কলকাতা : সিপিএম বা কংগ্রেস নয়, এরাজ্যে বিজেপিই যে তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ, বুধবার কোর কমিটির বৈঠকে তা পরিস্কার করে দিলেন দলের সুপ্রিমও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ একদিকে, উন্নয়নের প্রশ্নে বিজেপি সরকারের ব্যর্থতা ৷ অন্যদিকে, নিজেদের উন্নয়নের সাফল্যকে জনমানসে আরও বেশি করে তুলে ধরার জন্য মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দাওয়াযই, ‘৩-৪ মাসের মধ্যেই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট ৷ চেষ্টা করুন, সময়ের মধ্যে যাবতীয় উন্নয়নের কাজ শেষ করার ৷ উন্নয়নের প্রশ্নে কোনও আপোস নয় ৷ মনে রাখবেন- আমাদের সরকার জনবিরোধী কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না’ ৷
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আগামী পঞ্চায়েতে বিজেপিকে প্রধান প্রতিপক্ষ ধরেই ভোটের ময়দানে নামতে চান মুখ্যমন্ত্রী ৷
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিন নাম না করে মুকুল রায়কে ফের ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বলেন, ত্রিপুরাটা গুছিয়ে ফেলেছিলাম, একজন গদ্দারের জন্য করতে পারলাম না ৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘আমাদের দলে একটা গদ্দার ছিল, ওর থেকে সাবধান’ বলার মাধ্যমে প্রছন্নভাবে দলীয় নেতাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেউ গদ্দারির পথে হাঁটলে তিনি রেয়াত করবেন না ৷
বি জে পি-কে একহাত নিয়ে বলেন, ‘এফআরডিএস চালুর মাধ্যমে কোটিপতিদের ঝণের বোঝা থেকে রেহাই দিতে চাইছে কেন্দ্র ৷
এই আইন চালু হলে, কোটিপতিরা যদি ঋণ শোধ না করে তখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ‘নন পারফর্মিং অ্যাসেট’ বা এনপিএ দেখিয়ে সাধারণের পিএফ, গ্র্যাচুয়িটির টাকা আত্মসাৎ করবে ব্যাংক ৷ আমাদের সাংসদদের তীব্র বিরোধিতায় এই বিল এখনও পাশ হয়নি, সিলেক্ট কমিটিতে আটকে রয়েছে’৷ দলের প্রথম সারির নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মহারাষ্ট্রে ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছে ৷ তাঁরা কেন আত্মহত্যা করল ? কার স্বার্থে ফিনানসিয়াল রিসলিউশন ডিপোজিট স্কিম বা এফআরডিএস চালু করার চেষ্টা হচ্ছে ৷ রেল প্রজেক্ট কেন শুরু করতে দেওয়া হল না ৷ পেট্রোল-ডিজেল থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কেন উর্ধমুখী ৷ পঞ্চায়েত ভোটের আগে এই প্রশ্নগুলো আরও বেশি করে মানুষের কাছে নিয়ে যান ৷ দেখবেন বিজেপির উন্নয়নের ফানুস চুপসে গিয়েছে’ ৷ দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দ্যেশ্যে মমতার নির্দেশ, ‘প্রতি শনি-রবি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিটিং এলাকা এলাকায় করতে হবে ৷ ৮ মার্চ পর্যন্ত মিটিং, পোস্টারিং চলবে ৷ ২২ থেকে ২৫ মার্চ জেলা সম্মেলন করতে হবে’ ৷
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন