রাত পোহালেই উপনির্বাচনের ফলাফল - Aaj Bikel
রাত পোহালেই উপনির্বাচনের ফলাফল

রাত পোহালেই উপনির্বাচনের ফলাফল

Share This


কলকাতা  : জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শাসক পক্ষ, বিরোধীরা তুলছেন বুথ রিগিংয়ের অভিযোগ৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই জোড়া উপনির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলির শক্তি পরীক্ষার মঞ্চ৷ উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্র ছিল তৃণমূলের দখলে ৷ ভোট বাড়ানোই এখানে লক্ষ্য ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। জেতার ব্যাপারে তাঁরা এক সরকম নিশ্চিত৷
অন্যদিকে, তৃণমূলের দখলে থাকা ওই আসন জয়ের স্বপ্ন দেখছে সিপিএম, বিজেপি ও কংগ্রেস। ১ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আগামীকাল গণনা ও ফলপ্রকাশ৷

গত ২৯ জানুয়ারি উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রে ও নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে হয় উপনির্বাচন ৷ বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি ছাড়া নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছে রাজ্যের জোড়া উপ নির্বাচন। উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালীন গঙ্গারামপুরে সংঘর্ষে জড়ায় বিজেপি ও তৃণমূল। হামলার অভিযোগ তুলে পথ অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। অন্যদিকে, ছাপ্পাভোটের অভিযোগ তুলে নোয়াপাড়ার ২৭৩টি বুথেই পুনর্নিবাচনের দাবি তোলে বিরোধীরা।

২০১৪ সালে এই আসনে জয়ী হন সুলতান আহমেদ। তাঁর অকালমৃত্যুর পর এবার প্রার্থী তাঁর স্ত্রী সাজদা আহমেদ। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া এখানে ভোট শেষ হয় নির্বিঘ্নেই। অভিযোগ-পালটা অভিযোগে মাঝে মাধেই উত্তাপ ছড়ায় উদনারায়ণপুর, আমতা, উলুবেড়িয়া পূর্বে। বিজেপি -তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গঙ্গারামপুরের ১৯৬ নম্বর বুথ। তৃণমূল কাউন্সিলর ইনামূর রহমানের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে পথ অবরোধ শুরু করেন বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। অবরোধ তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে বিজেপি প্রার্থীর সামনেই গ্রেফতার করা হয় তাঁর ডান হাত মোহন রানাকে।

২০১৪ সালের ভোটে সুলতান আহমেদ (তৃনমূল কংগ্রেস) - ৫৭০৭৮৫ ভোট পেয়েছিলেন. সিপিএমের সাবিরুদ্দিন মোল্লা পেয়েছিলেন ৩৬৯৫৬৩ ভোট৷ বিজেপি-র রঞ্জিত কিশোর মোহান্তি ১৩৭১৩৭ ভোট এবং কংগ্রেসের অসিত মিত্র ৬৭৮২৬ ভোট পেয়েছিলেন৷

উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পশহর নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার ছিল চতুর্মুখী লড়াই। তবে মূল লড়াই ছিল কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে। গত বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধে মাত্র হাজার খানেক ভোটের ব্যবধানে আসন ছিনিয়ে নিয়েছিলেন কংগ্রেসের মধুসূদন ঘোষ। তিনি মারা যাওয়ায়, সেই আসনে উপনির্বাচন৷ বামেদের সঙ্গে নির্বাচনী আঁতাত না থাকলেও, নিজেদের আসন ধরে রাখতে মরিয়া ছিল কংগ্রেস। নোয়াপাড়া দিয়ে রাজ্যে আসন বাড়াতে চেয়েছে তৃণমূল। অন্যদিকে, তাদের প্রার্থীই ভোটে ফ্যাক্টর- দাবি ছিল বিজেপির।

এই নোয়াপাড়া উপনির্বাচনে প্রার্থী ইস্যুতে মুখ পোড়ে বিজেপির৷ তৃণমূল ছেড়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুকুল রায়ের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এই কেন্দ্রে৷ মুকুল রায়ের প্রস্তাবেই এই কেন্দ্রতে বিজেপি প্রার্থী করতে চেয়েছিল গতবারে মাত্র হাজার ভোটে পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মঞ্জু বসুকে৷ কিন্তু জল্পনা ঘোষণায় বদলানোর আগেই সাংবাদিক সম্মেলন করে মঞ্জু বসু জানিয়ে দেন, বিজেপি নন, তিনি তৃণমূল প্রার্থী হিসেবেই লড়বেন৷

২০১৬ সালের নোয়াপাড়া বিধানসভার ভোটে মধুসূদন ঘোষ (কংগ্রেস) পান ৭৯৫৪৮ টি ভোট৷ মঞ্জু বসু (তৃণমূল কংগ্রেস)-৭৮৪৫৩টি ভোট ও অমিয় সরকার(বিজেপি)-২৩৫৭৯ পান৷
এবার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই রিগিংয়ের অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা ৷ অভিযোগ, নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা লাগোয়া একটি হোটেলে বসে দিনভর ভোটে নজরদারি চালিয়েছেন ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিংহ। তৃণমূল অবশ্য একে বিরোধীদের দুর্বলতা ঢাকার বাহানা বলে দায় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ৷
আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা তারপরই জানা যাবে এই জোড়া উপনির্বাচনে জয়ের হাসি হাসল কারা৷

কোন মন্তব্য নেই: