জলপাইগুড়ি : কলকাতায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের শুনানির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তার আগে অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য শুনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পর্ষদ। বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়ি সুভাষনগর হাইস্কুলের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হরিদয়াল রায় সম্পর্কে এমনটাই জানালেন শিলিগুড়িতে পর্ষদের আঞ্চলিক অধিকর্তা প্রদীপ বিশ্বাস। এদিন শিলিগুড়িতে পর্ষদের আঞ্চলিক দফতরে প্রশ্নফাঁস সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়ে যায়। পর্ষদ সূত্রে খবর, সাসপেন্ড করা হতে পারে অভিযুক্ত ময়নাগুড়ি সুভাষনগর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হরিদয়াল রায়কে।
পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যেসব প্রথামিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে তা অভিযোগের পক্ষেই। আগামীকাল শুক্রবার শুনানির পর প্রধান শিক্ষকের সাসপেনশনের সুপারিশ যে শিক্ষাদফতরে পাঠানো হবে তা প্রায় পাকা। তবে তার আগে হরিদয়ালবাবুকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য শুনে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, স্কুলকে মেধাতালিকায় তুলতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন সুভাষনগর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হরিদয়াল রায়। তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক। সামনে এসেছে দুটি অডিও ক্লিপও। তবে অভিযোগগুলো চক্রান্ত বলে পালটা অভিযোগ করেছেন হরিদয়ালবাবু।
অভিযোগ প্রসঙ্গে হরিদয়ালবাবু বলেন, “মনগড়া গল্প বললে তো হবে না। সেগুলো প্রমাণ করতে হবে। তাতে কিছু প্রমাণ হলে যা শাস্তি দেবে আমি মাথা পেতে নেব।” হরিদয়ালবাবুর পালটা অভিযোগ, আশপাশের স্কুলগুলো সুভাষনগর হাইস্কুলের সাফল্যকে ঈর্ষা করে বলে তাঁর বিরুদ্ধে বড়সড় চক্রান্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্তের দাবিও করেন তিনি।
প্রশ্নফাঁস ছাড়া আরও একটি অভিযোগ উঠেছে হরিদয়ালবাবুর বিরুদ্ধে। ময়নাগুড়ির স্কুল পরিদর্শক বিশ্বনাথ ভৌমিক জানিয়েছেন, সুভাষনগর হাইস্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য ২৯০০টি খাতার দরকার ছিল। কিন্তু এক প্যাকেট অর্থাৎ ৭০০টি খাতা বাড়তি নিয়েছিলেন হরিদয়ালবাবু, যা ফেরত আসেনি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন