কলকাতা : পেটের রোগের প্রকোপ বাড়ছে কলকাতায় ৷ রোগে ছড়াচ্ছে দক্ষিণ কলকাতার অন্যান্য জায়গায় ছড়াচ্ছে আতঙ্ক ৷ অভিযোগ, হাজারের উপর মানুষ আক্রান্ত আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকুরিয়া-সেলিমপুর-যাদবপুর-বালিগঞ্জ অঞ্চলে৷ এর প্রকোপ বেড়েছে গত দু’দিনে| আক্রান্ত হালতুর কিছু অংশের মানুষও৷ বিভিন্ন দোকানে জল পরিশোধক অমিল হয়ে উঠেছে৷ পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে রোগীর ভিড়৷ এই পরিস্থিতিতে তীব্র সমালোচনা করেছেন সিপিএমের বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী৷
গত শুক্রবার থেকে কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ডের বড় অংশে পেটের রোগের প্রকোপ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। যাদবপুর, বাঘাযতীন, কসবা- এইসব এলাকা থেকে বহু মানুষ ডায়েডিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়েছে আন্ত্রিকের আতঙ্ক। উপসর্গ প্রায় সবারই এক। পেট ব্যথা, বমি, বারবার মলত্যাগ। পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ভিড় আক্রান্তদের। রোগীদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি। কিন্তু পুর ক্লিনিকে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় বাড়ছে সমস্যা। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুরসভার জল খেয়েই এই সমস্যা। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র।পুরসভা বিষয়টির উপর নজরদারি করছে, এলাকা থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পর কলকাতা পুরসভার মেয়র জানিয়ে দিয়েছেন পুরসভার দেওয়া জলে কোন জীবাণু পাওয়া যায়নি।এখানেই প্রশ্ন ওঠে মানুষকে আশ্বস্ত করা মানে কী শুধু নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলা? এতগুলো মানুষ ষে আতঙ্ক নিয়ে দিনযাপন করছেন,তাঁদের পরিবারের আত্মীয় রোগের প্রকোপে পড়েছে. তাদের কাছে পুরসভার জলে কোন ক্ষতি হচ্ছে না বলে দিলেই বুঝি পুরসভার সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, দক্ষিণ কলকাতায় ৮টি ওয়ার্ডে ছড়িয়েছে সংক্রমণ। ৯৬, ১০১, ১০২, ১০৭, ১০৮, ১০৯, ১১০, ১১১ নম্বর ওয়ার্ডে এখন ডায়রিয়া-আতঙ্ক। দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা যেমন যাদবপুর, বাঘাযতীন, পাটুলি, মুকুন্দপুর, গড়িয়া, বৈষ্ণবঘাটার বহু বাসিন্দা শুক্রবার রাত থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকেই ছোটেন বাঘাযতীন হাসপাতালে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, শনিবার থেকে রবিবার বিকেল চারটে চারটে পর্যন্ত, শুধু বাঘাযতীন হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে যান ৭০০ জন। পুরসভা এই সংখ্যা মানতে নারাজ। সোমবার কতজন এসেছেন, তা জানাতে পারেননি হাসপাতাল-কর্তারা| মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ বলেন, বাঘাযতীন হাসপাতালে শুক্রবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত, ৪২৯ জন আসে। এর মধ্যে ৪৩ জন এখনও ভর্তি। খুব বড় কিছু হচ্ছে না। অসুস্থদের বাড়ি থেকে সংগৃহীত শতাধিক নমুনা পরীক্ষার পরেও জলে সমস্যা পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য দফতরেও নমুনা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু জলে সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি। চিকিৎসকেরা অবশ্য জানান, পেটে ব্যথা, বারবার মলত্যাগের মতো উপসর্গ ডায়েরিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যা মূলত জলবাহিত রোগ।
নাইসেডের অধিকর্তা শান্তা দত্ত বলেছেন, ‘‘পুরসভা বা স্বাস্থ্য দফতর সমস্যার কথা জানায়নি। অথচ এ বিষয়ে নজরদারি, নমুনা পরীক্ষা করার জন্য দেশের সব চেয়ে বিশ্বাসযোগ্য বিশেষজ্ঞ টিম শহরেই রয়েছে। খবর দিলে এলাকায় গিয়ে রোগের উৎস অনুসন্ধান করা যেত।’’
মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘পুরসভার তরফেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে। নাইসেডকে জানানো হবে কি না, তা বিবেচনা করা হবে।’’ এ দিনও তিনি হাসপাতালে যান। মেয়রের কথায়, ‘‘জল থেকে সমস্যা হলে পুরো পরিবারের তা হত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তা নয়।’’
এলাকাবাসীর একাংশ অবশ্য পুরসভার সরবরাহ করা জল নোংরা বলে অভিযোগ তুলেছেন। পুর কর্তৃপক্ষের পাল্টা প্রশ্ন, তাহলে বাসিন্দারা কেন সেই নমুনা পুর প্রতিনিধিদের পাঠাননি?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন