মারিশদা : রাজস্থানে মালদহের এক শ্রমিককে খুনের দৃশ্য এখনও দগদগে মানুষের মনে।কোচবিহারের এক বাসিন্দা পাঞ্জাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সকলের জানা।আবার তার মধ্যেই পুর্ব মেদিনীপুরের এক বাসিন্দা কর্ণাটকে নিখোঁজ হওয়ায় আতংকিত পরিবার-সহ গোটা জেলা।নিখোঁজ এই যুবককে খুঁজে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন পরিবারের লোকেরা।গত ২৩ নভেম্বর নিখোঁজ হয়েছিলেন নারায়ণ রথ (৩৬) নামে মারিশদার পানিচিয়াড়ির এই যুবক।তাঁকে খুঁজে না পাওয়ায় গত ৬ ডিসেম্বর কারখানা কতৃপক্ষ খবর দেয় তাঁর বাড়িতে।৮ ডিসেম্বর কর্ণাটকের মহিশুরে যান বাবা বটকৃষ্ণ রথ।
বটকৃষ্ণবাবু বলেন,"আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং আমাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় কারখানার মালিক ও কলকাতার বাসিন্দা নান্টু দে।সেখান থেকে ফিরে আমি স্থানীয় নঞ্জনগুড় থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েও ব্যর্থ হই।বাড়ি ফিরে আমি স্থানীয় মারিশদা থানা থেকে শুরু করে কাঁথির সিআই,মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, জেলা পুলিশ সুপার সকলের কাছে ছেলেকে খুঁজে দেওয়ার আর্জি জানাই।কিন্তু ব্যস্ততা দেখিয়ে এবং এই এলাকার ঘটনা নয় জানিয়ে সকলেই মুখ ফেরান।এমনকি নিখোঁজ ছেলের সন্ধান পেতে আমি নিজে সরাসরি নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সংে দেখা করে কথাও বলি।"মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু।
তিনি বলেন,"মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।নির্দেশ মতোই আমরা ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মহিশুরের ওই জূতো কারখানার মালিক এবং ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে।"পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,বটকৃষ্ণ বাবুর দুই ছেলে।বড়ো মধুসূদন রথ মানসিক প্রতিবন্ধী।ছোট নারায়ণের উপরেই নির্ভরশীল মা,বাবা,দাদা,স্ত্রী সহ তিন নাবালিকা মেয়ের সংসার।তার উপার্জনের টাকায় পুরো সংসার চলে।আগে মান্দারমণিতে দোকান ছিল নারায়ণের।উচ্ছেদের পর তিনি বেকার হয়ে যান।এরপর গত ৬ নভেম্বর বটকৃষ্ণবাবুর পুর্ব পরিচিত নান্টু দে'র জুতো কারখানায় মহিশুরে যান নারায়ণ।আর সেখানে কাজে গিয়েই ১৩ নভেম্বর নিখোঁজ হয়ে যান।ছেলার কোন খোঁজ না পেয়ে প্রায় দু-আড়াই মাস ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সকলেই।ছেলে বাড়ি ফেরার আশায় দিন গুনছেন পরিবার লোকজনের।তাদের দাবি,পুলিশ-প্রশাসন এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নারায়ণকে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক।আর সেদিকেই তাকিয়ে গোটা পরিবার।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন