বারাসত: ভারত সরকারের নাম ভাঁড়িয়ে ও ‘ই-ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্পোরেশনে’র নামে জেলায় জেলায় শিক্ষক ও সহায়িকা পদে নিয়োগের পিছনে বড় ধরনের প্রতারণা চক্রের কিনারা করল বনগাঁ থানার পুলিশ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির টোপ দিয়ে এই প্রতারণা চক্র চালানোর অভিযোগে এক আইনজীবী সহ দু’জন ‘পাণ্ডা’কে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ পুলিশের দাবি, কোটি টাকার উপর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে৷ ধৃতদের নাম মৃন্ময় বসু (আইনজীবী) ও রাজা মিত্র৷ দু’জনের বাড়িই বনগাঁয়। ধৃতদের তিনদিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে৷
পুলিশ জানিয়েছে, ই-ডিজিট্যাল কর্পোরেশন ও সেন্ট্রাল জুনিয়র স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহায়ক-সহায়িকা পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে একটি প্রতারণা চক্র চলছিল বলে অভিযোগ আসে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রবিবার সিকদারপল্লি এসেছিল পুলিশ। ‘ইন্টারভিউ’ দিতে আসা কয়েকজন যুবক-যুবতীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। এরপরেই মৃন্ময় বসু ও রাজা মৈত্র নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। মৃন্ময়বাবুর বাড়িতেই অফিস খোলা হয়েছিল। সেখানেই ছেলেমেয়েরা ইন্টারভিউ দিতে আসতেন। সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, সংস্থাটি তাদের সাইটে দাবি করেছিল, ভারত সরকার ও এমএসএমই-র স্বীকৃতি আছে তাদের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সংবাদপত্রে ও নিজস্ব ওয়েবসাইটে চাকরির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিল সংস্থাটি। তাতে লেখা হয়, চাকরির পদ ১৪ হাজার ২৬৫টি। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সাধারণ জাতির প্রার্থীদের জন্য ১৮০ টাকা ও সংরক্ষিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মাথা পিছু ১৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার যুবক-যুবতী আবেদন করেছিলেন টাকা জমা দিয়ে। একটি অনলাইন ওয়ালেটে টাকা জমা করা হয়েছিল। সেই টাকা জমা হয় একটি ট্রাস্টিবোর্ডে। ওই বোর্ডের সদস্য পাঁচজন। রাজা মৈত্র বোর্ডের কর্ণধার।
পুলিশের দাবি, চাকরির আবেদন করেছিলেন ১ লক্ষ ২৬ হাজার জন। এ বাবদ প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। জানুয়ারি মাসে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তারা ওই সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন বন্ধ করে দেয়। ওই থানাও তদন্ত শুরু করে। লেনদেন বন্ধ হওয়ার ৮৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ হওয়া ঠেকানো গিয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন