কলকাতা : ছাত্র সংসদ নির্বাচন ফেরানোর জন্য সরব হয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। এই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-পড়ুয়া-শিক্ষাকর্মী-গবেষক-কর্তাদের কী মত, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি খসড়া রিপোর্ট। যেখানে সংসদের পক্ষেই জোরালো সওয়াল করা হয়েছে। এই নিয়ে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার আলোচনা হবে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ২০১৭ আইনের একাধিক ধারা তুলে সমস্ত পক্ষ তাদের মতামত দিয়েছে। তার নির্যাস নিয়েই এই খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই আইনের প্রত্যেক ধারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারের পরিপন্থী। কেন এই মত, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সবাই। যে ইস্যু নিয়ে উত্তাল হচ্ছে যাদবপুর, সেই স্টুডেন্টস কাউন্সিল কেন চায় না বিশ্ববিদ্যালয়, তার যৌক্তিকতা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে, ছাত্র সংসদের মাধ্যমে পড়ুয়ারা নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনটি ফ্যাকাল্টির জন্য পৃথক ছাত্র সংসদ। ইউনিয়নের মাধ্যমে পড়ুয়ারা নিজেদের দাবি পেশ করা, অধিকারের জন্য লড়াই করা ইত্যাদি কাজ করতে পারবেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনেই সমস্ত কাজ হয়। তাছাড়া যে স্টুডেন্টস কাউন্সিল গড়ার কথা বলছে সরকার, তাতে পড়ুয়ারা ছাড়া অধ্যাপকদের রাখতে হবে। কিন্তু এখানেই আপত্তি রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের। তারা চাইছে, পড়ুয়া বাদে কেউ ছাত্র সংসদে থাকবে না। এসব কারণেই এই কাউন্সিল গঠনের বিরোধিতা করছে বিশ্ববিদ্যালয়।
যাদবপুর চাইছে, যে কেউ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। অন্যান্য জায়গায় হাজিরার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে হাজিরার জন্য কাউকে ভোটে লড়াই করা থেকে আটকানো যাবে না। এমনই মতামত পেশ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রশাসনিক কাজকর্ম, পুনর্নিয়োগের মতো বিষয়বস্তু নিয়েও সরকারের ওই আইনের সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে এটি চূড়ান্ত হলে, তা সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। খসড়ার অন্যতম মূল বক্তব্য, সরকারি আদেশনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসনে আঘাত আনছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, সমস্ত পক্ষকে নিয়ে যে কমিটি গড়েছিল এগজিকিউটিভ কাউন্সিল, তার মধ্যে থেকেই একটি সাব কমিটি গড়া হয়। এই কমিটি সবার মতের নির্যাস নিয়ে এই খসড়া বানায়। আগামীকাল যে বৈঠক হবে, সেখানে এই খসড়ার উপরই আলোচনা হবে। এখন সেখানে এটাই গৃহীত হবে, না কি নতুন কিছু সংযোজন হবে, তার দিকেই তাকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পক্ষ। তবে যেটাই হোক না কেন,স্টুডেন্টস কাউন্সিলের বিরোধিতা করে যে জোরাল দাবি পেশ করা হয়েছে, সেই বার্তাই সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে ঠিক হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন