নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ: গত তিন বছরে পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার লক্ষ্যণীয়ভাবে কমেছে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষকুমার গঙ্গওয়ারের পেশ করা তথ্যে প্রকাশ পেল এই তথ্যই।
রিপোর্ট অনুসারে, ২০১২-১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার ছিল ৫.৯ শতাংশ। ২০১৩-১৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪.২ শতাংশে। এবং ২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে রাজ্যে বেকারত্বের হার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৩.৬ শতাংশে। অথচ লোকসভায় পেশ করা সংশ্লিষ্ট তথ্যেই স্পষ্ট, দেশের অন্যান্য রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অনেকগুলিতেই উল্লিখিত সময়ে বেকারত্বের হার ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। যেমন বামশাসিত কেরলে ২০১৩-১৪ সালে যা ছিল ৯.৩ শতাংশ, তার পরের বছর ২০১৫-১৬ সালে বেকারত্বের সেই হার বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০.৬ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশে ২০১৩-১৪ সালের ৪ শতাংশ থেকে পরের বছর বেড়ে হয়েছে ৫.৮ শতাংশ। অন্ধ্রপ্রদেশে ২.৩ শতাংশ (২০১২-১৩) থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩.৫ শতাংশ (২০১৫-১৬)। রাজনৈতিক মহলের মতে, দেশের প্রায় সব রাজ্যই যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে না পারার অভিযোগে জেরবার হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বেকারত্ব ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উলটপুরাণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষকুমার গঙ্গওয়ার এদিন লিখিতভাবেই জানিয়েছেন, শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন লেবার ব্যুরো প্রতি বছর নিয়মিতভাবে ‘এমপ্লয়মেন্ট-আনএমপ্লয়মেন্ট সার্ভে’ করে। এই তথ্য সেই সমীক্ষা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই পেশ করা হয়েছে। যদিও এই ইস্যুতে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) সম্প্রতি যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তো মানতে চাননি কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী। লিখিতভাবে গঙ্গওয়ার জানিয়েছেন যে, ওই রিপোর্টে আইএলও দেখিয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে বেকার মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। ২০১৭ সালে ১৮.৩ মিলিয়ন বেকার মানুষের সংখ্যা ২০১৮ সালে বেড়ে হবে ১৮.৬ মিলিয়ন। আর ২০১৯ সালে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৮.৯ মিলিয়ন। কিন্তু ওই সময়ে দেশের বেকারত্বের হার ৩.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকারই সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে দেশের বেকার মানুষের সংখ্যা কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়নি বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী। জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা না হলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ইতিমধেই বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘প্রধানমন্ত্রী এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন কর্মসূচি’ (পিএমইজিপি), ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামীণ কৌশল যোজনা’ (ডিডিইউ-জেকেওয়াই), ‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম’ (এমজিএনআরইজিএস)-এর মতো একাধিক কর্মসূচি কার্যকর রয়েছে সারা দেশে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন