তৃণমূল- এই একই অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপি বস পৃথকভাবে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়। তাদের অভিযোগ, পুলিশ নীরব দর্শক। মঙ্গলবার ফের এই অভিযোগ নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্য বিজেপি’র এক প্রতিনিধিদল। সূত্রের খবর, অসহায়তার কারণ হিসেবে কমিশনার রাজ্যপালকে বলেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোট করানো সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য তাঁর কোনও কথাই মানতে চাইছে না। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যপালকে এরাজ্যের মানুষ আর নিরপেক্ষ মনে করে না। রাজ্যপালের নাম করে দিলীপবাবু যেসব ঘোষণা করছেন, তা প্রকাশ্যে আসার কথা নয়। রাজভবন বিজেপি’র বক্তব্য অস্বীকারও করেনি। সবটাই পরিকল্পিতভাবে হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন