বিজেপি-র হয়ে রাস্তায় নামলেন সিপিআইএম নেতা মনোরঞ্জন - Aaj Bikel
বিজেপি-র হয়ে রাস্তায় নামলেন সিপিআইএম নেতা মনোরঞ্জন

বিজেপি-র হয়ে রাস্তায় নামলেন সিপিআইএম নেতা মনোরঞ্জন

Share This


আগরতলা  : শ্লীলতাহানির দায় থেকে মুক্ত হয়েই বিজেপি-র হয়ে পথে নামলেন সিপিআইএম নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক মনোরঞ্জন আচার্য। পরিবারসমেত কর্মী ও সমর্থক এবং অনুগামীদের নিয়ে অমরপুরের বিজেপি-র প্রার্থীর পেছনে দাঁড়ালেন মনোরঞ্জন আচার্য।

সম্প্রতি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত শ্লীলতাহানির যাবতীয় অভিযোগ খণ্ডন করে দিয়ে মনোরঞ্জন আচার্যকে বেকসুর খালাস করে দেয়। এর পরেই তিনি সিপিআইএম-এর বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেন।

বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনে মনোরঞ্জন আচার্য সরাসরি বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল পর্বের মিছিলে শামিল হয়ে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছেন।

মনোরঞ্জনবাবু সাংবাদিকদের বলেন, "রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকারের পতন চাইছে রাজ্যের মানুষ। কারণ মানুষ বুঝতে পারছে রাজ্যে কী ধরনের সরকার চলছে। মানুষের যাবতীয় অধিকার হনন করে নেওয়া হচ্ছে, শুধুমাত্র এক ব্যক্তির শাসনব্যবস্থা কায়েম করার জন্য। এটা আর চলতে দেওয়া যায় না।"
তিনি আরও বলেন, "তাঁকে যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে তার পরিণাম ভোগ করতে হবে সিপিআইএম-এর রাজ্য নেতাদের। ব্যক্তি জীবনে কলঙ্ক জড়িয়ে সিপিআইএম-এর কতিপয় নেতা তাঁদের স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টা করেছেন।" ছায়াসঙ্গী মনোরঞ্জনবাবুর স্ত্রী বলেন, "একজন শাসকদলের বিধায়কের এমনটা হলে সাধারণ মানুষ এ রাজ্যে কী হালে আছেন তা স্পষ্টই বোঝা যায়। কথিত নির্যাতিতা মেয়ে কিংবা তার পরিবারের কেউই কোনও অভিযোগ করেনি। শুধু সাজানো ঘটনা দিয়ে কলঙ্কিত করা হয়েছে তাঁর স্বামীকে। বিধানসভার সদস্যপদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র তাঁকে দাবিয়ে রাখার জন্য। এ জাতীয় ঘটনা থেকে সিপিআইএম সম্পর্কে সকলকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।"

উল্লেখ করা যেতে পারে, রাজ্যের একাদশ বিধানসভা এবং সপ্তম বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বিধানসভা উপনির্বাচনগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল অমরপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন। তৎকালীন অমরপুরের বিধায়ক মনোরঞ্জন আচার্যের বিরুদ্ধে এক নাবালিকা কন্যার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠে।
স্বদলীয় নেতাদের মধ্যে থেকেই এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দ্রুত তাঁকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বিধানসভায় সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করার জন্যও তাঁকে বাধ্য করা হয়। এর পরেই অমরপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। শুরু থেকেই মনোরঞ্জন আচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বদলীয় কোন্দলের পরিণাম বলে উল্লেখ করা হয়। শেষ পর্যন্ত এই বাম নেতার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয় এবং আদালতে দীর্ঘদিন ধরে শুনানি চলে। অবশেষে সোমবার প্রায় দু-বছর বাদে মনোরঞ্জন আচার্য নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস হয়ে যান।

কোন মন্তব্য নেই: