ঝাড়্গ্রাম : বাঘের আতঙ্কে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল লালগড় ব্লকের পড়ডিহা শিশুশিক্ষা কেন্দ্র। সোমবার বিকেলে একটা বাছুরকে খেয়ে ফেলল জঙ্গলের বন্য জন্তু। এই ঘটনার জেরে লালগড়ের জঙ্গল লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামে নেকড়ে বাঘের আতঙ্কে ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে সোমবার লালগড় থানার পাথরপাড়া গ্রামের লাগোয়া জঙ্গলে চড়তে গিয়ে একটি সদ্যজাত বাছুর বন্য জন্তুটির আক্রমনের শিকার হয়।আরএই ঘটনার পর বনদফতর মঙ্গলবার পড়ডিহা জঙ্গলে ছাগলের টোপ দিয়ে খাঁচা বসিয়ে বন্যজন্তুটি ধরার প্রক্রিয়া শুরু করল।বনদফতর প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযিয়া জন্তুটির শেষ হদিশ মিলেছি্ল লালগড়া রেঞ্জের পড়ডিহার জঙ্গলে। তাই এবার জন্তুটিকে হাতেনাহাতে ধরতে জঙ্গলে টোপ দিল বনদফতর
। সোমবার সন্ধ্যায় বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে পাথরপাড়া গ্রামের গ্রামের একটি সদ্যজাত বছুর জঙ্গলে চড়তে গিয়েছিল। বাছুরটির চিৎকারে যতক্ষনে গ্রামের লোকেরা সজাগ হয়ে জঙ্গলে গিয়েছেন ততক্ষনে সবই শেষ হয়ে গিয়েছিল। রক্ত,কিছু মাংস পড়ে ছিল জঙ্গলে। জন্তুটির দেখা মেলেনি।
উল্লেখ্য গত আট ফেব্রুয়ারি ট আমলিয়া গ্রামের লাগোয়া জঙ্গলে আক্রান্ত হয়েছিল গ্রামের চারটি গরু। জন্তুটির আক্রমনে গরুগুলি ক্ষত বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। শরীরের বিভিন্ন জায়গার মাংস খুবলে খয়েছিল ।ওই দিন থেকে গ্রামের বঙ্গেশ্বর মাহাতোর আরো তিনটি গরুর খোঁজ এখনো মেলেনি। সোমবার বিকেলের ঘটনার পর লালগড় রেঞ্জের জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এলাকার পড়ডিহা শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটি এদিন বন্ধ ছিল বলে বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। গত আট দশ দিন ধরে লালগড়ে বিভিন্ন গ্রামে নেকড়ে বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছে।অনক স্থানীয় মানুষ মনে করছে জন্তুটি লেপার্ড। প্রথম দিকে জন্তুটির বড় বড় পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছিল।এক জঙ্গল থেকে আরেক জঙ্গলে মিলে চলেছিল পায়ের ছাপ। বনদফতর সেই পায়ের ছাপ সংগ্রহ করেছে। প্রথম থেকেই বনদফতর অনুমান করে আসছে জন্তুটি হায়না। পরে আট ফেব্রুয়ারি প্রথম জন্তুটি আক্রমন হানে এবং আমলিয়া গ্রামের চারটি গরু কে আক্রমান চালিয়ে ব্যাপক ক্ষত বিক্ষত করেছিল। সে যাত্রায় গরু গুলি বেঁচে গেলেও এবার জন্তুটি খেয়ে ফেলল একটি আস্ত বাছুর কে। সোমবার বিকেলের এই ঘটনার পর বনদফতরের পক্ষ থেকে আবার এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়েছে। মাইকিং এ সাবধান করা হয়েছে মানুষজনকে। সন্ধ্যা বেলায় গবাধি পশু গুলিকে জঙ্গলে চড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। ছোট বাচ্চাদেরও জঙ্গলে যেতে মানা করা হয়েছে। অন্য দিকে বনদফতর আমলিয়া গ্রাম সংলগ্ন পড়ডিহি এলাকায় দ্বিতীয় আরেক জন প্রত্যক্ষদর্শী পেয়েছে। এই প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানেও উঠে এসেছে জন্তুটি হায়না হওয়ার সম্ভাবনার কথা।বনদফতর জানিয়েছে ওই বয়ান অনুযায়ি জন্তুটির ধুসর রং এবং গায়ে কালো ছাপ রয়েছে। তাছাড়া আমলিয়া গ্রামে গরুর গায়ে যে ধরনের চোয়ালের দাগ দেখা গিয়েছিল তাও হায়নার চোয়ালের মতোই বলে জানিয়েছে বনদফতর।সব মিলিয়ে লালগড় রেঞ্জর জঙ্গল লাগোয়া
আমলিয়া,বীরকাড়,আমডাঙা,বড়পেলিয়া,নতুনডিহি,তাড়কি,রাঙামেটিয়া,পূর্নপানি,করমশোল,চাঁদাবিলা,ঠাকুরপাড়া,ভুলাগেড়িয়া,কাটাপাহাড়ি,মেলখেড়িয়া,পশাবাঁধ,হাউলিয়া,কুমারবাঁধ,লকাট প্রভৃতি গ্রামে ব্যাপকভাবে নেকড়েবাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে। অন্যদিকে বনদফতর হন্যে হয়ে খুঁজছে ওই জন্তুটিকে। কিন্তু দশ বারো দিনে বন্য ওই জন্তুটির অস্তিত্ব বিভিন্ন ঘটনায় বোঝা গেলেও এখনো ধরা যায়নি।লালগড় পঞ্চায়েত সমিতির বন ভূমি কর্মাধ্যক্ষ উদয় শঙ্কর রায় বলেন “ আশঙ্কা করা হচ্ছে জন্তুটি যথেষ্ট ক্ষিপ্ত। কারন বড় গরুকেও আক্রমন করেছে। তাই আমরা বনদফতরের সাথে একযোগে এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলছি।জন্তুটির দেখা মিললে বনদফতরকে খবর দেওয়ার কথা বলছি গ্রামবাসীদের। এদিকে মেদিনীপুরের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “ একটি বাছুরকে খেয়ে ফলেছে জন্তুটি। আমরা এলাকার মনুষকে সাবধানে থাকতে বলেছি। সন্ধ্যার পর জঙ্গলে গবাধি পশু গুলিকে পাঠাতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ি নব্বই ভাগ নিশ্চিত যে জন্তুটি হায়না। আমরা পড়ডিহা জঙ্গলে ছাগলের চোট দিয়ে খাঁচা বসাচ্ছি। আশা করা যায় জন্তুটি ধরা পড়বে।”
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন