গুয়াহাটি : সাহিত্যগোষ্ঠী একা এবং কয়েকজন তাদের ৩৮তম বার্ষিক অনুষ্ঠানে তিন গুণী ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করেছে। শনিবার আইটিএ প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একা এবং কয়েকজ-এর সভাপতি উদয়ন বিশ্বাস বলেন, এই সাহিত্য পত্রিকার অবিরত যাত্রা শুরু হয়েছিল আটত্রিশ বছর আগে। বর্তমানে একা এবং কয়েকজন বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্ম যেমন দরিদ্র মেধাবী ছাত্রদের সহায়তা করা, নিঃশুল্ক চক্ষু পরীক্ষা শিবির ইত্যাদি করে আসছে। একা এবং কয়েকজনের কাজের পরিধি বর্তমানে সমাজের মঙ্গলের নানা কাজে ব্যাপ্ত।
বিশ্বসা বলেন, উত্তর-পূর্বের বাংলা পত্রিকার পক্ষে এটা অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এই পত্রিকা উত্তর-পূর্বে বিভিন্ন লেখককে পরিচয় করে দিয়েছে পাঠকদের সঙ্গে। সাহিত্যের মাধ্যমে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছে একা এবং কয়েকজন। তিনি সদ্যপ্রয়াত বিশিষ্ট সাংবাদিক রাধিকামোহান ভগবতীর উদ্দেশে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া দীপ্তি দে (ত্রিপুরা), দেবব্রত চৌধুরী (বরাক উপত্যকা) এবং সুপ্রিয়া দেবীকেও (কলকাতা) ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
বার্ষিক অনুষ্ঠান শুরু হয় সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানকে তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথম পর্বে তিন গুণী ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে ৩৮তম বার্ষিক সংখ্যার উন্মোচন এবং অনুষ্ঠানের তৃতীয় ও অন্তিম পর্বে ছিল বাংলা গানের জগতের অন্যতম প্রথমসারির শিল্পী সাগ্নিক সেনের সংগীতানুষ্ঠান। প্রথম পর্বে একা এবং কয়েকজন "সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্মাননা" প্রদান করা হয় চিত্রশিল্পী ননী বরপূজারি ও কবি দীপিকা বিশ্বাসকে। "ক্রিয়া সম্মাননা" প্রদান করা হয় দ্বীপেন্দ্র ঠাকুরকে।
উল্লেখ্য, ননী বরপূজারী গ্রাফিকশিল্পের পাশাপাশি রং-তুলিতে সমানভাবে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তাঁর ছবি সংগৃহীত হয়েছে দেশ-বিদেশের বহু জায়গায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ননী বরপূজারী অসমের বহু শিল্পী তথা দেশ বিদেশের বিভিন্ন শিল্পীর কথা উল্লেখ করে নিজের পাঁচ দশকের দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা বলেন। "সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্মাননা" প্রদান করা হয় দীপিকা বিশ্বাসকে। দীপিকার কবিতা ছাপা হয়েছে সাহিত্য' অকাডেমি-সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। দীপিকার কবিতাগুলো রচনার মূল অনুভূতি দুঃখ এবং দুঃখের অভিজ্ঞতা। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের দু'টি কবিতা পাঠ করেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের কথা উল্লেখ করে যুবপ্ৰজন্মের উদ্দেশে রবিঠাকুরকে জানার কথা বলেন। ভূপেন হাজরিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
দ্বিতীয় পর্বে উন্মোচিত হয় ৩৮ তম বার্ষিক সংখ্যা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক তথা রবীন্দ্র গবেষক ঊষারঞ্জন ভট্টাচার্জ, পার্থ ঘোষ, শ্যামল বিশ্বাস, দেবীপ্রসাদ সিংহ, সম্পাদক সচ্চিদানন্দ চৌধুরী, বরুণ সেন, সঞ্জয় চৌধুরী সহ বহু। এবারের বার্ষিক সংখ্যার বিষয়বস্তু চার দশকের বিভিন্ন নির্বাচিত গল্প নিয়ে।
অন্তিম পর্বে ছিল সাগ্নিকের কণ্ঠে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান। বাংলা গানের জগতের প্রথমসারির শিল্পীদের মধ্যে সাগ্নিক সেন অন্যতম। বাংলা সোনালী যুগের গান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা। হেমন্তের কণ্ঠ ধারণ করেছেন সাগ্নিক। তিনি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বাংলা ও হিন্দি বিভিন্ন গান গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। অনুষ্ঠান দেখার জন্য প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড় ছিল দেখার মতো। প্রায় দুই ঘণ্টা তিনি বিভিন্ন সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন