কলকাতা : আলিপুর চিড়িয়াখানার আকর্ষণ আরও বাড়াতে আমাজনের অ্যানাকোন্ডার দেখা মিলবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে কর্তৃপক্ষ সেই আশ্বাস দিলেও বিশ্বখ্যাত সেই সাপ এখনও আসেনি আলিপুর চিড়িয়াখানায়। তবে, দর্শকদের নিরাশ করছে না চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি সদ্যোজাত জেব্রা।
বুধবার সকালেই জন্মেছে। আর তাকে দেখতে গরম উপেক্ষা করেই বেশ কিছু দর্শক চিড়িয়াখানায়। ছোটরা রীতিমতো খুশি। আপাতত মাতৃদুগ্ধই তার একমাত্র খাদ্য। জন্মের পর সুস্থ আছে মা ও শাবক। জেব্রা সাধারণতঃ ২-৩ মি (৮ ফুট) লম্বা হয়, ঘাড় পর্যন্ত উচ্চতা ১.২৫-১.৫ মি (৪-৫ ফুট), এবং এদের ওজন ৩০০ কেজি (৯০০ পাউন্ড) হতে পারে। ডোরার পাশাপাশি এদের ঘাড়ে কেশর-সদৃশ খাড়া চুল আছে। ঘোড়া বা গাধার মত জেব্রাকে পোষ মানানো যায় না।চিড়িয়াখানার অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্ত জানান, সবে জন্মেছে, তাই শাবকটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। চিড়িয়াখানায় এখন ২টি শিশু জেব্রা রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক ৮টি।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের অক্টোবর নাগাদই চিড়িয়াখানার তরফে জানানো হয়েছিল নতুন বছরের শুরুতে দেখা যাবে বেশ কিছু নতুন অতিথিকে। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, জাপানের চিড়িয়াখানা থেকে আসা ইস্টার্ন গ্রে প্রজাতির ৪টি ক্যাঙারু। এদের মধ্যে ২টি ছেলে ও ২টি মেয়ে। এছাড়াও মাউস ডিয়ার, জাগুয়ার, ভারতীয় সিংহ তো রয়েছেই। ডিসেম্বর থেকেই দর্শকদের মনোরঞ্জন করতে প্রস্তুত ছিল চিড়িয়াখানা।
গত অক্টোবরে আনা ক্যাঙারু, মাউস ডিয়ার, সিংহ ও জাগুয়ারদের দেখা মিলেছে আগেই। শীতে দর্শকের ভিড় উপচে পরেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষর। বলা হয়েছিল, এগুলির পাশাপাশি চেন্নাইয়ের ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক ট্রাস্ট থেকে আনা হবে ইয়েলো অ্যানাকোন্ডা। বদলে চেন্নাইয়ে যাবে কেউটে ও শাঁখামুটি। অ্যানাকোন্ডার দেখা কবে মিলবে? আশিসকুমার সামন্ত জানান, শীতঘুম না ভাঙা পর্যন্ত আনা যায় না। এদিকে আবার গরম পড়ে গিয়েছে। তাই অ্যানাকোন্ডাকে নিয়ে আসতে আরও কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে।
তবে, তার আগে এই খুদে জেব্রার আগমন দর্শকদের কাছে উপরি পাওনা বলা যেতেই পারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন