ভয় মুক্ত ভোট করাতে ত্রিপুরায় কড়া নিরাপত্তা - Aaj Bikel
ভয় মুক্ত ভোট করাতে ত্রিপুরায় কড়া নিরাপত্তা

ভয় মুক্ত ভোট করাতে ত্রিপুরায় কড়া নিরাপত্তা

Share This

আগরতলা: রাজ্যের ক্রমাগত রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক কড়া বার্তা দিলেন। একেই সঙ্গে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ (সিআরপিএফ)'র এক ডিআইজিকে সশস্ত্র বাহিনীর মোতায়েন, পরিচালনা এবং তাদের ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে যাবতীয় দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এখন কেন্দ্রীয় বাহিনীই মুখ্য ভূমিকা নেবে।


রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অখিল কুমার শুল্ক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, "১৮ ফেব্রুয়ারি ভোট প্রক্রিয়া। আর একে সামনে রেখে কোনও ধরনের উশৃঙ্খল আচরণকারীদের কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবেনা। সমগ্র রাজ্যে উপযুক্ত সংখ্যক সুরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইনকে নিজের হাতে নিলে, সে যে কেউই হোক সুরক্ষা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আইন ভঙ্গ কারিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেওয়া হবে"।

তিনি বলেন, "নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ রাখার জন্য ইতিমধ্যেই ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা হয়েছে। অস্বাভাবিক কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কিংবা অবাঞ্ছিত কোন ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ সেখানে ছুটে যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সুরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবে। আর এর পরিপন্থী কোন কাজ করলে পুলিশ কর্মী কিংবা আধিকারিকদেরও রেহাই দেওয়া হবেনা। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবেই দায়িত্ব পালন করতে হবে"।

তিনি জানান, "সাধারণ মানুষ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখামাত্র ১৫১০৩ টোল-ফ্রি নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানালে কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত সেখানে ছুটে যাবে। রাজ্যে কর্মরত সমস্ত সুরক্ষা বাহিনী গুলিকে সর্তক রাখা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ইতিমধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত সিল করে দিয়েছে। একেই সঙ্গে অসম ও মিজোরামের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সীমান্তের উভয় দিকে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে এবং আগরতলায় প্রবেশের প্রত্যেকটি পথে যান বাহন চ্যাকিং করা হচ্ছে"।

তিনি বলেন, "নির্বাচনের সরব প্রচার শেষ হওয়ার পর বহিরাগতদের থাকতে দেওয়া হবে না। তবে কেন তারা রাজ্যে এসেছেন এবং রাজ্যে আসার কারণ যাচাইয়ের পরই তাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সুনিশ্চিত করা হবে কোন নির্দিষ্ট ভোট কেন্দ্রের বাইরের লোক যাতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচনী কাজকে প্রভাবিত করতে না পারে। তা সুনিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমস্ত হোটেল এবং লজ গুলিতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে"।

তবে পুলিশ মহানির্দেশকের সঙ্গে বসে থাকা সিপিআরপিএফ'র এক আধিকারিকের সঙ্গে পরিচয় করে দিয়ে পুলিশ মহানির্দেশক বলেন, "সিআরপিএফ ডিআইজি বিজয় কুমার রাই সশস্ত্র বাহিনীর নোডাল অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাজ্যে পুলিশের সমস্ত আর্মফোর্স এবং বহিঃরাজ্য থেকে আগত কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর
জওয়ানদের মোতায়েন, ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালন এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের যাবতীয় দায় দায়িত্ব তিনিই পালন করবেন। নির্বাচনী কাজের নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব সিআরপিএফ এর ডিআইজির কাছেই থাকছে"।

রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের এর অতিরিক্ত সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নরেই সরাসরি কোন উত্তর দেননি এবং সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত বিষয় গুলি থেকে নিজেকে সম দূরত্বে রাখার চেষ্টা করেন। তবে এত দিন ধরে কেন পুলিশকে নিরপেক্ষ রাখা হলনা এই প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ মহানির্দেশক বলেন, "চেষ্টা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্র অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এখন সরাসরি নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিআরপিএফের কাছে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষতা বজায় না রাখলে কর্তৃপক্ষ যেকোনো আধিকারিকের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে"।

কোন মন্তব্য নেই: