আগরতলা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সরব প্রচারের শেষে রাজ্য বিজেপির সভাপতি বিপ্লব কুমার দেব সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সম্ভাব্য জয় নিয়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে আজ তার বক্তব্যে ছিল যথেষ্ট ইঙ্গিত পূর্ণ এবং আবেগ বিজড়িত।
রাজ্যের বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা যিষ্ণু দেববর্মাকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বিপ্লব কুমার দেব রাজ্যের সমস্ত সাংবাদিকদের কাছে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি অকপটে বলেন, "সরাসরি রাজনীতিতে তেমন কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে দিল্লিতে থাকার ফলে পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সান্নিধ্য লাভ হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয় গুলি সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করার অনুভব ছিল। কিন্তু সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না। দুই বছর নয় মাস আগে পার্টির দায়িত্ব দিয়ে ত্রিপুরায় পাঠায় দল । পরে পার্টির রাজ্য সভাপতিও করেছে। তবে রাজ্যের মানুষই নেতা বানিয়েছেন। আর এই ক্ষেত্রে রাজ্যের সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল সব থেকে বড়। রাজ্যের সাংবাদিকরা বিরলতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ত্রিপুরায় বিজেপির উত্থানের আগে এই রাজ্যে সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ বিরোধী দল এবং মানুষের কথা প্রকাশ্যে আনার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখন শুধুমাত্র তাদের সহায়তায় বিজেপি ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। রাজ্যের মানুষ এবং সাংবাদিকদের এত বড় ভূমিকা বিজেপির কোন নেতা কর্মী কখনই ভুলবে না"।
তিনি বলেন, "বিজেপির জয় সুনিশ্চিত। তবে এই রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে সিপিআইএম এর লড়াই হচ্ছে না। এরাজ্যে মানুষের সঙ্গে সিপিআইএম এর লড়াই হচ্ছে। রাজ্যের ৩৭ লক্ষ মানুষ বিজেপিকে অবলম্বন করে স্বৈরাচারী শাসন আর বাম-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ দুটি জনসভায় উপস্থিতি তা প্রমাণ করে দিয়েছে"।
তিনি বলে, "সিপিআইএম এখন অপপ্রচার শুরু করেছে। জনগণকে ভয় দেখাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে তারা ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে সিসিটিভির মাধ্যমে কাকে কে ভোট দিচ্ছে তা তারা জেনে ফেলবে। ভিবি প্যাড থেকে কে কাকে ভোট দিয়েছে তার স্লিপ স্থানীয় বাম নেতাদের দেখাতে হবে এসব বলা হচ্ছে। যদিও কোন স্লিপ কারোর হাতে আসবে না। সিসিটিভিতে কিছু ধরাও পড়বেনা। এই প্রথম কোন শাসক দল এই ভাবে অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা দেশের কোথাও ইতিপূর্বে হয়নি"।
তিনি বলেন, "সিপিআইএম এর অপশাসন শেষ হতে চলেছে। তবে এর জন্য বিজেপি কোন ভাবেই সাফল্যের দাবি করে না। রাজ্যের জনগণ এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা নিচ্ছেন। মানিক সরকার, বিজন ধর এবং গৌতম দাস সিপিআইমের এই তিনি মূর্তি এখনও উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। কিন্তু তাদের কারণেই এই দল এখন বিপর্যয়ের মুখে এসে ঠেকেছে। তাদের পরিণতির জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। এর জন্য বিজেপি কোন ভাবেই দায়ী নয়"।
তিনি আরও বলেন, "বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়া মাত্রই সরকারী কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশন, শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি, ৪লক্ষ ৪০ হাজার বিভিন্ন ধরনের ভাতা ভোগীদের কমপক্ষে ২ হাজার ভাতা প্রদান, বেকারদের কর্মসংস্থান ইত্যাদি বিষয় সুনিশ্চিত করা হবে। সবাইকে সরকারী চাকরি দেওয়া সম্ভব না। কিন্তু কর্মসংস্থানের উপযুক্ত ব্যবস্থা অবশ্যই করা হবে। বিজেপি জনতার রায় মাথা পেতে নেবে। ত্রিপুরার মানুষ কি চাইছে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। এখন আর কোন বাধা বা প্ররোচনা কিছুই বিজেপির জয় আটকাতে পারবেনা"।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "কিছু আধিকারিক এখনও বিস্তর অভিযোগ সত্ত্বেও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন, অনিয়মে লিপ্ত রয়েছেন। তবে তারা কিছুই করতে পারবেন না। যা হচ্ছে ভালই হচ্ছে। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন। তবে সাধারণ প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কর্মচারী এবং আধিকারিকদের মধ্যে ৯০ শতাংশ এখন সবার স্বার্থে পরিবর্তন চাইছে। ফলে কোন ধরনের অপচেষ্টা বিজেপির পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারবেনা"।
উল্লেখ করা যেতে পারে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভা এবং পার্টির তারকাদের প্রচারে জনোচ্ছাসের দৃষ্টান্ত ইতিপূর্বে কখনই রাজ্য রাজনীতিতে পরিলক্ষিত হয়নি। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সরব প্রচারে শুক্রবারই ছিল শেষ দিন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন