হাবড়া : স্ত্রী ও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মেয়েকে খুন করে ধরা পড়ে যাওয়ায় আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক ব্যক্তি। উত্তর ২৪ পরগনার মছলন্দপুরের ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে রাজবল্লভ বিশ্বাসহাটি এলাকায় চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে । ঘরের মধ্যে খাটের নিচ থেকে উদ্ধার মা ও মেয়ের প্লাস্টিকে মোড়া দেহ। গ্রেফতার করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে। দেহ লোপাটের পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি পুলিশের। মঙ্গলবার দেহ দুটি ময়নাতদন্ত করার জন্য বারাসতে পাঠানো হয়।
ঘটনায় স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলে শেষবারের জন্য দেখা গিয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পূজা ও তার মা মিঠুকে । সোমবার মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকলেও বাড়ি থেকে পরীক্ষার্থী পূজা ও তার মা মিঠুকে বেরোতে না দেখে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তাঁরাই পূজার বাবা শেখর দেবনাথকে জিজ্ঞাসা শুরু করেন। কিন্তু সেখানে অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় সন্দেহ হয় তাঁদের। একইসঙ্গে রাস্তা দিয়ে যাওয়া লোকজনের দিকে শেখর দেবনাথ ঢিল ছুঁড়ছিলেন বলেও অভিযোগ। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন । পুলিশকে আসতে দেখেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন শেখর দেবনাথ। পুলিশ ও প্রতিবেশীরাই শেখর দেবনাথকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাবড়া হাসপাতালে। কটু গন্ধের জেরে সন্দেহ হওয়ায় বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ। ঘরে ঢুকে খাটের নিচ থেকে প্লাস্টিকে মোড়া অবস্থায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পূজা ও তার মা মিঠুর দেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে দুজনকেই মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় দড়ির ফাঁস দেওয়া হয়। স্ত্রী ও মেয়েকে খুনের পর স্বাভাবিক আচরণ করেন শেখর দেবনাথ। খুনের পর শেখর মদ্যপান করেন ও বিরিয়ানি খান বলে দাবি পুলিশের। পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাজারও করেছেন শেখর। এমনকি এরই মাঝে বাড়ির সামনের রাস্তা নিয়ে পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে বচসাও বাধে তাঁর। পুলিশের দাবি, শনিবার স্ত্রী ও মেয়ের মাথায় কাঠ দিয়ে মেরে থেঁতলে দেওয়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ২ জনের গলায় শাড়ির পাড়ের ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেন শেখর। আত্মীয়রা ফোন করে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে, তিনি তাঁদের বিভ্রান্ত করেন বলেও অভিযোগ। জানা গিয়েছে, বছর খানেকের বেশি সময় ধরে নির্দিষ্ট কোনও কাজ ছিল না শেখর দেবনাথের। বাজারে অনেক ধার হয়ে গিয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেই কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন শেখর দেবনাথ। আপাতত হাবড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও, অবস্থা স্থিতিশীল হলেই শেখর দেবনাথকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায় ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন