কলকাতা : মমতা বন্দ্যোপাধায় পাহাড়ে যে শান্তি দেখছেন, তা আসলে শ্মশানের শান্তি । বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ । তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষের মনে আগুন জ্বলছে । উনি পাহাড়ের সমস্যার সমাধান করতে পারতেন না । সদিচ্ছা থাকলে পাহাড়ের সমস্ত পার্টির নেতাদের সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করুন এবং পশ্চিম বাংলার সমস্ত পার্টির নেতাদের সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করুন । যাতে স্থায়ী সমাধান হয় । তা না হলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই সমস্যা থাকলে পশ্চিমবঙ্গ বিপদের মধ্যে পরে যাবে ।
বৃহস্পতিবার দিলীপ ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধায় পাহাড়ে আট মাস ধরে যাবার সাহস করলেন না । কারণ, তিনি গুরুং ও তাঁর দলকে হুমকি দিয়ে ছিলেন । স্বাভাবিক ভাবেই তারা পালটা হুমকি দিয়ে ছিল । তাঁর দলকে মিলিটারির গাড়িতে নেমে আসতে হয়েছিল । তারপরে তার কোনও নেতা মন্ত্রী কারও যাবার সাহস হয় নি । আমি সেই সময় পাহাড়ে গিয়ে ছিলাম পাহাড়ের লোকদের সঙ্গে দেখা করতে । আমার পিছনে গুন্ডা লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল । পাহাড়ে কি উন্নতি হয়েছে এত বছর, সেটা নিয়ে চিন্তার বিষয় আছে । সেই ঘটনা চক্রবৎ ঘুরছে । ঘিসিংয়ের সঙ্গে যে রকম হয়েছিল ।
তাঁর মতে, ঘিসিং বামফ্রন্টের সময় আন্দোলন করে বড় সাফল্য পেয়েছিলেন । তাঁর সঙ্গে বামফ্রন্ট যে ব্যবহার করেছিল, এখন গুরুং এর সঙ্গে সেই ব্যবহার করা হচ্ছে । তিনিও আন্দোলনের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট করেছিলেন । বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল । তাতে পাহাড়ের কোনও লাভ হয়নি । আজকে তিনি পাহাড়ে হিরো হয়ে গেলেন । যিনি একদিন দেশদ্রোহী ছিলেন । আজকের দিনে পাহাড়ে যিনি লড়াই করছেন বিমল গুরুং, তাকে এখন দেশদ্রোহী সাজানো হচ্ছে । তারই সহকর্মী বিনয় তামাং বা অন্যান্যরা রাস্তায় নেমে ঘর পুড়িয়েছেন ।
বিমল গুরুং তো আর রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেন নি । তখনকার হিংসাত্মক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিনয় তামাং । তারা আজকে হিরো । কেননা তারা তৃণমূলের ছাতার তলায় আত্মসমর্পণ করেছেন । দিদির আঁচলের তলায় মুখ লুকিয়েছেন । তাই তারা আজকে পুরস্কৃত । অথচ, একই দোষে দোষী বিমলকে বাংলা ছাড়া করা হচ্ছে । আর যারা তার চেয়েও ভয়ঙ্কর,তাদের পুরস্কৃত করে সরকারি পদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ মমতা বন্দ্যোপাধায় পাহাড়ের হাসি শুনতে চাইছেন । কিন্তু গত আট মাস সেখানে সাধারণ মানুষ কি কষ্ট পেয়েছেন । তখন উনি কোথায় ছিলেন । ব্যবসা নেই, স্কুল কলেজ বন্ধ । ইন্টারনেট বন্ধ । তখন তো কোনও নেতা খোঁজ নিতে যান নি । উত্তর বঙ্গের নেতারাও সাহস করেন নি । আজ পুলিশ দিয়ে জোর করে সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে এসে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে ওখানে শান্তি আনার চেষ্টা করছেন । তিনি যদি মনে করে থাকেন সাময়িক ভাবে ওখানে শান্তি দেখছেন, তাহলে সেটা শ্মশানের শান্তি ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন