আজ বিকেল: বেড়েছে সংগঠন৷ যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গড়ে উঠেছে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন৷ একাধিক কর্মসূচির জেরে সামান্য হলেও মিলেছে সাফল্য। লাগাতার আন্দোলনের পাশাপাশি শুরু হয়েছে আইনি লড়াই৷ দীর্ঘ পরিশ্রমের পর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সাফল্য আসতেই ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের মঞ্চে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। আর এতেই বেড়েছে বিড়ম্বনা। শিক্ষকদের আন্দোলনে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘোচাতেই নতুন করে শুরু হয়েছে লড়াই।
সম্প্রতি, কলকাতা প্রেস ক্লাবে সংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক চেহারার অস্তিত্ব জানান দিয়েছেন রাজ্যের দেড় লক্ষ শিক্ষক৷ বেতন সংক্রান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের বঞ্চনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা। তাদের ন্যায্য বেতনের দাবি জনসমক্ষে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন শিক্ষক সংগঠন৷ সাংবাদিক বৈঠক করে বেতন বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট জানানোর পর অদ্ভুত ভাবে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে৷
রাজ্যের প্রায় দেড় লক্ষ শিক্ষকের আবেগকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনের সাফল্য গিলে খেতে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদ্যদের কাছে লাগাতার ফোন করেই চলেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা৷ চলছে প্রভাবিত করার কৈশল৷ ভোটে দাঁড় করানো থেকে টাকা ও বাড়তি সুযোগ সুবিধার তোপ দিয়ে চলছে আন্দোলন কেনার কাজ৷ তবে, শত প্রলোভনের মাঝেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ সংগঠনের নেতা থেকে সদস্যরা৷
শিক্ষক আন্দোলনে রাজনীতির রঙ প্রসঙ্গে সংগঠনের তরফে আজ বিকেলকে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এক শিক্ষক নেতা সাফ জানিয়েছেন, ‘‘আমরা যখন আমাদের দাবি দিয়ে রাজনৈতিক দলের দোরে দোরে ঘুরেছি, তখন কেউ সাহায্য করেনি৷ আর এখন আন্দোলন যখন সাফল্য পেতে শুরু করেছে তখন, ছোট-বড় সব নেতারাই আমাদের পাশে থাকতে চাইছেন৷ কিন্তু, আমাদের আন্দোলনে তাঁদের কোনও প্রয়োজন নেই৷ যদি, আমদের পাশে তাঁদের থাকতেই হয়, তাহলে তাঁরা রাজনৈতিক মঞ্চ ব্যবহার করেই করতেই পারেন৷ প্রয়োজনে বিধানসভায় বিষয়টি তুলতেই পারেন৷ কিন্তু, শিক্ষকদের মূল আন্দোলের সঙ্গে তাঁদের কোনও ভাবেই ঘেঁসতে দেওয়া হবে না৷’’
ঠিক কী কারণে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রায় দেড় লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষক? সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দফতরের তরফে ঘোষণা করা হয়, প্রাথমিকে শিক্ষকতার যোগ্যতা হিসেবে উচ্চমাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ নম্বর সহ পাশ ও সেইসঙ্গে এক বছরের প্রশিক্ষণ থাকা বাধ্যতামূলক৷ সরকারি ঘোষণার পর ২০১৫ সালের মধ্যেই সমস্ত শিক্ষকরা যাদের এই যোগ্যতা নেই তারাও তা অর্জন করেন৷ অভিযোগ, নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্যতা বাড়লেও বাড়নি বেতন৷
শিক্ষকদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য রাজ্যে এনসিটিই নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন সাড়ে নয় হাজার থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার কাছাকাছি৷ সঙ্গে গ্রেড পে ৪হাজার ২০০টাকা৷ আর পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষকদের কপালে জোটে বেতন হিসেবে পাঁচ হাজার ৪০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা৷ গ্রেড পে দু’হাজার ৬০০ টাকা৷ অর্থাৎ এরাজ্যের একজন প্রাথমিক শিক্ষক সমযোগ্যতা সর্বভারতীয় স্তরের একজন শিক্ষকের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার টাকা বেতন কম পান৷ কেন এই বৈষম্য? কেন এই বঞ্চনা? মূলত এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই আজ ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে নেমেছেন রাজ্যের প্রায় দেড় লক্ষ শিক্ষক৷ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলছে লড়াই৷
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন