কলকাতা : অন ডিউটি অবস্থায় চালকদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা । মঙ্গলবার এই খবর জানান, সংস্থার চেয়ারম্যান তমোনাশ ঘোষ । এদিন তিনি জানান, অন ডিউটিতে মোবাইল ব্যবহার করলে তৎক্ষণাৎ ৪ মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হবে ওই বাস চালককে । প্রতিদিন সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা হবে । বয়ান নেওয়া হবে সাপোর্ট স্টাফদের । এবার থেকে ‘ব্রিদিং অ্যানালাইজার’ও ব্যবহার করবে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা । এই যন্ত্রে বাস চালাবার সময় বাসচালক মদ্যপ ছিলেন কি না তা ধরা পড়বে । জেলার বাস চালকদের ডিউটি দেওয়া হবে জেলাতেই । ভিন জেলায় ডিউটিতে যেতে হবে না । বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বাস গ্যারেজ করা যাবে । আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার বোর্ড মিটিং । সেই মিটিংয়েই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান সংস্থার চেয়ারম্যান তমোনাশ ঘোষ।
সোমবারই মুর্শিদাবাদের দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ঘন কুয়াশার মধ্যে ট্রাককে পাশ কাটাতে গিয়ে হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন বাস চালক । কিন্তু যাঁরা মৃত্যু মুখ থেকে ফিরে এসেছেন, সেই যাত্রীরা বলছেন, ‘আসলে চালক মোবাইলে কথা বলছিলেন । ঠিক দৌলতাবাদ সেতুতে ওঠার মুখেই চালকের মোবাইলে ফোন আসে । ফোনে কথা বলতে বলতেই বাস চালাচ্ছিলেন তিনি । চালকের বাঁ হাতে ছিল স্টেয়ারিং । কানে ফোন নিয়েই উল্টোদিক থেকে আসা একটি ট্রাককে পাশ কাটাতে গিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক ।' বেঁচে ফিরে আসা যাত্রীদের আরও দাবি, করিমপুর থেকেই স্বাভাবিকের থেকে বেশি গতিতে বাস চালাচ্ছিলেন চালক । আর তাতেই ঘটে যায় এই বিপত্তি । এর পরিপ্রেক্ষিতেই দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার বাস চালকদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর এই সিদ্ধান্ত।
এদিকে, সমস্ত যাত্রিবাহী বাসের গতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় । দুর্ঘটনাগ্রস্ত দৌলতাবাদের ব্রিজটি পরীক্ষারও নির্দেশ দেন তিনি । মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই স্বজনহারারা ভিড় জমান মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে । সকাল থেকেই ফের ভৈরব নদীর গর্ভে শুরু হয়েছে তল্লাশি । সেতুর রেলিংয়ের যে অংশ ভেঙে বাসটি নদীতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল, ঠিক সেই অংশটিতেই তল্লাশি চালাচ্ছেন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ও এনডিআরএফ কর্মীরা । সকাল থেকে এখনও পর্যন্ত ৬টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে । আজ সকালে উদ্ধার হয়েছে বাসের কনডাক্টর মিন্টু বিশ্বাসের দেহ । শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪২ । কার্যত, গতকাল দুর্ঘটনার পর অনেক যাত্রীই বাঁচার জন্য বাসের জানলা দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, যদিও শেষ রক্ষা হয়নি । অনেকে আবার বাসের মধ্যেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন । বাসটিকে ক্রেন দিয়ে তোলার সময় জানলা দিয়ে অনেক দেহই বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা । সেগুলির খোঁজেই ফের তল্লাশি চলছে আজ ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন