বালুরঘাট : বাংলাদেশের মোহনপুরা বাঁধ থেকে জল ছাড়ায় মাথায় হাত পড়েছে আত্রেয়ীর পাড়ে চাষ করা তরমুজ ও শশা চাষীদের। বৃহস্পতিবার সকালে জলে ভরে যায় আত্রেয়ী নদীর চরের একাংশ। ফলে চরে চাষ করা তরমুজ ও শশা জলের তলায়।
প্রতিবছর জেলার মাহিনগর থেকে সমজিয়া পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার চর এলাকায় কয়েক হাজার চাষী সবজির পাশাপাশি এসবের চাষ করেন। আত্রেয়ী নদীর সামান্য জলের উপর নির্ভর করেই নদীর চরে চলে চাষাবাদ। কিন্তু সোমবার সকালে আচমকাই জলে ভরে যায় এই এলাকাগুলি। জানা যায়, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ থানার সীমান্ত এলাকা সমজিয়া থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের মোহনপুরা এলাকায় আত্রেয়ী নদীতে যে নদীবাঁধ দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেই ছাড়া জলে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
কোনোরকম আগাম খবর ছাড়াই এভাবে জল ছাড়াই মাথায় হাত পড়েছে এলাকায় চাষ করা লোকজনের। তাদের আশঙ্কা কয়েক লক্ষ টাকার ফসল নষ্ট হয়ে যাবে এই জল ছাড়ার ফলে। একসময় সারাবছর জলে ভরে থাকত নদী আত্রেয়ী। গত দুবছর ধরে বর্ষার সময় ছাড়া বাকি সারাবছর আত্রেয়ী নদী শুকিয়ে কাঠের চেহারা নেয়। এরপরেই স্যাটেলাইট মারফৎ জানা যায়, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সীমান্ত থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের মোহনপুরা এলাকায় আত্রেয়ী নদীতে বাঁধ দিয়ে ওই এলাকার লোকজন সারাবছর চাষাবাদ করছেন। বিষয়টি নিয়ে লাগাতার আন্দোলনের পরে তা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আসে।
তিনিও দিল্লীতে কেন্দ্রীয় জলমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এমনকি বাংলাদেশ সরকারকেও এ নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু এদিন বাংলাদেশ থেকে জল ছাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের এই অভিযোগ ফের স্পষ্ট হল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিবেশপ্রেমী বিশ্বজিৎ বসাক জানান, এভাবে অনিয়মিত জল ছাড়ার ফলে আত্রেয়ী নদীর চরে চাষাবাদকারী কয়েক হাজার কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাদের দাবি, মোহনপুরার নদীবাঁধ তুলে দিলেই এই সমস্যা মিটবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন