গুয়াহাটি : আর একদিন পর প্রজাতন্ত্র দিবস। প্রজাতন্ত্র দিবসে বিগত কয়েক দশকব্যাপী নিরাপত্তাজনিত হুমকি আর নাশকতার আশঙ্কায় অসমের মানুষ যে-ধরনের সন্ত্রস্ত থাকেন এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। আলফা-সহ রাজ্যের কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রজাতন্ত্র দিবসে নশকতা ঘটানোর ছক কষছে বলে খবর পেয়েছে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
এ-ধরনের সম্ভাব্য নাশকতা রোধে ইতিমধ্যে পুলিশ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তাদের তৎপরতা তীব্র করে তুলেছে। রাজধানী শহর গুয়াহাটি-সহ প্রত্যেক জেলা, মহকুমা সদরের কেন্দ্রীয় প্যারেড গ্রাউন্ডগুলি কিংবা যে যে জায়গায় এদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন হবে, সেইসব স্থানগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। গোয়েন্দাদের খবরের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ মহলের এক সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে গুয়াহাটি নতুবা উজান অসমের কোনও কোনও জায়গায় নাশকতা সংঘটিত করতে পারে আলফা। এবার তাদের টার্গেট বিজেপি-র বিভিন্ন নেতা বা কর্মীও রয়েছেন। এই নেতা বা কর্মীদের ওপর সংঘটিত হতে পারে প্রাণঘাতী হামলা।
এদিকে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তাজনিত পদক্ষেপ সম্পর্কে রাজ্যের পুলিশপ্রধান মুকেশ সহায় বলেছেন, জঙ্গি-হামলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন তাঁরা। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গি-বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গুয়াহাটির সব প্রবেশপথে নাকাবন্দি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গিদের আনাগোনা বেড়েছে বলে খবরের ভিত্তিতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনা, আধা-সেনা এবং অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
ডিজিপি মুকেশ সহায় জানান, তিনসুকিয়া জেলায় পাঠানো হয়েছে এডিজিপি আরপি মিনাকে। তিনি উজানের পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। তাছাড়া গুষ়াহাটি মহানগরকেও নিরাপত্তার চাদরে মোড়ে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে বিভিন্ন সংস্থার কেন্দ্রীয় আধা-সেনার অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সব প্রবেশপথের পাশাপাশি রেলসড়ক, নদীপথও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। চলছে ব্যাপক তালাশি অভিযান।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন