আগরতলা: ত্রিপুরায় নতুন সরকার এলেই বিকাশের যুগ শুরু হবে। কিন্তু এত বছর ধরে ৫১ পীঠের এক পীঠ ত্রিপুরাসুন্দরী দেবীর ভূমিতে যারা অরাজকতা কায়েম করেছিল তারা রেহাই পাবে না। তবে এবার 'চলো পাল্টাই'-এর ডাক উঠেছে। তাই পরিবর্তন হবেই বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ত্রিপুরায় এসে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জনসভাকে সম্বোধিত করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, "ত্রিপুরা সুন্দরী দেবীর ভূমিকে প্রণাম করি। ত্রিপুরার ইতিহাস গৌরবময়। ত্রিপুরার মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। দেশের সঙ্গে ত্রিপুরা বিলয়ের পরেও রাজাদের ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ভাগ্য ছিল আমাদের যে বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের অকালে পৃথিবী থেকে চলে গেলেন। আর এই সময়ই সুযোগ সন্ধানীরা সক্রিয় হয়ে উঠে।"
তিনি বলেন, "আগে থেকে জানা ছিল পশ্চিমবঙ্গে এক জাদুকর রয়েছেন। তিনি জাদুকর সরকার। কিন্তু ত্রিপুরায় গোপনে জাদু চালানোর আরেক সরকার ছলচাতুরী করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।" সরাসরি নাম না-নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে উদ্দেশ্য করে তীব্র কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "তিনি উপর দিয়ে খুব স্বচ্ছ, সাদাসিধে লোক, সাদা পোশাক পড়েন। উপর দিয়ে দেখা যায় খুব ভালো মানুষ। কিন্তু অন্তরটা কালো, অন্ধকারে ঢাকা। আর তাই রাজ্যকে অন্ধকারের যুগে নিয়ে রেখেছেন। তাই বার এই রাজ্যকে অন্ধকারের যুগ থেকে বের করে বিকাশের যুগে নিয়ে যেতে হবে।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "লোকতন্ত্র বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কমিউনিস্টরা যেখানেই ক্ষমতায় আছে, সেখানেই লোকতন্ত্রকে লাঠি দিয়ে চালানোর চেষ্টা করে। পশ্চিমবঙ্গে তাই হয়েছে। এখন ত্রিপুরা এবং কেরালায় তাই চলছে। বিরোধীদের ন্যূনতম অধিকার কেড়ে নেওয়া চেষ্টা হয়। এমন-কি বেঁচে থাকার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়।" এ ধরনের পরিস্থিতি মানুষকে এক অসীম যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। ত্রিপুরার মানুষ এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে লড়াইয়ে নেমেছেন। ত্রিপুরার মানুষের সঙ্গে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। আর এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন অবশ্যই হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন