গুয়াহাটি : বুধবার সকাল প্রায় সাড়ে সাতটা নাগাদ অরুণাচল প্রদেশের নামসাই এলাকার পিয়ঙে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ করে গ্রেনড হামলা চালিয়েছে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা। এ ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও দুটি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলাজনিত ঘটনার দায় এখনও কেউ স্বীকার করেনি।
প্রজাতন্ত্র দিবস দোরগোড়ায়। প্রজাতন্ত্র দিবসে তাদের শক্তিপ্রদর্শন করতে নাশকতা সংঘটিত করতে পারে জঙ্গিরা। তাই অসম এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যান্য দিনের মতো গতকাল গোটা রাতে অসমের সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশের নামসাই এলাকায় জঙ্গি-বিরোধী অভিযান শেষ করে বুধবার সকালে যখন ভারতীয় সেনা বাহিনীর ১১ গ্রেনেডিয়ার রেজিমেন্ট তাদের শিবিরে ফিরছিল, তখন পিয়ং নামের এক গ্রাম সংলগ্ন রাস্তায় প্রায় ৭.৩০ মিনিট নাগাদ অতর্কিত গ্ৰেনেড হামলা হয়। সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর কেউ জখম হননি। তবে দুটি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। একটি গাড়ি সাধারণ নাগরিকের। গাড়িটি সেনা কনভয়ের পিছনে পিছনে আসছিল। তখনই জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ের উপর থেকে সেনা কনভয়কে লক্ষ করে ছুঁড়ে সন্দেভাজন উগ্রপন্থীরা। গ্রেনেড হামলার পিছনে আলফা-স্বাধীন জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ২২ তারিখ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রজাতন্ত্র দিবস বর্জন ও বনধ-এর ডাক দিয়েছিল উত্তরপূর্বের যৌথ উগ্রপন্থী মঞ্চ। বিজ্ঞপ্তিতে আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবস বর্জনের পাশাপাশি ২৫ জানুয়ারি রাত ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার উত্তরপূর্ব বনধ-এর ডাক দিয়েছিল আলফা (স্বাধীন)-সহ পূর্বোত্তরের চারটি উগ্রপন্থী সংগঠনের সম্মিলিত মঞ্চ ‘ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ওয়েস্টার্ন সাউথ-ইস্ট এশিয়া’ (ইউএনএলএফডব্লিউ)। পূর্বোত্তরের চারটি উগ্রপন্থী সংগঠনের সম্মিলিত মঞ্চের সদস্য যথাক্রমে অসমের ‘ইউনাইটেড লিবারেশেন ফ্রন্ট অব আসাম-ইনডিপেন্ডেন্ট (আলফা), নাগাল্যান্ডের ‘ন্যাশনাল সোশালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড-খাপলাং’ (এনএসসিএন-কে), ‘কামতাপুর লিবারেশেন অর্গানাইজেশন’ (কেএলও) এবং ‘ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অব বোড়োল্যান্ড-সংবিজিত (এনডিএফবি-এস)।
তাছাড়া, গতকাল ২৩ তারিখ আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবস বৰ্জনের ডাক দিয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও কয়েকটি উগ্রপন্থী সংগঠন। এই সংগঠনগুলি যথাক্রমে মেঘালয়ের জিএনএলএ, মণিপুরের ইউজিএনএ, কেওয়াইকেএল, ইউএনএলএফ, আরপিএফ, পিআরইপিএকে (প্রিপাক), পিআরইপিএকে-প্র (প্রিপাক-প্র) এবং কেসিপি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন