গ্যাস বোটলিং প্ল্যান্টে কর্মবিরতি শ্রমিকদের, জ্বালানি গ্যাস সঙ্কটের শঙ্কা - Aaj Bikel
 গ্যাস বোটলিং প্ল্যান্টে কর্মবিরতি শ্রমিকদের, জ্বালানি গ্যাস সঙ্কটের শঙ্কা

গ্যাস বোটলিং প্ল্যান্টে কর্মবিরতি শ্রমিকদের, জ্বালানি গ্যাস সঙ্কটের শঙ্কা

Share This


দুর্গাপুর  : শ্রম কমিশনারের শুনানিতে গরহাজিরার মাশুল। ১১ শ্রমিককে কাজে যোগ দিতে আপত্তি। চারজনের গেট পাশ আটকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর তার প্রতিবাদে সরব শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করল। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরে ইন্ডিয়ান অয়েলের(আইওসি) জ্বালানি গ্যাস বোটলিং প্ল্যান্টে। কর্মবিরতির জেরে দক্ষিনবঙ্গে জ্বালানি গ্যাস সঙ্কটের শঙ্কা দেখা দিল।

ঘটনায় জানা গেছে, দুর্গাপুরে আইওসির গ্যাস বোটলিং লোডিং আনলোডিংয়ের শ্রমিকদের বেতনচুক্তি নিয়ে অসন্তোষ চলছিল। সম্প্রতি সেখানের ট্রান্সপোটাররা দুর্গাপুরে কেন্দ্রীয় শ্রম কমিশনারের নিকট অভিযোগ দায়ের করে। তার প্রেক্ষিতে শ্রম কমিশনার বোটলিং প্ল্যান্টে ত্রিপাক্ষিক শুনানি করেন। অভিযোগ ওই শুনানিতে ট্রান্সপোটাররা উপস্থিত থাকলেও, গরহাজির ছিল ১১ জন শ্রমিক প্রতিনিধি। আর তার জেরে ওইসব গরহাজির শ্রমিকদের কাজ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার ৪ শ্রমিকের গেট পাশও আটকে দেয় বলে অভিযোগ। আর তার প্রতিবাদে সরব হয় বোটলিং প্ল্যান্টের সমস্ত শ্রমিক।

এদিন প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করে। ক্ষুব্ধ শ্রমিক কালিপদ মন্ডল জানান," শ্রমিক ছাঁটাই করে কম শ্রমিকে বেশী কাজ করাতে চাইছে ট্রান্সপোটাররা। তাই বেতন বৃদ্ধির দাবী জানিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে গুরুত্ব না দিয়ে,উল্টে ১১ জনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চারজনের গেট পাশ আটকে নেওয়া হয়েছে। তাই কর্মবিরতি।" যদিও ট্রান্সপোটার সঞ্জয় আচার্য জানান," শুনানিতে গরহাজিরার জন্য শ্রম কমিশনারের নির্দেশ। তাঁর নির্দেশ মতো গেট পাশ আটকে দেওয়া হয়েছে।" শুনানিতে গরহাজির প্রসঙ্গে কালিপদবাবু জানান," শারিরিক অসুস্থতার কারনে গরহাজির হলে পরে শুনানির দিন ধার্য করা দরকার ছিল। কিন্তু সেসব না করে এধরনের তুঘলকি নির্দেশিকা কেন? এটা সম্পুর্ন শ্রমিক বিরোধী।" আইওসির বোটলিং প্ল্যান্ট ইনচার্জ উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় জানান," কর্মবিরতির জেরে দৈনিক ৫ লক্ষ টাকা লোকসানের পাশাপাশি দক্ষিনবঙ্গের ছয় জেলায় জ্বালানি গ্যাস সঙ্কট হতে পারে। গোটা বিষয়টও স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।" এবিষয়ে দুর্গাপুর মহকুমাশাসক শঙ্খ সাঁতরা জানান," বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া উচিত। শ্রমিকদের কাছে অনুরোধ তারা যেন কাজ শুরু করে।"

কোন মন্তব্য নেই: