নতুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির পৌরহিত্যে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও পরিষেবার ওপর জিএসটি’র হার পরিবর্তন করে বেশ কিছু সুপারিশ গ্রহণ করা হয়৷ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জিএসটি হার সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু স্পষ্টিকরণ দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়া, বেশ কিছু পণ্য ও পরিষেবা করযোগ্যতা বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে৷
কাউন্সিলের বৈঠকে প্রধান প্রধান সুপারিশগুলি সংক্ষেপে নীচে দেওয়া হল-
বিভিন্ন পণ্যের ওপর জিএসটি হারের পরিবর্তন--
কাউন্সিলের বৈঠকে প্রধান প্রধান সুপারিশগুলি সংক্ষেপে নীচে দেওয়া হল-
বিভিন্ন পণ্যের ওপর জিএসটি হারের পরিবর্তন--
(ক) ছাড়/জিএসটি হারে পরিবর্তন/ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট প্রাপ্তিযোগ্যতার বৈশিষ্ট্য
১. আঞ্চলিক যোগাযোগ পরিষেবার জন্য নির্মিত বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে ‘ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং’-এর ওপর জিএসটি ছাড়ের সময়সীমা বর্তমানের এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হবে।
২. জিএসটি’র ক্ষেত্রে, পরিষেবা সরবরাহের বিষয়টিকে, তথ্য জানার অধিকার আইন, ২০০৫-এর আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হবে।
৩. সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত আইন সংক্রান্ত পরিষেবাগুলিকে ছাড় দেওয়া হবে।
৪. মেট্রো এবং মনো রেল প্রকল্পগুলির (নির্মাণ, স্থাপন, কাজের সূচনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে) ক্ষেত্রে জিএসটি’র হার ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হবে।
৫. জিএসটি আইনের ৯ (৫) ধারানুযায়ী বিজ্ঞাপিত ক্ষুদ্র হাউস কিপিং পরিষেবা প্রদানকারীদের মধ্যে যারা ইসিও’র মাধ্যমে পরিষেবা দেয়, তাঁদের ওপর ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বাদ দিয়ে ৫ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা হবে।
৬. দর্জিদের সেলাই পরিষেবার ওপর জিএসটি’র হার ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে।
৭. থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক, জয় রাইড, নাগরদোলা, গো-কার্টিং এবং ব্যালে’র মতো অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত পরিষেবার ওপর জিএসটি’র হার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে।
৮. নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে : ১) বিমানযোগে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারত থেকে, ভারতের বাইরে পরিবহণের জন্য পরিষেবাকে জিএসটি থেকে ছাড় দেওয়া হবে৷ ২) জাহাজযোগে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারত থেকে ভারতের বাইরে পরিবহণের জন্য পরিষেবাকেও জিএসটি থেকে ছাড় দেওয়া হবে। তবে, ফিরতি ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট হিসাব করার ক্ষেত্রে যে পরিষেবাগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়, তা থেকে নতুন এই ছাড়ের মূল্য বাদ দেওয়া হবে। ২০১৮’র ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটি ‘সানসেট ক্লজ’ সহ উপরোক্ত এই ছাড়গুলি দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের গোষ্ঠী বিমা প্রকল্পের আওতায় তটরক্ষী বাহিনীর কর্মীদের জীবন বিমার মাধ্যমে নৌ-বিমা গোষ্ঠী তহবিল থেকে প্রাপ্ত পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হবে।
১০. ২০১৭ সালের আইজিএসটি আইনের ৫ (১) নম্বর ধারানুসারে প্রদেয় আইজিএসটি’র ওপর নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। এগুলি হ’ল – ২০১৭’র সিজিএসটি আইনের দ্বিতীয় তপশিলের ৫ (সি) ধারায় অন্তর্ভুক্ত পরিষেবাসমূহ। তবে, ১৯৭৫ সালের কাস্টমস্ ট্যারিফ অ্যাক্ট-এর ৩ (৭) ধারানুসারে ধার্য কর এবং ডিউটির মোট পরিমাণ পর্যন্ত এক্ষেত্রে হিসাব করা হবে। এর সঙ্গে ১৯৬২ সালের কাস্টমস্ আইনের ১৪ (১) ধারায় ঘোষিত, ২০১৭ সালের আইজিএসটি আইনের ৫ ও ৭ নম্বর ধারার সংস্থানগুলিকেও বিবেচনা করা হবে। কাস্টমস্ ভ্যালুয়েশন (ডিটারমিনেশন অফ ভ্যালু অফ ইমপোর্টেড গুডস্) রুলস্, ২০০৭-এর ১০ (সি) ধারায় বর্ণিত লেনদেনের ওপর ধার্য রয়্যালটি এবং লাইসেন্স ফি’কেও এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
১১. পর্যটন পরিষেবা প্রদানের ওপর ৫ শতাংশ হারে মোট ব্যবসার ওপর জিএসটি ধার্য হওয়ার জন্য ইনপুট পরিষেবার ওপর, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা দেওয়া হবে।
১২. কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, স্থানীয় সংস্থা, সরকারি কর্তৃপক্ষ অথবা সরকারি সংস্থাকে মুখ্য ঠিকাদার কর্তৃক প্রদত্ত যে ঠিকা চুক্তি পরিষেবা অধস্তন ঠিকাদার, মুখ্য ঠিকাদারকে দিয়ে থাকে, তার ওপর জিএসটি’র হার ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হবে। অনুরূপভাবে, যেসব ঠিকা চুক্তির পরিষেবার ওপর ৫ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা হয় সাব-কন্ট্রাক্টরদের জন্যও ৫ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য হবে।
১৩. আবাসিক কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন, (নথিভুক্ত অথবা অ-লাভজনক সংস্থা) কর্তৃক তাদের সদস্যদের জন্য ব্যক্তিগত চাঁদার ভিত্তিতে যেসব পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে সদস্য পিছু মাসিক ছাড়ের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে সাত হাজার টাকা করা হবে।
১৪. অপরিশোধিত খনিজ তেল এবং পেট্রোলজাত পদার্থ (এমএস, এইচএসডি, এটিএফ) পরিবহণের ক্ষেত্রে জিএসটি’র হার ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বাদে ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সহ ১২ শতাংশ করা হবে।
১৫. বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনও আর্থিক মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক প্রদত্ত ডলার মূল্যের পরিষেবা ভারতের বাইরে কোনও ব্যক্তিকে দেওয়া হলে তার ওপর জিএসটি ধার্য হবে না। কারণ, আইএফএসসি, এসইজেড-গুলিকে আরবিআই, আইআরডিএআই, সেবি অথবা অন্যান্য আর্থিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার আইনে ভারতের বাইরে বলে ধরে নেওয়া হয়।
১৬. (ক) সরকার বা স্থানীয় সংস্থা কর্তৃক কোনও সরকারি কর্তৃপক্ষ বা সরকারি সংস্থাকে জমির লিজ সংক্রান্ত পরিষেবার ওপর জিএসটি ছাড় দেওয়া হবে। (খ) যেসব ক্ষেত্রে জমির সরবরাহ অথবা অবিভক্ত জমির অংশ লিজ বা সাব-লিজে ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট চুক্তির মধ্যে রয়েছে, সেই ক্ষেত্রে এবং নির্মাণ পরিষেবার মূল্য নির্ধারণ (জমি হস্তান্তর অথবা অবিভক্ত জমির অংশ)-এর ক্ষেত্রে নিয়মকানুনে সংশোধন করে এই পরিষেবার ওপর জিএসটি ছাড় দেওয়া হবে। কোনও লিজ হোল্ড বা ফ্রি হোল্ড জমির ওপর নির্মিত বাড়ি বা ফ্ল্যাটের জন্য যে হারে জিএসটি ধার্য করা হয়, ফ্ল্যাটের ক্রেতারাও যাতে সেই হারেই জিএসটি’র সুবিধা পান, তার জন্য এই ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে।
১৭. কোনও সরকারি সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত বিশুদ্ধ পরিষেবাকে ছাড় দিতে ১২/২০১৭-সিটি (আর) বিজ্ঞপ্তির ৩ নম্বর এন্ট্রিকে সংশোধন করা হবে।
১৮. ১২/২০১৭-সিটি (হার)’র ৩ নম্বর সিরিয়ালের আওতায় ছাড়ের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পরিষেবাকে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং যাতে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে, পরিষেবা সরবরাহের মোট মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তার ব্যবস্থা করা হবে।
১৯. চর্মজাত দ্রব্য (৪২ নম্বর অধ্যায়) এবং পাদুকা বা জুতো (৬৪ নম্বর অধ্যায়) তৈরির ক্ষেত্রে জব ওয়ার্ক পরিষেবার ক্ষেত্রে জিএসটি হার কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে।
২০. বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা পরিচালন অথবা ভর্তি সংক্রান্ত পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হবে। এন্ট্রান্স ফি ভিত্তিতে প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনা করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিষেবার ওপর ধার্য জিএসটি ছাড় দেওয়া হবে।
২১. যেসব জীবন বিমা পরিষেবার আওতায় আইআরডিএআই কর্তৃক অনুমোদিত অতিক্ষুদ্র বিমা প্রকল্প এবং যার সর্বোচ্চ কভারেজ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত থাকে, তার সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করার জন্য ছাড় সংক্রান্ত ১২/২০১৭-সিটি (হার)-এর ৩৬ নম্বর ধারাকে পরিবর্তন করা হবে।
২২. ১২/২০১৭-সিটি (হার)-এর ৩৫ ও ৩৬ নম্বর সিরিয়ালের আওতায় ছাড়প্রাপ্ত বিমা প্রকল্পগুলির জন্য পুনর্বিমা সংক্রান্ত পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হবে। আশা করা যায়, সরকার/বিমাকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ভবিষ্যৎ বিমা পরিষেবার জন্য প্রিমিয়ামের পরিমাণ এর ফলে কমবে৷
২৩. সঙ্গীত, নাটক, নৃত্য, অর্কেস্ট্রা, লোক অথবা ধ্রুপদী শিল্প এবং যে কোনও ভারতীয় ভাষায় থিয়েটারের ক্ষেত্রে এই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে জিএসটি ছাড়ের পরিমাণ মাথাপিছু ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার জন্য ১২/২০১৭-সিটি (হার)-এর ৮০ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তন হবে। তারামণ্ডলে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও পরিষেবার জন্য জিএসটি ছাড়ের পরিমাণ অনুরূপভাবে বৃদ্ধি করা হবে।
২৪. সাধারণ বর্জ্য নিষ্কাশন/পরিশোধন কেন্দ্র কর্তৃক প্রদত্ত এই ধরনের পরিষেবার ওপর জিএসটি’র পরিমাণ ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ হবে।
২৫. কৃষিপণ্যের গুদামকে দূষণমুক্ত করার জন্য ফিউমিগেশন পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হবে।
২৬. অপরিশোধিত খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন সংক্রান্ত পরিষেবার ক্ষেত্রে এবং খনন পরিষেবার ক্ষেত্রে জিএসটি’র হার কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হবে।
২৭. আইনগতভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিগ্রি প্রদানকারী কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন শিক্ষমূলক জার্নাল/পত্র-পত্রিকার চাঁদাকে জিএসটি থেকে ছাড় দেওয়া হবে।
২৮. উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী/শিক্ষক এবং কর্মীদের পরিবহণ পরিষেবাকারীদের গাড়ি ভাড়া দেওয়ার জন্য পরিষেবাকে জিএসটি ছাড় দেওয়া হবে।
২৯. প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (পৌর)/সবার জন্য আবাসন (পৌর) কর্মসূচির আওতায় ইডব্ল্যুএস/এলআইজি/এমআইজি ১/এমআইজি ২ শ্রেণীর ভর্তুকি যুক্ত ঋণের সাহায্যে নির্মিত/অধিগৃহীত বাড়িঘরের ওপর কম হারে জিএসটি ধার্য করা হবে। তবে, এইসব কম দামের বাড়ির ৬০ মিটার কার্পেট এরিয়া পর্যন্ত ছাড় থাকবে। আবাসন এবং পূর্ত মন্ত্রকের পক্ষ থেকে অনুরূপ ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩০. নৌ-যান ভাড়া বা শুধুমাত্র নৌকা ভাড়ার ওপর সময় নির্দিষ্ট ভাড়া পরিষেবার মতো একই হারে অর্থাৎ ৫ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা হবে।
৩১. আয়কর আইনের ১২ এ এ ধারানুযায়ী নথিভুক্ত কোনও সংস্থা যদি মিড-ডে-মিল পরিষেবা দেয়, তা হলে তাদের ব্যবহারের জন্য বাড়ির নির্মাণ মেরামত পুনর্নির্মাণ প্রভৃতির ক্ষেত্রে জিএসটি’র হার কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হবে।
৩২. ফিফা অনুর্দ্ধ-২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা ভারতে আয়োজন করা হলে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফা বা তার কোনও সহযোগী সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানের ওপর জিএসটি ছাড় দেওয়া হবে।
৩৩. ‘মুনাফা পেট্রোলিয়াম’ থেকে প্রাপ্ত সরকারি মুনাফাকে জিএসটি থেকে ছাড় দেওয়া হবে এবং ‘কস্ট পেট্রোলিয়াম’ যে করযোগ্য নয়, সে বিষয়ে স্পষ্টিকরণ দেওয়া হবে।
নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর ছাড় সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশে পরিবর্তন--
১. সিজিএসটি রুলের শর্তানুযায়ী ১৭ নম্বর ধারার ২ নম্বর উপধারায় ছাড়প্রাপ্ত সরবরাহের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব সঞ্চয়, ঋণ অথবা অগ্রিমের ওপর সুদ বা ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়, তার মোট মূল্য অন্তর্ভুক্ত হবে না। (যেসব ব্যাঙ্কিং কোম্পানি, আর্থিক সংস্থা, ব্যাঙ্ক বহির্ভূত আর্থিক কোম্পানি সঞ্চয়, ঋণ অথবা অগ্রিমের মতো পরিষেবা দিয়ে থাকে, এই পরিবর্তন তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না)।
২. যখন কোনও সম্পত্তি অধিকার অথবা মালিকানা দলিল অথবা অ্যালটমেন্ট লেটারের মাধ্যমে, জমি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তখন নির্মাণ পরিষেবা ক্ষেত্রে অথবা নির্মাণ পরিষেবার ওপর সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে নির্মাণের অধিকার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জিএসটি প্রদানের দায়বদ্ধতা বিলম্বিত হবে। এই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনে কর ধার্য করার ক্ষেত্রে অবশ্য বিলম্ব করা হবে না।
৩. সরকার অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ভাড়ায় দেওয়া কোনও স্থাবর সম্পত্তি নথিভুক্ত কোনও ব্যক্তিকে দেওয়া হলে, ‘রিভার্স চার্জ’ পদ্ধতিতে তার ওপর কর আরোপ করা হবে। অন্যদিকে, অনুরূপ কোনও সম্পত্তি যদি সরকার অথবা কোনও স্থানীয় সংস্থা কোনও অ-নথিভুক্ত ব্যক্তিকে ভাড়ায় দেয়, সেক্ষেত্রে ‘ফরওয়ার্ড চার্জ’ পদ্ধতিতে কর ধার্য করা হবে।
৪. ১৯৩৮ সালের বিমা আইনের ২ নম্বর ধারার ১০ নম্বর ক্লজে প্রদত্ত অর্থের মতো বিমা এজেন্টকেও রিভার্স চার্জ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে সংজ্ঞায়িত করা হবে। কর্পোরেট এজেন্টরা যাতে রিভার্স চার্জের আওতার মধ্যে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন।
৫. জিএসটি আইনের ১৫ নম্বর ধারার আওতায় জিএসটি রুলস্-এ লটারির মূল্য সংক্রান্ত একটি নতুন সংস্থান অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তাতে এই মূল্য গেজেটে বিজ্ঞাপিত লটারির টিকিটের দামের ১০০/১১২ অথবা ১০০/১২৮ সংস্থানটি অন্তর্ভুক্ত হবে। (জিএসটি হার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি বর্তমানে দেওয়া আছে)
৬. বেটিং এবং ঘোড় দৌড় সহ জুয়ার ক্ষেত্রে জয়লাভের ফলে প্রাপ্ত অর্থ দাবি করার সময় পণ্যের জিএসটি হার সংক্রান্ত তপশিলে ২৮% যুক্ত করতে হবে।
৭. জিএসটি আইনের ১৫ নম্বর ধারার আওতায় জিএসটি রুলে নিম্নলিখিত অংশটি যুক্ত করতে হবে –
এই অধ্যায়ে বর্ণিত শর্তগুলি সত্ত্বেও বেটিং এবং জুয়ার ক্ষেত্রে সরবরাহ মূল্য সংশ্লিষ্ট বেট অথবা জুয়া থেকে প্রাপ্ত মোট অর্থের ১০০ শতাংশ হিসাবে ধরা হবে।
(গ) স্পষ্টিকরণ
১. হোস্টেলে থাকার পরিষেবা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে দৈনিক ১ হাজার টাকা বা তার সমতুল (ঘোষিত ভাড়া) পর্যন্ত ছাড় সংক্রান্ত ব্যাখ্যা।
২. গ্রাহক বিরোধ কমিশনে মামলাকারীদের কোনও ফিজ দিতে হলে এবং কোনও জরিমানা এই কমিশন কর্তৃক আরোপিত হলে, সেই অর্থের ওপর কোনও জিএসটি ধার্য না হওয়ার ব্যাখ্যা।
৩. বিনোদনের জন্য হাতি/উটে চড়াকে পরিবহণ পরিষেবা হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়নি এবং এর ওপর ক্ষুদ্র পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য ছাড়ের সংস্থান বাদে ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা।
৪. লিজিং অথবা ভাড়া দেওয়া সংক্রান্ত পরিষেবা, সে অপারেটার অথবা মালপত্র সহ বা ছাড়াই হোক না কেন, তার ওপর পণ্য সরবরাহ অথবা সংশ্লিষ্ট পণ্যের মালিকানা হস্তান্তরের মতো একই হারে জিএসটি ধার্য করা হবে। অতএব, বুম, সিজার্স/টেলিহ্যান্ডলার্স-এর মতো স্বয়ং চালিত অ্যাক্সেস যন্ত্রপাতির ভাড়া সংক্রান্ত পরিষেবার ক্ষেত্রে ২৮ শতাংশ হারেই জিএসটি ধার্য করার ব্যাখ্যা।
৫. নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যাগুলি দেওয়া হ’ল –
১) কোনও হাসপাতালে বরিষ্ঠ চিকিৎসক/চিকিৎসা পরামর্শদাতা/চিকিৎসা সংক্রান্ত টেকনিশিয়ানের ভাড়া সংক্রান্ত পরিষেবা, সে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে কাজ করুন বা না করুন, তাঁকে ছাড়ের সুবিধাযুক্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা হিসাবে ধরা হবে।
২) হাসপাতালগুলিও স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে থাকে। রোগীদের কাছ থেকে এ বাবদে নির্দিষ্ট অর্থ এবং ডাক্তারের ফিজ সহ যে চার্জ নেওয়া হয়ে থাকে, তার পুরো পরিমাণই হাসপাতাল কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা হিসাবে ধরা হবে এবং এর ওপর কোনও জিএসটি ধার্য হবে না।
৩) কোনও হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে চিকিৎসক/পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুসারে দেওয়া খাদ্যকে সামগ্রিক অর্থে স্বাস্থ্য পরিষেবা হিসাবে ধরা হবে এবং এর জন্য কোনও পৃথক কর ধার্য হবে না। তবে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালটিতে ভর্তি নেই এই ধরনের রোগী অথবা তাঁদের সহায়ক বা আত্মীয়-স্বজনদের খাদ্য সরবরাহের মতো পরিষেবা, কর-এর আওতাতেই থাকবে।
৬. বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা –
১) কোনও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে অথবা বিনোদনমূলক ব্যবস্থায় প্রবেশ (ক্যাসিনো, রেসকোর্স প্রভৃতি স্থানে) সংক্রান্ত পরিষেবা।
২) এই সমস্ত ক্যাসিনো বা রেসকোর্সের মতো বিনোদনমূলক ব্যবস্থায় প্রবেশের পর প্রদত্ত বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা।
৩) রেসকোর্সে অর্থের পরিমাণ হিসাব করা যন্ত্রের ব্যবহার সংক্রান্ত পরিষেবা (অন্য কোনও ব্যক্তির মাধ্যমে নেওয়া হলে অথবা বেটিং-এর জন্য এই যন্ত্র ব্যবহারের ফিজ হিসাবে পৃথকভাবে নেওয়া হলে) তার ওপর ২৮ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা হবে। রেসকোর্স কর্তৃক কোনও বুক মেকারকে লাইসেন্স প্রদান, যা বাজি ধরা এবং জুয়ার মতো পরিষেবা নয়, তার ওপরও ১৮ শতাংশ হারে কর ধার্য হবে।
২০১৮’র ২৫ জানুয়ারি জিএসটি পরিষদে এইসব সুপারিশগুলিকে কার্যকর করার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারির প্রস্তাব করা হয়েছে।
১. আঞ্চলিক যোগাযোগ পরিষেবার জন্য নির্মিত বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে ‘ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং’-এর ওপর জিএসটি ছাড়ের সময়সীমা বর্তমানের এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হবে।
২. জিএসটি’র ক্ষেত্রে, পরিষেবা সরবরাহের বিষয়টিকে, তথ্য জানার অধিকার আইন, ২০০৫-এর আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হবে।
৩. সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত আইন সংক্রান্ত পরিষেবাগুলিকে ছাড় দেওয়া হবে।
৪. মেট্রো এবং মনো রেল প্রকল্পগুলির (নির্মাণ, স্থাপন, কাজের সূচনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে) ক্ষেত্রে জিএসটি’র হার ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হবে।
৫. জিএসটি আইনের ৯ (৫) ধারানুযায়ী বিজ্ঞাপিত ক্ষুদ্র হাউস কিপিং পরিষেবা প্রদানকারীদের মধ্যে যারা ইসিও’র মাধ্যমে পরিষেবা দেয়, তাঁদের ওপর ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বাদ দিয়ে ৫ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা হবে।
৬. দর্জিদের সেলাই পরিষেবার ওপর জিএসটি’র হার ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে।
৭. থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক, জয় রাইড, নাগরদোলা, গো-কার্টিং এবং ব্যালে’র মতো অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত পরিষেবার ওপর জিএসটি’র হার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে।
৮. নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে : ১) বিমানযোগে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারত থেকে, ভারতের বাইরে পরিবহণের জন্য পরিষেবাকে জিএসটি থেকে ছাড় দেওয়া হবে৷ ২) জাহাজযোগে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারত থেকে ভারতের বাইরে পরিবহণের জন্য পরিষেবাকেও জিএসটি থেকে ছাড় দেওয়া হবে। তবে, ফিরতি ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট হিসাব করার ক্ষেত্রে যে পরিষেবাগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়, তা থেকে নতুন এই ছাড়ের মূল্য বাদ দেওয়া হবে। ২০১৮’র ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটি ‘সানসেট ক্লজ’ সহ উপরোক্ত এই ছাড়গুলি দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের গোষ্ঠী বিমা প্রকল্পের আওতায় তটরক্ষী বাহিনীর কর্মীদের জীবন বিমার মাধ্যমে নৌ-বিমা গোষ্ঠী তহবিল থেকে প্রাপ্ত পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হবে।
১০. ২০১৭ সালের আইজিএসটি আইনের ৫ (১) নম্বর ধারানুসারে প্রদেয় আইজিএসটি’র ওপর নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। এগুলি হ’ল – ২০১৭’র সিজিএসটি আইনের দ্বিতীয় তপশিলের ৫ (সি) ধারায় অন্তর্ভুক্ত পরিষেবাসমূহ। তবে, ১৯৭৫ সালের কাস্টমস্ ট্যারিফ অ্যাক্ট-এর ৩ (৭) ধারানুসারে ধার্য কর এবং ডিউটির মোট পরিমাণ পর্যন্ত এক্ষেত্রে হিসাব করা হবে। এর সঙ্গে ১৯৬২ সালের কাস্টমস্ আইনের ১৪ (১) ধারায় ঘোষিত, ২০১৭ সালের আইজিএসটি আইনের ৫ ও ৭ নম্বর ধারার সংস্থানগুলিকেও বিবেচনা করা হবে। কাস্টমস্ ভ্যালুয়েশন (ডিটারমিনেশন অফ ভ্যালু অফ ইমপোর্টেড গুডস্) রুলস্, ২০০৭-এর ১০ (সি) ধারায় বর্ণিত লেনদেনের ওপর ধার্য রয়্যালটি এবং লাইসেন্স ফি’কেও এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
১১. পর্যটন পরিষেবা প্রদানের ওপর ৫ শতাংশ হারে মোট ব্যবসার ওপর জিএসটি ধার্য হওয়ার জন্য ইনপুট পরিষেবার ওপর, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা দেওয়া হবে।
১২. কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, স্থানীয় সংস্থা, সরকারি কর্তৃপক্ষ অথবা সরকারি সংস্থাকে মুখ্য ঠিকাদার কর্তৃক প্রদত্ত যে ঠিকা চুক্তি পরিষেবা অধস্তন ঠিকাদার, মুখ্য ঠিকাদারকে দিয়ে থাকে, তার ওপর জিএসটি’র হার ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হবে। অনুরূপভাবে, যেসব ঠিকা চুক্তির পরিষেবার ওপর ৫ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা হয় সাব-কন্ট্রাক্টরদের জন্যও ৫ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য হবে।
১৩. আবাসিক কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন, (নথিভুক্ত অথবা অ-লাভজনক সংস্থা) কর্তৃক তাদের সদস্যদের জন্য ব্যক্তিগত চাঁদার ভিত্তিতে যেসব পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে সদস্য পিছু মাসিক ছাড়ের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে সাত হাজার টাকা করা হবে।
১৪. অপরিশোধিত খনিজ তেল এবং পেট্রোলজাত পদার্থ (এমএস, এইচএসডি, এটিএফ) পরিবহণের ক্ষেত্রে জিএসটি’র হার ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বাদে ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সহ ১২ শতাংশ করা হবে।
১৫. বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনও আর্থিক মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক প্রদত্ত ডলার মূল্যের পরিষেবা ভারতের বাইরে কোনও ব্যক্তিকে দেওয়া হলে তার ওপর জিএসটি ধার্য হবে না। কারণ, আইএফএসসি, এসইজেড-গুলিকে আরবিআই, আইআরডিএআই, সেবি অথবা অন্যান্য আর্থিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার আইনে ভারতের বাইরে বলে ধরে নেওয়া হয়।
১৬. (ক) সরকার বা স্থানীয় সংস্থা কর্তৃক কোনও সরকারি কর্তৃপক্ষ বা সরকারি সংস্থাকে জমির লিজ সংক্রান্ত পরিষেবার ওপর জিএসটি ছাড় দেওয়া হবে। (খ) যেসব ক্ষেত্রে জমির সরবরাহ অথবা অবিভক্ত জমির অংশ লিজ বা সাব-লিজে ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট চুক্তির মধ্যে রয়েছে, সেই ক্ষেত্রে এবং নির্মাণ পরিষেবার মূল্য নির্ধারণ (জমি হস্তান্তর অথবা অবিভক্ত জমির অংশ)-এর ক্ষেত্রে নিয়মকানুনে সংশোধন করে এই পরিষেবার ওপর জিএসটি ছাড় দেওয়া হবে। কোনও লিজ হোল্ড বা ফ্রি হোল্ড জমির ওপর নির্মিত বাড়ি বা ফ্ল্যাটের জন্য যে হারে জিএসটি ধার্য করা হয়, ফ্ল্যাটের ক্রেতারাও যাতে সেই হারেই জিএসটি’র সুবিধা পান, তার জন্য এই ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে।
১৭. কোনও সরকারি সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত বিশুদ্ধ পরিষেবাকে ছাড় দিতে ১২/২০১৭-সিটি (আর) বিজ্ঞপ্তির ৩ নম্বর এন্ট্রিকে সংশোধন করা হবে।
১৮. ১২/২০১৭-সিটি (হার)’র ৩ নম্বর সিরিয়ালের আওতায় ছাড়ের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পরিষেবাকে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং যাতে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে, পরিষেবা সরবরাহের মোট মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তার ব্যবস্থা করা হবে।
১৯. চর্মজাত দ্রব্য (৪২ নম্বর অধ্যায়) এবং পাদুকা বা জুতো (৬৪ নম্বর অধ্যায়) তৈরির ক্ষেত্রে জব ওয়ার্ক পরিষেবার ক্ষেত্রে জিএসটি হার কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে।
২০. বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা পরিচালন অথবা ভর্তি সংক্রান্ত পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হবে। এন্ট্রান্স ফি ভিত্তিতে প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনা করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিষেবার ওপর ধার্য জিএসটি ছাড় দেওয়া হবে।
২১. যেসব জীবন বিমা পরিষেবার আওতায় আইআরডিএআই কর্তৃক অনুমোদিত অতিক্ষুদ্র বিমা প্রকল্প এবং যার সর্বোচ্চ কভারেজ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত থাকে, তার সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করার জন্য ছাড় সংক্রান্ত ১২/২০১৭-সিটি (হার)-এর ৩৬ নম্বর ধারাকে পরিবর্তন করা হবে।
২২. ১২/২০১৭-সিটি (হার)-এর ৩৫ ও ৩৬ নম্বর সিরিয়ালের আওতায় ছাড়প্রাপ্ত বিমা প্রকল্পগুলির জন্য পুনর্বিমা সংক্রান্ত পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হবে। আশা করা যায়, সরকার/বিমাকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ভবিষ্যৎ বিমা পরিষেবার জন্য প্রিমিয়ামের পরিমাণ এর ফলে কমবে৷
২৩. সঙ্গীত, নাটক, নৃত্য, অর্কেস্ট্রা, লোক অথবা ধ্রুপদী শিল্প এবং যে কোনও ভারতীয় ভাষায় থিয়েটারের ক্ষেত্রে এই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে জিএসটি ছাড়ের পরিমাণ মাথাপিছু ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার জন্য ১২/২০১৭-সিটি (হার)-এর ৮০ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তন হবে। তারামণ্ডলে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও পরিষেবার জন্য জিএসটি ছাড়ের পরিমাণ অনুরূপভাবে বৃদ্ধি করা হবে।
২৪. সাধারণ বর্জ্য নিষ্কাশন/পরিশোধন কেন্দ্র কর্তৃক প্রদত্ত এই ধরনের পরিষেবার ওপর জিএসটি’র পরিমাণ ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ হবে।
২৫. কৃষিপণ্যের গুদামকে দূষণমুক্ত করার জন্য ফিউমিগেশন পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হবে।
২৬. অপরিশোধিত খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন সংক্রান্ত পরিষেবার ক্ষেত্রে এবং খনন পরিষেবার ক্ষেত্রে জিএসটি’র হার কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হবে।
২৭. আইনগতভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিগ্রি প্রদানকারী কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন শিক্ষমূলক জার্নাল/পত্র-পত্রিকার চাঁদাকে জিএসটি থেকে ছাড় দেওয়া হবে।
২৮. উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী/শিক্ষক এবং কর্মীদের পরিবহণ পরিষেবাকারীদের গাড়ি ভাড়া দেওয়ার জন্য পরিষেবাকে জিএসটি ছাড় দেওয়া হবে।
২৯. প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (পৌর)/সবার জন্য আবাসন (পৌর) কর্মসূচির আওতায় ইডব্ল্যুএস/এলআইজি/এমআইজি ১/এমআইজি ২ শ্রেণীর ভর্তুকি যুক্ত ঋণের সাহায্যে নির্মিত/অধিগৃহীত বাড়িঘরের ওপর কম হারে জিএসটি ধার্য করা হবে। তবে, এইসব কম দামের বাড়ির ৬০ মিটার কার্পেট এরিয়া পর্যন্ত ছাড় থাকবে। আবাসন এবং পূর্ত মন্ত্রকের পক্ষ থেকে অনুরূপ ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩০. নৌ-যান ভাড়া বা শুধুমাত্র নৌকা ভাড়ার ওপর সময় নির্দিষ্ট ভাড়া পরিষেবার মতো একই হারে অর্থাৎ ৫ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা হবে।
৩১. আয়কর আইনের ১২ এ এ ধারানুযায়ী নথিভুক্ত কোনও সংস্থা যদি মিড-ডে-মিল পরিষেবা দেয়, তা হলে তাদের ব্যবহারের জন্য বাড়ির নির্মাণ মেরামত পুনর্নির্মাণ প্রভৃতির ক্ষেত্রে জিএসটি’র হার কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হবে।
৩২. ফিফা অনুর্দ্ধ-২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা ভারতে আয়োজন করা হলে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফা বা তার কোনও সহযোগী সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানের ওপর জিএসটি ছাড় দেওয়া হবে।
৩৩. ‘মুনাফা পেট্রোলিয়াম’ থেকে প্রাপ্ত সরকারি মুনাফাকে জিএসটি থেকে ছাড় দেওয়া হবে এবং ‘কস্ট পেট্রোলিয়াম’ যে করযোগ্য নয়, সে বিষয়ে স্পষ্টিকরণ দেওয়া হবে।
নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর ছাড় সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশে পরিবর্তন--
১. সিজিএসটি রুলের শর্তানুযায়ী ১৭ নম্বর ধারার ২ নম্বর উপধারায় ছাড়প্রাপ্ত সরবরাহের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব সঞ্চয়, ঋণ অথবা অগ্রিমের ওপর সুদ বা ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়, তার মোট মূল্য অন্তর্ভুক্ত হবে না। (যেসব ব্যাঙ্কিং কোম্পানি, আর্থিক সংস্থা, ব্যাঙ্ক বহির্ভূত আর্থিক কোম্পানি সঞ্চয়, ঋণ অথবা অগ্রিমের মতো পরিষেবা দিয়ে থাকে, এই পরিবর্তন তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না)।
২. যখন কোনও সম্পত্তি অধিকার অথবা মালিকানা দলিল অথবা অ্যালটমেন্ট লেটারের মাধ্যমে, জমি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তখন নির্মাণ পরিষেবা ক্ষেত্রে অথবা নির্মাণ পরিষেবার ওপর সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে নির্মাণের অধিকার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জিএসটি প্রদানের দায়বদ্ধতা বিলম্বিত হবে। এই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনে কর ধার্য করার ক্ষেত্রে অবশ্য বিলম্ব করা হবে না।
৩. সরকার অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ভাড়ায় দেওয়া কোনও স্থাবর সম্পত্তি নথিভুক্ত কোনও ব্যক্তিকে দেওয়া হলে, ‘রিভার্স চার্জ’ পদ্ধতিতে তার ওপর কর আরোপ করা হবে। অন্যদিকে, অনুরূপ কোনও সম্পত্তি যদি সরকার অথবা কোনও স্থানীয় সংস্থা কোনও অ-নথিভুক্ত ব্যক্তিকে ভাড়ায় দেয়, সেক্ষেত্রে ‘ফরওয়ার্ড চার্জ’ পদ্ধতিতে কর ধার্য করা হবে।
৪. ১৯৩৮ সালের বিমা আইনের ২ নম্বর ধারার ১০ নম্বর ক্লজে প্রদত্ত অর্থের মতো বিমা এজেন্টকেও রিভার্স চার্জ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে সংজ্ঞায়িত করা হবে। কর্পোরেট এজেন্টরা যাতে রিভার্স চার্জের আওতার মধ্যে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন।
৫. জিএসটি আইনের ১৫ নম্বর ধারার আওতায় জিএসটি রুলস্-এ লটারির মূল্য সংক্রান্ত একটি নতুন সংস্থান অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তাতে এই মূল্য গেজেটে বিজ্ঞাপিত লটারির টিকিটের দামের ১০০/১১২ অথবা ১০০/১২৮ সংস্থানটি অন্তর্ভুক্ত হবে। (জিএসটি হার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি বর্তমানে দেওয়া আছে)
৬. বেটিং এবং ঘোড় দৌড় সহ জুয়ার ক্ষেত্রে জয়লাভের ফলে প্রাপ্ত অর্থ দাবি করার সময় পণ্যের জিএসটি হার সংক্রান্ত তপশিলে ২৮% যুক্ত করতে হবে।
৭. জিএসটি আইনের ১৫ নম্বর ধারার আওতায় জিএসটি রুলে নিম্নলিখিত অংশটি যুক্ত করতে হবে –
এই অধ্যায়ে বর্ণিত শর্তগুলি সত্ত্বেও বেটিং এবং জুয়ার ক্ষেত্রে সরবরাহ মূল্য সংশ্লিষ্ট বেট অথবা জুয়া থেকে প্রাপ্ত মোট অর্থের ১০০ শতাংশ হিসাবে ধরা হবে।
(গ) স্পষ্টিকরণ
১. হোস্টেলে থাকার পরিষেবা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে দৈনিক ১ হাজার টাকা বা তার সমতুল (ঘোষিত ভাড়া) পর্যন্ত ছাড় সংক্রান্ত ব্যাখ্যা।
২. গ্রাহক বিরোধ কমিশনে মামলাকারীদের কোনও ফিজ দিতে হলে এবং কোনও জরিমানা এই কমিশন কর্তৃক আরোপিত হলে, সেই অর্থের ওপর কোনও জিএসটি ধার্য না হওয়ার ব্যাখ্যা।
৩. বিনোদনের জন্য হাতি/উটে চড়াকে পরিবহণ পরিষেবা হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়নি এবং এর ওপর ক্ষুদ্র পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য ছাড়ের সংস্থান বাদে ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা।
৪. লিজিং অথবা ভাড়া দেওয়া সংক্রান্ত পরিষেবা, সে অপারেটার অথবা মালপত্র সহ বা ছাড়াই হোক না কেন, তার ওপর পণ্য সরবরাহ অথবা সংশ্লিষ্ট পণ্যের মালিকানা হস্তান্তরের মতো একই হারে জিএসটি ধার্য করা হবে। অতএব, বুম, সিজার্স/টেলিহ্যান্ডলার্স-এর মতো স্বয়ং চালিত অ্যাক্সেস যন্ত্রপাতির ভাড়া সংক্রান্ত পরিষেবার ক্ষেত্রে ২৮ শতাংশ হারেই জিএসটি ধার্য করার ব্যাখ্যা।
৫. নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যাগুলি দেওয়া হ’ল –
১) কোনও হাসপাতালে বরিষ্ঠ চিকিৎসক/চিকিৎসা পরামর্শদাতা/চিকিৎসা সংক্রান্ত টেকনিশিয়ানের ভাড়া সংক্রান্ত পরিষেবা, সে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে কাজ করুন বা না করুন, তাঁকে ছাড়ের সুবিধাযুক্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা হিসাবে ধরা হবে।
২) হাসপাতালগুলিও স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে থাকে। রোগীদের কাছ থেকে এ বাবদে নির্দিষ্ট অর্থ এবং ডাক্তারের ফিজ সহ যে চার্জ নেওয়া হয়ে থাকে, তার পুরো পরিমাণই হাসপাতাল কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা হিসাবে ধরা হবে এবং এর ওপর কোনও জিএসটি ধার্য হবে না।
৩) কোনও হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে চিকিৎসক/পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুসারে দেওয়া খাদ্যকে সামগ্রিক অর্থে স্বাস্থ্য পরিষেবা হিসাবে ধরা হবে এবং এর জন্য কোনও পৃথক কর ধার্য হবে না। তবে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালটিতে ভর্তি নেই এই ধরনের রোগী অথবা তাঁদের সহায়ক বা আত্মীয়-স্বজনদের খাদ্য সরবরাহের মতো পরিষেবা, কর-এর আওতাতেই থাকবে।
৬. বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা –
১) কোনও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে অথবা বিনোদনমূলক ব্যবস্থায় প্রবেশ (ক্যাসিনো, রেসকোর্স প্রভৃতি স্থানে) সংক্রান্ত পরিষেবা।
২) এই সমস্ত ক্যাসিনো বা রেসকোর্সের মতো বিনোদনমূলক ব্যবস্থায় প্রবেশের পর প্রদত্ত বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা।
৩) রেসকোর্সে অর্থের পরিমাণ হিসাব করা যন্ত্রের ব্যবহার সংক্রান্ত পরিষেবা (অন্য কোনও ব্যক্তির মাধ্যমে নেওয়া হলে অথবা বেটিং-এর জন্য এই যন্ত্র ব্যবহারের ফিজ হিসাবে পৃথকভাবে নেওয়া হলে) তার ওপর ২৮ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা হবে। রেসকোর্স কর্তৃক কোনও বুক মেকারকে লাইসেন্স প্রদান, যা বাজি ধরা এবং জুয়ার মতো পরিষেবা নয়, তার ওপরও ১৮ শতাংশ হারে কর ধার্য হবে।
২০১৮’র ২৫ জানুয়ারি জিএসটি পরিষদে এইসব সুপারিশগুলিকে কার্যকর করার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারির প্রস্তাব করা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন