কলকাতা : আলিপুর সংশোধনাগারে মৃত্যু হল এক বন্দীর। বিচারাধীন বন্দি হিসাবে তিনি মালদহ সংশোধনাগারে ছিলেন । নাম বুদ্ধু সাহা (৭৩)। প্রশাসনের দাবি, অতি সম্প্রতি তাঁকে আলিপুর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর বাড়ি মালদহর মাধাইপুর সংলগ্ন দক্ষিণ ভাটরা এলাকায়। টাকার অভাবে বৃদ্ধের মৃতদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য সাহায্য চাইছে তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
১৬ মার্চ মালদহ আদালতে পেশ করা হয় বুদ্ধু সাহাকে।স্ত্রী ঊষাদেবী ও তাঁর মেয়ে কাঞ্চন সাহার দাবি, ওই দিনও সুস্থ ছিলেন বুদ্ধু সাহা। কিন্তু বুধবার গভীর রাতে পুলিশ এসে খবর দেয়, বুদ্ধুবাবু অসুস্থ হওয়ায় তাকে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে কলকাতার বাঙুর হাসপাতালে মারা গিয়েছেন বুদ্ধুবাবু। আলিপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে বুদ্ধুবাবুর দেহ নিয়ে আসতে বলা হয় ঊষাদেবীকে।
ঊষাদেবী বলেন, টাকার অভাবে তিনি স্বামীর জন্য আইনজীবীই দিতে পারেননি, এখন কলকাতা গিয়ে দেহ নিয়ে আসবেন কীভাবে। ঊষাদেবীর আরও অভিযোগ, স্বামী অসুস্থ কিংবা তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার তাঁকে খবর দেওয়া হয়নি। এই রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বুদ্ধু সাহা শ্রমিকের কাজ করতেন। পরে ভিক্ষা করেই দিন কাটত। মেয়ের বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী কোনওরকমে দিন কাটাতেন। প্রায় একবছর আগে বুদ্ধুবাবুর বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের তাঁকে গ্রেপ্তার করে মালদহ থানার পুলিশ। কিন্তু অর্থের অভাবে কোনও আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারায় বুদ্ধুবাবুর ঠাঁই হয় মালদহ জেলা সংশোধনাগারে।
মা ও মেয়ের বক্তব্য, গতকাল রাত ১২টা নাগাদ মালদহ থানার পুলিশ বাড়িতে এসে জানায়, আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে থাকাকালীন বুদ্ধুবাবু অসুস্থ হন। তাঁকে বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঊষাদেবী বলেন, “কী করে স্বামীর মৃতদেহ ফিরিয়ে আনব বুঝতে পারছি না।” কাঞ্চনদেবী বলেন, ১৬ মার্চ বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। সেই সময় সুস্থ ছিলেন তাঁর বাবা। কখন যে তাঁকে আলিপুর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে তা তাঁরা জানেন না। পুলিশ কিংবা জেলা সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষও সেবিষয়ে তাঁদের কিছু জানায়নি।
গোটা ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন এলাকার আরএসপি নেতা সর্বানন্দ পাণ্ডে। তিনি বলেন, “গতরাতে পুলিশ খবর দিচ্ছে, বুদ্ধু সাহা আলিপুর জেলে মারা গিয়েছে। কিন্তু তাঁকে কখন সেখানে নিয়ে যাওয়া হল, তাঁর কী অসুখ হয়েছিল, সেসব কিছু জানায়নি পুলিশ। শুধু বলছে, মৃতদেহ ফিরিয়ে আনতে হবে। অর্থের অভাবে যাকে জামিন করানো যায়নি, তার মৃতদেহ পরিবারের লোকজন কীভাবে ফিরিয়ে আনবে।
বন্দিমৃত্যুর ঘটনায় সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কর্তব্যের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি। ক্ষোভ প্রকাশ করে এপিডিআরের জেলা সম্পাদক জিষ্ণু রায়চৌধুরি বলেন, মানবাধিকার চূড়ান্তভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষকেই জবাব দিতে হবে, কেন অসুস্থার খবর পরিবারকে দেওয়া হয়নি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন