কলকাতা : কলকাতা হাই কোর্টের অচলাবস্থা কাটাতে রাজ্যের তিন সাংসদ কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের দারস্থ হলেন । হাইকোর্টে পর্যাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের দাবিতে আইনজীবিরা কর্ম বিরতি পালন করছেন । সোমবার হাই কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ঘোষনা করেন কর্মবিরতি চলবে । আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত হাইকোর্ট অচলই থাকবে ।
এদিন দিল্লিতে সুখেন্দুশেখর রায়, প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং কুণাল ঘোষ কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের সঙ্গে দেখা করে এবিষয়ে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান । কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের সঙ্গে রাজ্যের সাংসদের বৈঠকে আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তী হাই কোর্টের সমস্যাগুলি সম্পর্কে যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেন । বৈঠকে তিন সাংসদ, সুখেন্দুশেখর রায়, প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং কুণাল ঘোষ, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীকে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, এতদিন ধরে হাইকোর্ট অচল । বিচারপ্রার্থীরা অসহায় হয়ে ফিরে যাচ্ছেন । সমস্যা হচ্ছে আইনজীবীদেরও । আইনমন্ত্রক কিছু করুক । এভাবে দীর্ঘদিন বিচারব্যবস্থা অচল থাকতে পারে না । অবিলম্বে নতুন বিচারপতি নিয়োগের ব্যবস্থা হোক ।
সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে দ্রুত শূন্যপদে বিচারপতি নিয়োগসহ একাধিক দাবি জানান তারা । দিল্লি বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ সহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেয় ।
সোমবার বার অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি । বরং আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে । আগামী ৩ এপ্রিল ফের ‘রিভিউ-বৈঠক’ হবে । আর, বার অ্যাসোসিয়েশনের এই সিদ্ধান্তের পরই তিন সাংসদ ছুটে যান কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর কাছে ।
সব শুনে পশ্চিমবঙ্গের তিন সংসদকে আইনমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র যা যা করার করছে। কিন্তু এই অচলাবস্থা কেন্দ্র একদমই সমর্থন করছে না । বিচারব্যবস্থাকে অচল করে রাখার কোনও যৌক্তিকতা আছে বলেও কেন্দ্র মনে করে না ।
রবিশঙ্কর প্রসাদ জানান, দ্রুত বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে । কলেজিয়াম বিষয়টি দেখছে । আরও চারটি নাম প্রস্তুত । আইবি রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি । কেন্দ্র চায় বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ বিবেচনা থাকুক । পারিবারিক যোগাযোগ ছাড়া যাঁরা নতুন আইনজগতে আসছেন, তাঁদের সুযোগ বাড়ুক । সংখ্যালঘু, দলিত, অনগ্রসর সমাজ থেকে যারা আইনের জগতে উঠে আসছেন, তাঁরা আরও বেশি সুযোগ পান । শুধু সমাজের একটি বৃত্ত থেকেই সুপারিশ আসার প্রবনতা হ্রাস পাক, গন্ডিটা আরও বড় হোক ।
রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন,’আইনজীবীদের যে প্রতিনিধিদল এসেছিলেন, আমি তাঁদের সব বলেছি । তারপরেও যদি কর্মবিরতি চলে, আমাদের কী আর করার থাকে । তবে এটুকু বলতে পারি, কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি নিয়োগে জন্য যা যা করা দরকার কেন্দ্র সে সবই করছে । এই শূন্যপদ তো একদিনে হয়নি, আজ নতুনও নয় । ২০১৪ থেকে এ সমস্যা বেড়েই চলেছে । এটাও মাথায় রাখতে হবে, এই প্রক্রিয়ার সবটাই আমাদের হাতে নেই । সুপ্রিমকোর্টের কলেজিয়াম সব দেখছে । তারপরেও কেন এই অচলাবস্থা, জানি না । বিচারপ্রার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন । আইনজীবীদেরও পেশাগত ক্ষতি হচ্ছে। অচলাবস্থা কাটাতে ওনারা উদ্যোগী হোন । হাইকোর্টের আইনজীবীরা এবং বার অ্যাসোসিয়েশন সবটা ফের বিবেচনা করে দেখুন । যাতে কর্ম বিরতি তারাতারি উঠে যায় ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন