হুগলি : হুগলির প্রশাসনিক বৈঠক থেকে জেলার সার্বিক বিকাশের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মঙ্গলবার হুগলির গুড়াপে কংসাই ময়দানে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ওই বৈঠকেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের জেলার সার্বিক বিকাশের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে হুগলির গুড়াপের কংসারীপুর মাঠে শুরু হয় প্রশাসনিক বৈঠক৷ বৈঠকের শুরুতেই পৌরপ্রধানদের ডেঙ্গি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত প্রধানদেরও নজরদারি চালানোর কথা বলেন। দুই স্তরে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। পাশাপাশি সমবায় সমিতিগুলিকে ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেন। ঋণ দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলেন। সেইসঙ্গে ফুরফুরা শরিফ ও তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ সংস্কারের কাজ দ্রুত রূপায়ণের নির্দেশ দেন জেলাশাসককে।
এদিন একের পর এক আধিকারিক, জন প্রতিনিধিকে দাঁড় করিয়ে জানতে চান- ভাঙন প্রবণ খানাকুলের কি কাজ হয়েছে? এগ্রিকালচার প্রজেক্ট ঠিক মতো হচ্ছে? পর্যটক আকর্ষক হিসেবে সবুজ দ্বীপ কতটা তৈরি? কন্যাশ্রী কেমন চলছে? জেলাশাসক জানান, ‘‘ম্যাডাম, কন্যাশ্রীর লক্ষ্যমাত্রা আমরা পূরণ করে ফেলেছি৷’’ পালটা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘শুধু একটা ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলে চলবে না৷ প্রতিটি ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে৷ মনে রাখবেন- আমি কিন্তু নজর রাখছি, আর যেন সময় নষ্ট না হয়৷’’
এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে জয়রামবাটি-কামারপুকুর রাস্তার জন্য ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বেচারাম মান্নাকে দাঁড় করিয়ে জানতে চান- ‘‘বেচা উন্নয়ন কেমন হচ্ছে?’’ জবাবে বেচারাম বলেন, ‘‘দিদি কাজ ভাল হচ্ছে৷ কিন্তু আমার এলাকার ২৮ শতাংশ মানুষ সংখ্যালঘু৷ তাই এই ব্লককে যদি একটু বাড়তি বরাদ্দ করা হয়৷’’ ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷
এরপরই তারকেশ্বর মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে জানতে চান, ‘‘তোমাদের ঝগড়া ঝাঁটি বন্ধ হয়েছে?’’ পরক্ষণেই হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘ঝগড়াঝাঁটি যেন আর না দেখি৷ উন্নয়নে মন দাও৷’’ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন- ‘‘আরামবাগ থানার নতুন ভবনের কাজ তাড়াতাড়ি শুরু করুন৷’’ এরপরই বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেল লাইন প্রসঙ্গে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী৷ জন প্রতিনিধি থেকে জেলা আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘ওই রুটে রেল লাইনটা খুব জরুরি৷ রেল লাইনের জন্য যাদের সরতে হবে, তাঁদের তো আমরা যোগ্য ক্ষতিপূরণও দেব৷ এমন মানবিক সরকার, আর কোথায় রয়েছে?’’
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হুগলি জেলা পুলিশ (গ্রামীণ) এবং চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটকে সতর্ক করে বলেন, রামনবমী এবং হনুমান জয়ন্তীতে নিজেদের এলাকায় বিশেষ নজর রাখুন যাতে কোনও রকম অশান্তি না ছড়ায় | পাশাপাশি রামনবমী এবং হনুমান জয়ন্তীতে শান্তিপূর্ণ মিছিল করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “সামনেই রামনবমী আছে। শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করুক। অস্ত্র নিলে হবে না। রাজ্যজুড়ে পরীক্ষা থাকায় হনুমান জয়ন্তীর দিন বিকেল পাঁচটার পর মিছিলের পারমিশন দেবেন বলে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী |
এদিন হুগলি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চলা সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ অভিযানের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বলেন, দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা গুলিতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন |
হুগলি জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে শ্রীরামপুরের বিধায়ক ডা. সুদীপ্ত রায় মুখ্যমন্ত্রীর সামনে রিষড়া সেবা সদন বন্ধ থাকার বিষয়টি তুলেন ধরেন | মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিষড়া সেবা সদন পুনরায় চালু করার আবেদন করেন বিধায়ক | এদিকে বৈঠকে শ্রীরামপুরের সংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জেলার পিডব্লুউডি বিভাগের বেশ কয়েকটি কাজ ধীরে চলা নিয়ে অভিযোগ জানান | তিনি দিল্লি রোড সারাইয়ের আবেদন জানান |
হুগলির সাংসদ রত্না দে মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, হুগলি জেলার চুচূড়া ইমামবাড়া হাসপালাত রাজ্যের মধ্যে ভালো পরিষেবা দেওয়ার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে আছে | শিক্ষা বিভাগের এক আধিকারিক মুখ্যমন্ত্রীকে হুগলি জেলার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তারকেশ্বরে জমি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে বলেন শিগগির সেখানে জেলার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে |
মঙ্গলবারের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিত করপুরকায়স্থ সহ উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, বিধায়ক, সাংসদ, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও পৌরপ্রধানরা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন