আতঙ্ক বাড়ছে দক্ষিণ কলকাতায় জলবাহিত রোগের সংক্রমণ নিয়ে - Aaj Bikel
আতঙ্ক বাড়ছে দক্ষিণ কলকাতায় জলবাহিত রোগের সংক্রমণ নিয়ে

আতঙ্ক বাড়ছে দক্ষিণ কলকাতায় জলবাহিত রোগের সংক্রমণ নিয়ে

Share This


কলকাতা : দক্ষিণ কলকাতায় জলবাহিত রোগের সংক্রমণ নিয়ে ভিন্ন মত মেয়র ও স্বাস্থ্য দফতরের৷ আবহাওয়ার পরিবর্তন থেকে ডায়েরিয়া বলে দাবি মেয়রের৷ সেই তত্ত্ব খারিজ করলেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা৷ তাঁর মতে, “এই ধরনের রোগ জল বাহিত”৷

এদিকে, এই রোগ এলাকায় আরও ছড়ানোর জন্য আতঙ্ক দেখা দিয়েছে৷ মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় কাল ভরসা দিয়েছিলেন, সবাই যেন পুরসভার জল পান করেন৷ কিন্তু আজ এক স্বাস্থ্যকর্তা বললেন, “কী কারণে এই রোগ হল পরীক্ষা হচ্ছে”৷ আক্রান্ত এলাকার জল খেতে নিষেধ করেন ওই স্বাস্থ্যকর্তা৷ প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷

মেয়র বলেন, “একটা সাধারণ বা নির্দিষ্ট এলাকার অভিযোগ হলে সেটা বন্ধ বা কারণ চিহ্নিত করার চেষ্টা করা যেত৷ নমুনা পরীক্ষায় কোনও খারাপ কিছু মেলেনি৷ এখনও মনে করি এই জল নিরাপদ৷ অহেতুক কোনও ধারণা থেকে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে৷ অসুস্থের সংখ্যাও বেশি নয়৷ তবে, যেটা হয়েছে, বাঞ্চনীয় নয়৷” অন্যদিকে, পুরসভার এক স্বাস্থ্যকর্তা এ দিন বলেন, “অহেতুক ঝুঁকি নেবেন না! হ্যালোজেন দিয়ে শোধন করে বা জল ফুটিয়ে পান করবেন!”

এ ব্যাপারে কলকাতা পুরসভার ডিজি (জল সরবরাহ) বিভাস মাইতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে এই প্রতিবেদককে বলেন, “কিচ্ছু বলব না৷ যা প্রশ্ন করার, মেয়রের কাছে জানতে চান!” কৌশলে বক্তব্য এড়ালেন মেয়র পারিষদ স্বাস্থ্য অতীন ঘোষও৷ তিনি বলেন, ‘‘রিপোর্ট না এলে কীভাবে জল খেতে বারণ করব? ডায়েরিয়ার প্রকোপ আগের থেকে কমেছে৷ জলের সব চেক আপ পয়েন্ট পরীক্ষা হয়েছে৷ বিভিন্ন বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে৷ সব সোর্স পয়েন্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে৷ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ তাই অল্প সমস্যাতেই চিকিৎসকের কাছে ছুটছেন৷”

এদিকে, বমি, পেটে অসহ্য যন্ত্রণা আর বারবার মলত্যাগ। উপসর্গ কমবেশি একই। বাঘাযতীন, বৈষ্ণবঘাটা, পাটুলি, রামগড়-সহ দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরে ঘরে ছড়াচ্ছে ডায়েরিয়া। প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শিশু বাদ যাচ্ছেন না কেউই। ক্রমশ বাড়ছে অসুস্থের সংখ্যা। বাড়ছে পানীয় জল কেনার ভিড়। দক্ষিণ শহরতলীতে পূর্ব যাদবপুরের সন্তোষপুরে পানীয় জলে পোকা দেখা দেওয়ায় ওই তল্লাটে আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ বাড়ি-বাড়ি এই জল সরবরাহ করে পুরসভা৷

সার্ভে পার্ক থানা এলাকার এই অংশে কীভাবে পানীয় জলে মিলছে পোকা, উত্তর খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরী হচ্ছে এলাকাবাসীর৷ স্থানীয় অর্থাৎ ১০৩ ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর নন্দিতা রায় ‘হিন্দুস্থান সমাচার’কে এ দিন বলেন, “হাসপাতালে যাওয়ার মত না হলেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে | ক্যানেল রোড, লেক ইস্ট সিক্সথ রোড, ইস্ট রাজাপুর- এ সব এলাকায় আতঙ্ক বেশি৷ আমরা হ্যালোজেন পাইনি৷ তবে, ওআরএস দিচ্ছি৷ গতকাল লেক ইস্ট সিক্সথ রোডের একটি বাড়ি এবং লাগোয়া স্ট্যান্ডপোস্টের জলে পোকা পাওয়া গিয়েছে৷ এর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷”

দক্ষিণ কলকাতায় গড়িয়া, পাটুলি, বৈষ্ণবঘাটা, ঢাকুরিয়াতেও ছড়াচ্ছে রোগ। রোগীদের বেশ কয়েক জন বাঘাযতীন হাসপাতালে ভর্তি। বেড না থাকায় অনেককেই ইনজেকশন,ওষুধ দিয়ে ফেরানো হচ্ছে৷ পুরসভার সরবরাহ করা জল খেতে ভয় পাচ্ছেন অনেকেই। সেলিমপুর, হালতুর মতো অঞ্চলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বেশ কয়েকজনকে। যত বেলা গড়িয়েছে ততই ভিড় বেড়েছে পুর-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে। দোকানে দোকানে মিনারেল ওয়াটার কেনার ভিড়। রোগ প্রবণ ওয়ার্ডগুলিতে চড়ছে জলের দাম।

দক্ষিণ কলকাতার ১০১ থেকে ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডেই আন্ত্রিকের প্রবণতা বেশি। ৯২ নম্বর ওয়ার্ডেও আন্ত্রিকে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। সূত্রের খবর, গত তিনদিনে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবারও শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বেশ কিছু আক্রান্ত। আগামী ২ - ৩ দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা পুরসভার। তবে এই ধরণের পরিস্থিতি রুখতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে খোদ কলকাতা পুরসভাতেই। এই ঘটনায় তা আরও একবার প্রমাণিত।

কোন মন্তব্য নেই: