শিক্ষকের অভাবে হিমশিম রাজ্যের! জানেন, শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? - Aaj Bikel
শিক্ষকের অভাবে হিমশিম রাজ্যের! জানেন, শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?

শিক্ষকের অভাবে হিমশিম রাজ্যের! জানেন, শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?

Share This

কলকাতা: কেটে গিয়েছে পাঁচ বছর৷ তবুও, রাজ্যের স্কুলগুলিতে শিক্ষক পদে নিয়োগ হয়নি৷ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার মাসুল গুনতে শুরু করেছে রাজ্য৷ পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব চূড়ান্ত আকার নিতে শুরু করেছে৷ পরিস্থিতি এমন, রাজ্যের বেশিরভাগর স্কুলে দ্বিগুণ হারে বেড়ে পড়ুয়া-শিক্ষক অনুপাত৷ শিক্ষক অভাব এতটাই, রাজ্যের বেশ কিছু নামী স্কুলেও ক্লাস চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে ভরসা সেই অতিথি শিক্ষকরাই৷ কিন্তু তাঁদের বেতন চোকাতেই কালঘাম ছুটছে একাধিক স্কুলের৷ সব মিলিয়ে শিক্ষক বিড়ম্বনায় দেখা দিয়েছে চূড়ান্ত অস্বস্তি৷

শিক্ষা ও চাকরির সমস্ত আপডেট পেতে ফেসবুক পেজ লাইক করুন৷ 

 

পরিসংখ্যান বলছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলায় এমন স্কুলও আছে, যার মোট পড়ুয়ার সংখ্যা৷ ৪৫০০৷ কিন্তু শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ৪০৷ যদিও বরাদ্দ শিক্ষক পদের সংখ্যা ৭০-৭৫টি৷ এই পরিস্থিতিতে ভরসা আংশিক সময়ের শিক্ষক উপর৷  কিন্তু তাতেও রয়েছে৷ অস্থায়ী শিক্ষকদের বেতন দিতেই হিমশিম অবস্থা স্কুলগুলির৷

চাকরি সংক্রান্ত খবর জানতে ক্লিক করুন এখানে


উত্তর ২৪ পরগনার পরিস্থিতিও এক৷ অশোকনগর বয়েজ সেকেন্ডারি স্কুলের পরিস্থিতি বলছে,  এখানে মোট ৪৪টি শিক্ষক পদ অনুমোদিত থাকলেও রয়েছে ৩২ জন স্থায়ী শিক্ষক৷ আর পড়ুয়ার সংখ্যা কমবেশি ১৫০০-র মতো৷ এই পরিস্থিতিতে তারাও বাড়তি কড়ি গুনে পার্ট টাইম শিক্ষকদের দিয়েই কাজ চালাচ্ছে৷ কলকাতার শূরাকন্যা বিদ্যালয়ে ১৭০০-র বেশি ছাত্রীর জন্য রয়েছেন ৪৩ জন শিক্ষক। এখনও সাতটি পদ খালি রয়েছে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘাটতি পূরণ করতে আংশিক সময়ের শিক্ষকদের পিছনে প্রায় ২৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সেই টাকা জোগাড় করার জন্য একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ভর্তির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের বল্লা হাইস্কুলের ১২ জন শিক্ষক পড়ান ৮০০ জন পড়ুয়াকে৷ আবার সোনারপুরের কামরাবাদ গার্লস হাইস্কুলে ২৮০০ জন পড়ুয়ার জন্য রয়েছেন ৩১ জন শিক্ষক৷
শিক্ষা সংক্রান্ত খবর জানতে ক্লিক করুন এখানে

নিয়ম মতো উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত হওয়া উচিত ৩৫:১ ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সেটা ৪০:১ হতে হবে৷ যদিও রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযানের নিয়ম বলছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এই অনুপাত ৩০:১ হলে অসুবিধা নেই৷ কিন্তু শিক্ষক ঘাটতি যে জায়গায় চলে গিয়েছে, তাতে কোনওভাবেই এই অনুপাত মানা সম্ভব হচ্ছে না৷ আইন অনুযায়ী, পড়ুয়াদের থেকে ২৪০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। এতে আরও ফাঁপরে পড়েছে স্কুলগুলি৷ পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকার কারণে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের৷ এভাবে আর কতদিন চালাতে হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন বিভিন্ন প্রধান শিক্ষকের৷ কারণ বাড়তি টাকা জোগাড় করা রীতিমতো সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই তাঁরা জানান৷

কোন মন্তব্য নেই: