প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রিসমিতির বৈঠকে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে খাদ্যশস্য ও চিনি বাধ্যতামূলকভাবে চটের বস্তায় প্যাকেজিংয়ের নিয়ম সম্প্রসারণ অনুমোদিত হয়েছে৷ এই সিদ্ধান্তের ফলে পাটশিল্পের মূল চাহিদা অব্যাহত থাকবে এবং এই ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিক ও কৃষকদের জীবন-জীবিকা অক্ষুণ্ণ থাকবে৷ উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষ ২০১৭ সালের ১ জুলাই শুরু হয়ে ২০১৮র ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে৷
বৈশিষ্ট্য:
১) অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রিসমিতি (সিসিইএ) চটের বস্তায় বাধ্যতামূলক প্যাকেজিংয়ের নিয়মের মেয়াদ বাড়িয়েছে জুট প্যাকেজিং মেটেরিয়াল (জেপিএম)আইন, ১৯৮৭’র আওতায়৷
বৈশিষ্ট্য:
১) অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রিসমিতি (সিসিইএ) চটের বস্তায় বাধ্যতামূলক প্যাকেজিংয়ের নিয়মের মেয়াদ বাড়িয়েছে জুট প্যাকেজিং মেটেরিয়াল (জেপিএম)আইন, ১৯৮৭’র আওতায়৷
২) এই অনুমোদন অনুযায়ী, উৎপন্ন খাদ্যশস্যের ৯০ শতাংশ এবং চিনি ও ঐ সংক্রান্ত উৎপাদনের ২০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে চটের বস্তায় প্যাকেজিং করতে হবে৷
৩) এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রাথমিকভাবে খাদ্যদ্রব্যপ্যাকিংয়ের সমস্ত চাহিদার পুরোটাই চটের বস্তায় করতে হবে আর এর ফলে খাদ্য শস্যের ১০০ শতাংশই চটের বস্তায় প্যাকিং বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে পাটশিল্পের এই চাহিদা মেটানোর সাপেক্ষে৷
প্রভাব:
মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষক ও শ্রমিক বিশেষত–পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওডিশা, আসাম, অন্ধ্রপ্রদেশ, মেঘালয় ও ত্রিপুরার মানুষজন উপকৃত হবেন৷
পাটশিল্পে গতি সঞ্চার করতে সরকারের নেওয়া ব্যবস্থাগুলি
পাটশিল্প প্রধানত সরকারি ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল কেননা, সরকার প্রতি বছর সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পাটজাত দ্রব্যাদি কিনে থাকে৷ পাট ক্ষেত্রের ওপর প্রায় ৩লক্ষ ৭০ হাজার শ্রমিক ও ৪০ লক্ষ কৃষকের ভাগ্য নির্ভর করে থাকে এবং এই বিবেচনায় সরকার পাটক্ষেত্রের বিকাশে সুসমন্বিত প্রয়াস গ্রহণ করে চলেছে কাঁচা পাটের গুণমান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, পাট ক্ষেত্রের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা বাড়ানো ও তা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে৷
প্রভাব:
মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষক ও শ্রমিক বিশেষত–পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওডিশা, আসাম, অন্ধ্রপ্রদেশ, মেঘালয় ও ত্রিপুরার মানুষজন উপকৃত হবেন৷
পাটশিল্পে গতি সঞ্চার করতে সরকারের নেওয়া ব্যবস্থাগুলি
পাটশিল্প প্রধানত সরকারি ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল কেননা, সরকার প্রতি বছর সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পাটজাত দ্রব্যাদি কিনে থাকে৷ পাট ক্ষেত্রের ওপর প্রায় ৩লক্ষ ৭০ হাজার শ্রমিক ও ৪০ লক্ষ কৃষকের ভাগ্য নির্ভর করে থাকে এবং এই বিবেচনায় সরকার পাটক্ষেত্রের বিকাশে সুসমন্বিত প্রয়াস গ্রহণ করে চলেছে কাঁচা পাটের গুণমান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, পাট ক্ষেত্রের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা বাড়ানো ও তা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে৷
এইসবের মধ্যে রয়েছে
১) পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা বাড়ানোর জন্য ভারত সরকার বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে পাটজাত দ্রব্য আমদানির ওপর সুনির্দিষ্ট অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি ধার্য করেছে ২০১৭’র ৫ জানুয়ারি৷ এই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে অন্ধ্রপ্রদেশের ১৩টি টোয়াইন মিল আবার চালু হয়েছে এবং তার ফলে ২০ হাজার শ্রমিক উপকৃত হয়েছেন৷ এছাড়া, এই সুনির্দিষ্ট-অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি ধার্য করার ফলে দেশের পাটশিল্পে ঘরোয়া বাজারে ২ লক্ষ-মেট্রিক টন পাট দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে৷
২) উৎপাদনশীলতা ও কাঁচা পাটের গুণমান বাড়াতে জুট আই কেয়ার নামে এক ব্যবস্থার দ্বারা সরকার প্রায় ১ লক্ষ পাটচাষির কাছে উন্নত মানের কৃষি সংক্রান্ত কৃতকৌশল পৌঁছে দিচ্ছে আর সেই সঙ্গেই হেক্টর পিছু পাট চাষিদের আয় প্রায় ১০ হাজার টাকা হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে৷
৩) পাট চাষিদের সহায়তার জন্য জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়াকে ২০১৪-১৫ সাল থেকে ৪ বছরের জন্য ২০৪ কোটি টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ন্যূনতম সমর্থন মূল্যে পাট সংগ্রহের কাজ চালু রাখতে পারে আর পাট শিল্পে মূল্য সংক্রান্ত স্থিতিশীলতা আসে৷
৪) পাট ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বাড়াতে ন্যাশনাল জুট বোর্ড ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফডিজাইনের সঙ্গে সহযোগিতায় আবদ্ধ হয়েছে এবং গান্ধীনগরে একটি জুট ডিজাইন সেল খোলা হয়েছে৷
৫) বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সঙ্গে পাট সংক্রান্ত তন্তু ও কৃষিজ তন্তুর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে, বিশেষত, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আর সেই সঙ্গে সড়ক পরিবহণ ও জলসম্পদ দফতরের সঙ্গেও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷
৬) পাট ক্ষেত্রে কাজকর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জুট স্মার্ট নামে একটি বৈদ্যুতিনপ্রয়াসের সূচনা হয় ২০১৬’র ডিসেম্বরে৷ সরকারি সংস্থাগুলি যাতে বি-টুইল বস্তা সংগ্রহ করার একটিমাত্র অবিভক্ত উপায় পেতে পারে, তারজন্য এই ব্যবস্থা৷ এছাড়া, জেসিআই ন্যূনতম সমর্থনমূল্যে পাট ক্রয়ের পর কৃষকদের দেয় অর্থের ১০০ শতাংশই অনলাইনে পাঠায়, যার দ্বারাও এই স্বচ্ছতা বজায় থাকে৷
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন